Big Story

আমপানের জেরে বিক্ষোভ বাড়ছে, এতেই সংক্রমের ভয়

জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, সংক্রমণ বাড়লে তা সামাল দেওয়ার পরিকাঠামো নেই শহরে

পল্লবী : কোথায় সোশ্যাল ডিস্টেনসিং, মুখের মাস্ক হাতে ! হাওড়া যেটি বহুদিন আগেই রেড জোনের তকমা পেয়েছিলো সেখানেই সামাজিক দূরত্বকে সিকোয় তুলে দেদার চললো বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, চুলোয় থাক করোনা আগে আমাদের পানীয় জল চাই, চাই বিদ্যুৎ পরিষেবা। অনেক হয়েছে ! আর সহ্য করতে পারছিনা। করোনা ভয় কে পেছনে ফেলেই মানুষের ঢল নামলো রাস্তায়। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আশঙ্কা, এর ফলে হাওড়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। যা সামাল দেওয়ার পরিকাঠামো শহরে নেই। আমপানের জেরে এবার আরো প্রকট হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা করোনার।

বাড়িতে ছোট বাচ্চারা রয়েছে, রয়েছেন বয়স্ক মা বাবা তাদের নিয়ে জল হীন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বিপাকে পড়েছিলেন বাসিন্দারা। তবে আগের পরিস্থিতি থেকে এখনের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। পুরোকর্তা জানিয়েছেন, যতশীঘ্রই সম্ভব সব সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা। আজ না হলেও কাল এই সঙ্কট মিটবেই। কিন্তু যে বিষয়টি চিন্তা বাড়াচ্ছে তা হলো সংক্রমণ। এ দিন সকাল থেকেই হাওড়ার বড় রাস্তা এবং গলিতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। কন্টেনমেন্ট এলাকা গুলোতেও দেখা যায় মানুষের ভিড়। দোকানপাট সব খুলে যায়। বাজারগুলি এখনও বন্ধ থাকলেও রাস্তার ধারে এবং অলিগলিতে অস্থায়ী বাজার বসে পড়ে। কোনোরূপ সচেতনতার দেখা নেই বাসিন্দাদের মধ্যে।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া পুর এলাকায় মোট ৩৪টি ওয়ার্ডের ৮৮টি রাস্তাকে কন্টেনমেন্ট ‘এ’ জ়োন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাত্‍ ওই এলাকাগুলিতে কঠোর ভাবে লকডাউন বলবত্‍ হবে। বন্ধ থাকবে সব দোকান। কিন্তু সেসব তো দূরের কথা নেই সামান্যতম সাবধানতা টুকুও। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ”যে ভাবে মানুষজন বেরিয়ে পড়েছেন, তাতে অনিবার্য ভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে। সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পরিকাঠামো হাওড়ায় নেই।” উপরিউক্ত বিষয় নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ”কন্টেনমেন্ট ‘এ’ জ়োন হিসেবে চিহ্নিত জায়গাগুলি গার্ডরেল ও দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সব জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর পরেও যদি মানুষ রাস্তায় বেরোন, আমরা কতটা আটকাতে পারি? তবে সবাইকে বোঝানো হচ্ছে, লকডাউন চলছে। বেরোবেন না। কিন্তু মানুষ আর শুনছেন না।”

এই চিত্র শুধু হাওড়ার নয় কলকাতাতেই এর আগে বহুবার ফ্রেমবন্দি হয়েছে এমন দৃশ্য। যেখানে কড়াকড়ি লকডাউনের মাঝেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এরূপ আচরণ। নেই কোনোওরকম সাবধানতা-সচেতনতা। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চান লকডাউনে শিথিলতা আনতে, তবে অবশ্যই সাথে থাকবে বিধিনিষেধ। কিন্তু যেখানে লকডাউন চলাকালিন এই ছবি সেখানে লকডাউন উঠে গেলে কি কোনোরূপ বাধা মানবে সাধারণ মানুষ ?

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: