Analysis

অভিষেকের থেকে মুখ ফেরালেন মমতা : বিপদে তৃণমূল পর্ব -৪

দলের চাপা মত এবার মানতে হল মমতা ব্যানার্জী কে , অনেক ক্ষোভ , অনেক অভিমানই প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল কেন ছাড়বো না ? - দলের নেতারা যারা এক সময় মমতার কাছে ছিলেন ১৯৯৮- ২০১৪ থেকে তারাই আজ চলে যাবার ভাবনায় !

১) অভিযোগ :১৯৯৮ থেকে ২০০৯ ঠিক ছিল , হটাৎ উৎপত্তি হল অভিষেক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালাবে নাম ‘যুব’ , নন্দী গ্রাম থেকে সিঙ্গুর বিভিন্ন ঘটনা কে কেন্দ্রকরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামে নিন্ম মানের কুৎসা প্রচার করতে শুরু করে। সমাজের বিভিন্ন শিক্ষক-অধ্যাপক, টিভি সিরিয়াল থেকে সিনেমার পর্দা , রং তুলির কারবারি থেকে বসে দাঁড়িয়ে গান গাওয়া শিল্পী , খবরের কাগজের সাংবাদিক থেকে কবি সাহিত্যিক , এনজিও মালিক থেকে প্রমোটার -রোড কন্ট্রাকটর , ছাত্র আন্দোলনেই নেতা থেকে ট্রেড ইউনিয়ন এর নেতা সবাই এক সুরে বেঁধে ফেলেছিলেন বাম বিরোধিতার গান।


২) অভিযোগ :আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবর ছবি তে লাল রং লাগিয়ে একটি পোস্টারে বলা হয়েছিল’ ছিঃ ‘ রাতের অন্ধকারে কারা যেন লাগিয়ে ছিলো শিয়ালদহ ব্রিজ থেকে গোলপার্ক হয়ে যাদব পুর , নিচে লেখা ছিল যুবা। অভিষেকের দ্রুত উত্থান।


৩) অভিযোগ :কলকাতায় তখন মাঝে মধ্যে বিভিন্ন হলে সভার আয়োজন করা হতো , আর বক্তারা থাকতো বেশ কিছু নকশাল নেতা , বিক্ষুব্ধ সিপিএম , কল্কে না পাওয়া ক্ষুব্ধ সাংবাদিক , প্রাক্তন কিছু আমলা সঙ্গে থাকতো কলকাতা ও আলিপুরের কিছু আইনজীবি। তখন থেকেই সুবিধা বাদীদের টার্গেটে পড়েছে অভিষেক , বুঝতেও পারলেন না যে রাজনৈতিক দলের বিকল্প একটা আলাদা লাইন তৈরী হচ্ছে। যা আজকে ক্ষতি করেদিল।


৪) অভিযোগ : অভিষেকের হাত ধরে মমতার কাছে পৌঁছানোর একটা সহজতম পদ্ধতি , অনেকেই সাচ্ছন্দ বোধ করতো এই রাস্তায় হাটতে।রাতা রাতি গড়ে উঠলো যুব রাজের বলয়।যো হুজুর সংস্কৃতি তে বিশ্বাসীরা সব ভিড় করলো। নো প্রবলেম গোছের মনোভাব নিয়ে পাঞ্জাবি পায়জামাও এগিয়ে চললো।


৫) অভিযোগ : বেড়ে চললো অভিষেকের যুবা , সবে গোপ গজানো অভিষেকেরও বেড়ে চললো প্রসার প্রচার অতি পরম স্নেহে। মমতার ভাইপো বলে কথা তার ওপরে একই বাড়িতে থাকা – পাশা পাশি ঘর। কি আর চাই একদম সিঙ্গেল উইন্ডো ফেসিলিটি , শুধু পৌঁছানোর অপেক্ষায়।


৬) অভিযোগ : বড়োদের আবদার মেটাতে গিয়ে ছোট অভিষেক কখন অনেক বড় হয়ে যাবে তা কেউ ভাবতে পারে নি। তৈরী হলো নিজের বলয়।


৭) অভিযোগ :যুবা ২০১১ পরে তৃণমূল যুবর সাথে মিশে গেলেও মিশলোনা রাজনৈতিক মানসিকতা , শুভেন্দু অধিকারী বনাম অভিষেক ব্যানার্জী। শুরু হলে নতুন মোর , যা পরবর্তী ক্ষেত্রে অনেক দূরত্ব তৈরী করলো রাজ্য রাজনীতিতে। শুভেন্দু নিজের বিত্তের বাইরে বেরিয়ে না এসে নিজের বলয়েই আবদ্ধ থাকায় আপাতত দৃষ্টিতে সেই সময় না বুঝলেও বর্তমানে বোঝা যাচ্ছে কি সর্বনাশ হয়ে গেছে -তা এই রেজাল্ট দেখলেই বোঝা যায়।


৮)অভিযোগ : উপভোগ্য বিষয় হিসেবে দেখতে গিয়ে অনেকেই দর্শকের আসনে চলে গেলেন ,যারা একসময় মমতার সাথী ছিলেন। অনেকে দলে যুক্ত থাকলেও দূরত্ব বজায় রেখে দলে আছেন।


অভিযোগ :বেশি প্রভাব পড়লো ২৪ পরগনা দক্ষিণে , সাত টি বিধান সভায় প্রায় সকল বিধায়কই ‘দলে আছি কর্মে নেই গোছের ভাবনা নিয়ে চলছে ২০১৪ থেকে’। অভিষেক পুরানোদের না ভরসা করে, জেলা সহ রাজ্যের ডাকা বুকো- যাদের অধিকাংশই পুলিশের তালিকায় নাম আছে, ওরা সব কিছুতেই হাত পাকানো ওস্তাদ তাদেরকেই সাথে নিলেন আর পুরোনোদের সাথে দূরত্ব তৈরী হল সবচেয়ে আগে.


১০) অভিযোগ : জেলা প্রশাসনের একটা বড় অংশও বেশ সক্রিয় অভিষেক বন্দনায় , এই মোসায়েবীপনায় বেশ খুশি। যো-হুজুর সংস্কৃতিতে মোজে যাবার সাথে তার রাজনৈতিক জীবনে বড় ক্ষতি হয়ে গেলো ,অধিকাংশ দলের প্রবীণরা তার বিপক্ষে চলে গেল।


১১) অভিযোগ :দলের সহযোগীরা ভয় পেতে শুরু করলো , অভিষেকের বিপক্ষে কোন মত প্রকাশ করলে তা তাদের রাজনৈতিক জীবনে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো এড়িয়ে চলার ভাবনা নিয়ে তৃণমূলে অনেকেই আছেন কিন্তু নেই গোছের – যা আগে কোন দিন প্রকাশ প্রায় নি।


১২) অভিযোগ : যারা অভিষেক বৃত্তের মধ্যে আছেন তারা নিজেদের ব্যর্থ জীবনের সফলতা ফেরাতে ‘যো হুজুর মতে বিশ্বাসী’।অনেকেই রাজনীতি তে পা না দিয়েও – অনেকেই আছেন বড় ক্ষমতার অধিকারী , দপ্ততেরের সুপারিশ থেকে অবৈধ্য অনুমোদন সবই চলে প্রকাশ্যে।হয়তো মমতা ব্যানার্জি জানতেও পারেন না তার অজান্তে দলে বেঁধেছে বাসা বড় ঘুঘুদের বাসা, এদর অনেকেই একসময় বামেদের সাথে গা ঘষাঘষি করে চলতো নিজেদের বাঁচাতে। তবে বলা বাহুল্য এই গ্রূপের অনেকেই এখন মুকুল শিবিরে গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছে। এই তো সেদিন রেজাল্ট বেড়াবার পর দিল্লিতে কারা যেন দেখা করলো বেশ বারকয়েক দলে দলে। হাতে মিষ্টির হাড়ি , সাথে রঙিন কাগজে মোড়ানো কতকি। ‘যাই হোক কি আর করা যাবে , যে যখন ক্ষমতায় তার সাথেই থাকতে হবে দাদা ‘ পরিচিত এক দুজন মুখ লোকাতে গিয়েও ঢাকা গেল না মুখ।

দক্ষিণ কলকাতার এক বিধায়ক ও মন্ত্রী বললেন কি আর বলবো , অভিষেকের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগোনোর সম্ভবনা খুব বেশি। ছেলেটির বেশ কিছু ভালো গুন্ আছে , ওর মধ্যে ব্যক্তিত্ব আছে, ভালো কথা বলতে পারে , বাংলা ও ইংরেজি বলতে পারে , বক্তৃতা ভালোই করে , দেখতে ভালো অল্প বয়েস অনেক এগোবে , তবে যে সঙ্গে পড়েছে সেটা ভালো নয়। ও এখন অনেক অহংকারী ,যাদের সাথে ওঠা বসা করে তারা সব কাজ গুছিয়ে নিয়ে সরে পড়বে কেও থাকবে না বিপদের দিনে। আমার বলা ও কেন শুনবে ও তো মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো আমি তো সাধারণ কর্মী ও এখন দলের মন্ত্রী (নাম প্রকাশ করা হল না ) ।

ওপিনিয়ন টাইমস খুঁজতে চায় : শোভন থেকে মুকুল কেন দূরত্ব বজায় রেখে চলতো , সুব্রত মুখার্জি থেকে শুভেন্দু কেন দূরত্ব রাখে , দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে রাজ্যের প্রবীণ গুরুত্ব পূর্ণ অথচ অচেনা নেতারা কেন দূরত্ব বজায় রাখে। মুখে বা সামনে সামনি না বললেও পিছনের গুঞ্জন অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে এখন। কেন মমতা ব্যানার্জি অভিষেককে বাদ দিতে হোল প্রায় সব কিছু থেকে। এই বিপদের সময় কেন পিসির পশে দাঁড়াতে পারলেন না , যখন দলের পার্টি অফিস দখল হচ্ছে- তিনি কেন বুক দিয়ে আগলাবার বদলে ছাটাইয়ের দলে চলে গেলেন । শেষের তিন বছরে বার বার নাম উঠে এসেছে দুর্নীতিতে , বিপক্ষ থেকে নিজের দল কেন আড়ালে আবডালে সমালোচনা করছে ওনার । কেন সৃষ্টি হল’ মা পার্টি ‘ বনাম তৃণমূল যুবর হানা হানি। দলের পুরোনোদের ভালো লাগার তালিকায় কেন উঠে আসছে না অভিষেকের নাম , বিপক্ষের সমালোচনা থেকে সংবাদ মাধ্যমের লেখা – না পছন্দ হলেই উকিলের চিঠি , আর কোটের হুমকি- কেন এমন হবে -আগামীর রাজ্য রাজনীতির মুখ হাজারো প্রশ্নের সামনে , আর এই প্রশ্ন ঘুরছে রাজ্য রাজনীতির অলিতে গলিতে । সবচেয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না অভিষেক যা সুযোগ পেয়েছে ওনার পিসির জন্য তা ওই দলের অন্য কেও আজ পর্যন্ত পাই নি এই রাজ্যে। তৃণমূলের বহু ভাল, উচ্চ শিক্ষিত , মার্জিতরা আজও সভার চট গোটানোর কাজ করে আর অভিষেক দেশের রাজনৈতিক স্টারের সুযোগ পেয়েও হারিয়ে ফেলছেন কালের গতিতে। (চলবে )

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: