Big Story

আসছে সুপার সাইক্লোন আমফান, কিন্তু কেন এর নাম “আমফান” জানেন?

আমফানের পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলির নামগুলিও জেনে নিন…

প্রেরনা দত্তঃ অতীতে সব হারানোর অভিজ্ঞতা, সব হারানোর যন্ত্রণা ওঁদের আছে। দুই, তিন কিলোমিটার দূরে থাকা সমুদ্রও যে এক ছোবলে সব কেড়ে নিতে পারে, তা ওঁরা জানে। আয়লা, ফণী, বুলবুলের মতো একের পর ঝড় তাঁদের সয়ে গিয়েছে। তবে আমফানে ভয় হচ্ছে। ভয় হচ্ছে আবারও সব হারিয়ে ফেলার। শুধু গ্রাম বাংলাই নয়, বিপদ সংকেত রয়েছে শহর কলকাতাতেও। তাই আগাম সতর্কতা পেয়েই নিরাপদে যাচ্ছেন শহরবাসীরা। বিপজ্জনক বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।

এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম কেন “আমফান” রাখা হয়েছে তা জানেন?
এই ঝড়ের কেন্দ্রস্থল ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ১,১৩০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ১২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম কেন “আমফান” রাখা হয়েছে তা জানেন?

  1. ২০০৪ সালে প্রস্তুত যে ঝড়ের নামের তালিকা তৈরি হয়েছিল “আমফান” তার সর্বশেষ নাম। এই ঝড়ের নামটি প্রস্তাব করেছিল থাইল্যান্ড।
  2. মোট ৫ টি কমিটি সারা বিশ্ব জুড়ে হওয়া সামুদ্রিক ঝড়ের নামকরণ করে। এদের নামগুলোও ঝড়ের নামেই। এই কমিটিগুলোর নাম হ’ল: (১) এস্কেপ টাইফুন কমিটি (২) এস্কেপ প্যানেল অফ ট্রপিকাল সাইক্লোন (৩) আরএ ১ ট্রপিকাল সাইক্লোন কমিটি (৪) আরএ -৪ (৫) আরএ -৫ ট্রপিকাল সাইক্লোন কমিটি।
  3. বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা প্রথমে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা শুরু করে। এরপর ২০০৪ সাল থেকে ভারতও ঝড়ের নামকরণ করা শুরু করে। ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান ও থাইল্যান্ডও ঝড়ের নামকরণের পথ বেছে নেয়। এই ৮ টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো দেশগুলোর নামের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী পরপর ক্রমতালিকায় সাজানো হয় এবং সেই অনুযায়ীই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়।
  4. আমফানের আগে যে ঘূর্ণিঝড়টির সম্মুখীন হয়েছি আমরা, সেটির নাম ‘ফণী’। এই ঝড়ের নাম দিয়েছিল বাংলাদেশ, যার অর্থ হল সাপ। আমফানের পরবর্তী ঝড়গুলির নাম কী? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই সব খুঁটিনাটি প্রশ্নের উত্তর।
  5. ওয়ার্ল্ড মেটিরিওলজিকাল অর্গানাইজেশন, ইউনাইটেড নেশন্স ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগর বা ডব্লিউএমও ইস্কাপের তালিকাভূক্ত দেশগুলি বিভিন্ন ঝড়ের নাম প্রস্তাব করে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ওমান, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নাম। এই অঞ্চলে উদ্ভুত ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এই দেশগুলিই।
  6. ২০১৮ সালে, WMO আর ESCAP-এর তালিকায় আরও পাঁচটি দেশকে যুক্ত করা হয়েছে। এই পাঁচটি দেশ হল ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী আর ইয়েমেন। এপ্রিলে প্রকাশিত নতুন তালিকায় ঘূর্ণিঝড়ের ১৬৯টি নাম রয়েছে। তালিকার ১৩টি দেশের থেকে ১৩টি প্রস্তাবিত নাম রয়েছে এখানে।
  7. প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আমফানের পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলির নাম হল, নিসর্গ (বাংলাদেশের প্রস্তাবিত), গতি (ভারতের প্রস্তাবিত), নিভার (ইরানের প্রস্তাবিত), বুরেভি (মালদ্বীপ প্রস্তাবিত), তৌকতাই (মায়ানমারের প্রস্তাবিত নাম) এবং ইয়াস (ওমান প্রস্তাবিত)।
Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: