Big Story

“মোদী জী ” ঘোষণার নাটকীয়তা ছেড়ে , সাধারণ মানুষ বাঁচবে কি ভাবে সেটা বলুন : বিস্ফোরক মন্তব্য সুজনের

করোনার জেরে দেশের পরিস্থিতি বেশ খারাপ, সেই সময় কীভাবে স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না প্রধানমন্ত্রী ?

@ দেবশ্রী : গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন ২০ লক্ষ কোটির আর্থিক প্যাকেজের। যা কিনা আমাদের দেশের ১০% জিডিপি। এবারে এই বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দিলেন বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায় গতকালের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একটি কোথায় স্পষ্ট করে বলেছেন, যা হল আর্থিক প্যাকেজের কথা। আর এই মুহূর্তে এই কথাটাকেই একমাত্র সদর্থক হিসাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে। কারন এতদিন ধরে এই জিনিসটাই সবাই চাইছিলেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল অর্থনীতিবিদরা চাইছিলেন। বিশেষ করে তাঁরাও এই জন্য আলাদা করে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে যতক্ষণ না জানা যাচ্ছে কোন কোন খাতে এর ব্যবহার হচ্ছে এই বিষয়ে সব কিছু স্পষ্ট হচ্ছে না। তবে এই আর্থিক প্যাকেজ যদি বাজেটের প্রস্তাবনার অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলেই কিন্তু বড় বিপদ। তবে যদি এটি শুধুই আর্থিক প্যাকেজের আওতাভুক্ত হয়ে থাকে তাহলেই তা সুন্দর পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের।

তিনি আরও বলেন, সবথেকে খারাপ বিষয় হল, কালকের এই পুরো বক্তব্যের মাঝে একবারও পরিযায়ী শ্রমিকদের কথাটা কিন্তু উঠে আসল না। তিনি বহুবার আত্মনির্ভরতার কথা তো বললেন, কিন্তু যাঁরা প্রান্তিক মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের কথা একবারও উঠলো না ? যাঁরা এই করোনা মোকাবিলায় প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন, তাঁদের প্রসঙ্গটা কী একবার আনা উচিত ছিল না ? এগুলো বাদ দিয়ে কী আদেও আমরা এগোতে পারি ?

কালকের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী লকডাউন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি ১৭ মে এর আগে জানিয়ে দেবেন। কিন্তু স্পষ্ট করলেন না মোটেও সেই বিষয়টি। একদিকে তিনি বলছেন লকডাউন বাড়িয়ে যেতে হবে, কিন্তু অপরদিকে আর্থিক দিকে নজর দিকে তার উৎপাদন ব্যবস্থা গুলি ধীরে ধীরে খুলে তা বাড়াতে হবে। আদতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে না বলে তিনি অস্পষ্ট রাখলেন নিজের বক্তব্য। একদিকে, ৫০০ টাকার জন্য ব্যাঙ্ক গুলিতে জমছে ভিড়, লকডাউনেও। রেশনের দোকানেও জমছে ভিড়। যার জেরে লকডাউন ভেঙে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। মদের দোকান খোলার নাম করে প্রায় ১ কিলোমিটার অবধি মানুষের লাইন। একদিকে লকডাউন ও মানা হবে এবং অপরদিকে আর্থিক বিষয়ে উন্নতিও করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার, কিন্তু একসাথে দুটি বিষয় কিভাবে ব্যালেন্স করা হবে সেই নিয়ে কিন্তু কোনোরকম স্পষ্ট বক্তব্য রাখেননি নরেন্দ্র মোদী।

সুজন চক্রবর্তী বলেন, এই লকডাউন পিরিয়ডে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন, এই অবস্থায় একটি জিনিসের দিকে কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, করোনায় জিততে গিয়ে মানুষ যেন খিদের জ্বালায় না মারা যান। এবং সে ক্ষেত্রে যদি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হয়, তাহলে কিন্তু ডিমান্ড বাড়াতে হবে। আর ডিমান্ড বাড়াতে গেলে তলার যে অংশের মানুষ, বাজারে কিনতে যাবেন কিছু তাঁদের ক্রয় ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক, দরিদ্র মানুষ, কৃষক, ক্ষেতমজুর, জনধন প্রকল্পে যাদের নাম রয়েছে, বিপিএল, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক বা কর্মচারী অস্থায়ী কর্মচারী এঁরা এখন রয়েছে ঘোরতর বিপদে। তাহলে এই মানুষ গুলির আর্থিক সমৃদ্ধির বন্দোবস্ততা করুক কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কিছু কিছু ক্ষেত্রে বললেও কিন্তু কোনো কিছুই স্পষ্ট করে বললেন না। এগুলি না স্পষ্ট করলে কিন্তু ঘোরতর বিপদ। নাহলে আমরা করোনা মোকাবিলায় জিতলেও খিদের জ্বালায় কিন্তু সাধারণদের মরতে হবে। যা আমাদের দেশ বা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কখনোই ভালো হতে পারে না।

করোনার সাথে মোকাবিলা করতে গেলে কিন্তু, একটি সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন, সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। তা ছাড়া কিন্তু এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই মুহূর্তে সকলে কেরালার মডেল দেখছে, সেখানে খোঁজ নিচ্ছে কারন সেখানে মানুষ কিন্তু সুস্থ হচ্ছে সাথেই আর্থিক ব্যবস্থার দিকে নজর রাখছে তাঁরা। মানুষ এখন ভিয়েতনামের মডেল দেখছে। কেউ কিন্তু গুজরাতের মডেল মেনে চলছে না। দেশে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাত। সুতরাং, এই সময় সম্পূর্ণ নির্দেশনা ছাড়া করোনার সাথে কিন্তু মোকাবিলা করা যাবে না। এই সময় তিনি যদি আরও কিছু স্পষ্ট বক্তব্য জনতার উদ্দেশ্যে রাখতেন তাহলে হয়ত আরও বেশি ভাল হতো। তবে তিনি যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হয় তাই এখন দেখার বিষয়। সেটি স্পষ্ট হলেই বাকি কিছু বলা যাবে বলে মন্তব্য সুজন চক্রবর্তীর।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: