Nation

অধ্যাপক অমর্ত্য সেনর সওয়াল সমাজের বিশিষ্টজনেদের এককাট্টা করলো : বিপদে টোল ফ্রি ১৮০০-৩১৩৩-৬০০-০০ নম্বর !

দেশে বেড়ে ওঠা হিংসা , জাতি বিদ্বেষ , গণপিটুনি এবং ঘৃণার রাজনীতি বিরুদ্ধে জোর সওয়াল , একদল সমাজ কর্মীদের।

বিপক্ষের স্বর জোট বাঁধছে , সারা দেশে গণপিটুনি এবং ঘৃণার রাজনীতি সর্বময় । উত্তর প্রদেশেই থিম নেই , ছড়িয়েছে সারা দেশে। বাংলা আবার কখনও ঝাড়খণ্ড, মধ্য প্রদেশ, বিভিন্ন অছিলায় মুসলিম, দলিত, আদিবাসী থেকে অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের হামলার ঘটনা অহরহ।

কিছু দিন আগেই সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন সহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা। ঘৃণার রাজনীতি বা গণপিটুনির ঘটনা রুখতে কোনও পদক্ষেপই করছে না কেন্দ্রীয় সরকার বলে অভিযোগ করেন ।মোদী সরকার ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ভার রাজ্যের বলে কার্যত দায় এড়িয়ে যাচ্ছে । ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট হেট’ হেল্পলাইনএই পরিস্থিতিতে গণপিটুনি কিংবা ঘৃণার রাজনীতির শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে তৈরি হল ।

আজ নয়া দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকের ঘোষণা করে এই অবস্থার বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে হবে , তাই ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট হেট’ হেল্প লাইনের ভাবনা ।১৮০০-৩১৩৩-৬০০-০০ নম্বরে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে টোল ফ্রি ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে।এই হেল্প লাইনের পক্ষ থেকে অভিযোগকারীকে পুলিশি এবং আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশিষ্ট আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে, সিনিয়র সাংবাদিক উর্মিলেশ, গোরখপুরের ডাক্তার কাফিল খান, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অপূর্বানন্দ সহ অনেকে ।অধ্যাপক অপূর্বানন্দের আক্ষেপ, দেশে স্রেফ ধর্ম বিশ্বাসের কারণে মানুষের উপর হামলা হচ্ছে, ভারতে সামাজিক ন্যায় ও শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেও । তিনি বলেন কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হামলা থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না দলিত, আদিবাসী মানুষরাও। পুলিশ সহযোগিতা করছে না , এই পরিস্থিতিতে এমন একটি হেল্পলাইনের খুবই প্রয়োজন ছিল।

সারা দেশে ১০০ ওপর স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবে এই প্রকল্পে , তবে সবটাই স্বেচ্ছাশ্রম । সারা দেশে শহর ও সংলগ্ন জায়গায় গণপিটুনি কিংবা ঘৃণার রাজনীতির শিকারদের সরাসরি সহায়তা করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট হেট’ এর তরফে সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করে অভিযোগ নথিভুক্ত করা হবে, পাশাপাশি আক্রান্তদের আইনি সহায়তাও দেবে এই হেল্প লাইন এছাড়াও পুলিশের বিপক্ষে কাজ না করার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

কোন ঘটনা যদি আগেই জানতে পারেন স্বেচ্ছাসেবীরা তাহলেও হেল্পলাইনে ফোন করে তা জানাতে পারবেন। সেই সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সমাজকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিকদের সামনে নিয়ে আনবে এই সংগঠন । নাদিম খান অন্যতম সংগঠক বলেন অনেকটাই আটকে দেওয়া যাবে কারণ আগে থেকে জানলে আক্রমণ কারীর পক্ষে এতটা সহজ হবে না। উমর খালিদ জেএনইউয়ের ছাত্র নেতা বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির জামিয়া নগরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে হেল্পলাইনের কাজ শুরু হবে।তবে এই গুরুত্ব পূর্ণ কাজের জন্য সর্বক্ষণের লোক দরকার যাতে ২৪ X ৭ সার্ভিস দেওয়া যায়। কারণ তখনি বিশ্বাস যোগ্যতা আসবে যখন বিপদের সময় এই হেল্প লাইন কাজে আসবে। তবে বলা বাহুল্য এই ধরণের উদ্যোগ না হলে জন মত তৈরি হবে না। এক মাত্র পথ সুস্থ জনমতের মাধ্যমেই এই সর্বনাশী খেলা বোধ হতে পারে।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: