Big Story

অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রেহাই নেই কলকাতার; এবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার তপসিয়ার জুতোর কারখানা

ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় কারখানার আগুন নেভাতে দমকলের দশটি ইঞ্জিনকেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস : কলকাতায় বারং বার অগ্নিকাণ্ডের খবর সাধারণ মানুষকে রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্থ করে রেখেছে। এবার আগুনে ঝলসে গেল ২১ নম্বর তপসিয়া রোডের একটি রবারের জুতোর কারখানা। শনিবার ভোর চারটে নাগাদ হঠাৎ করেই তপসিয়া অঞ্চলের আকাশ ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে নিজেরাই প্রাথমিক ভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টায় লেগে পড়েন। আশপাশ থেকে জল এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা কারখানার ছাদ ভেঙে নিরাপত্তা রক্ষীকেও উদ্ধার করেন। দমকল খবর পেয়ে প্রথমে চারটে ইঞ্জিন এসে আগুন নেভানোর কাজে লাগে, পরে আরও ছটি ইঞ্জিন আসে। কারখানার আগুন নেভাতে দমকলের দশটি ইঞ্জিনকেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে, প্রায় ঘন্টাখানেকের প্রচেষ্টাতে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলকর্মী সূত্রে খবর, কারখানার অনেক জিনিসপত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নষ্ট হয়েছে অনেক কিছু। অনেক দাহ্যপদার্থ মজুত থাকার কারণে আগুন এতটা ছড়াতে পেরেছে। কারখানার একাংশের দেওয়ালও ভেঙে পড়েছে, তবে হতাহতের কোনো খবর নেই। কারখানা সংলগ্ন কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার আগেই আশপাশের বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে দমকলকর্মীদের অনুমান, রবার কাটিং-এর পুরনো মেশিনে শর্ট সার্কিটের ফলেই আগুন লেগেছে।

গত ৮ই মার্চের স্ট্র্যান্ড রোডের অগ্নিকান্ডে কয়েকজন দমকলকর্মী প্রাণ হারান, অফসের বদ্ধ লিফটে আটকে ঝলসে মৃত্যু হয় ৯জনের। রেলের অফিসে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায় যথেষ্ট, রেলের গাফিলতির অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ ওঠে দমকলের দেড়িতে পৌঁছনো নিয়েও। স্ট্র্যান্ড রোডের রেলের অফিসের পর পাঞ্জাব ব্যাংকের প্রধান শাখা, এরপর এখানকারই একটি বহুতলের চারতলায় আগুন লাগে। এরপর আবার জ্যোতি সিনেমা হলের লাগোয়া একটি বাড়িতেও লাগে আগুন। এবার এই তপসিয়া জুতোর কারখানা। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের গ্রাস থেকে রেহাই মিলছে না মহানগরীর।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: