Analysis

একে করোনা বিপদ , তারপর আম্ফান। আমজনতা অসন্তুষ্ট , ঘিরেছে রাজপথ : ভয় ভাঙছে “পর্ব -১ “

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসুন ঘুরে যান এই রাজ্য। দিল্লিও জানাচ্ছে তিনি আসবেন। সাধারণ মানুষের মনের ভাবনা আর সরকারি ঘোষণার মধ্যে অনেক ফারাক।

নগর কীর্তন : বিপদ হলেই তহবিল ঘোষণা নতুন কিছু না , সরকারি নিয়মে বাধা কাজকর্ম। স্বাধীন দেশে যতবার এই ধরণের ঝড় ঝাপ্টা হয়েছে সাধারণত এই বিপদ বয়েছে নদীর ধারের বাসিন্দারা। যারা ভাবনা চিন্তা , ধ্যান ধারণাতে পিছিয়ে থাকা মানুষ বলেই বিবেচিত করেন মাতব্বররা । অঞ্চলের নেতারাই যথেষ্ট এদের বুঝিয়ে দেবার ক্ষেত্রে , তাদের ব্যাথার কথা জানতেও পারেনা নবান্নের কর্তারা। কিন্তু এবারের ঝড়তো শহরের মানুষের মাথার ওপরে , ফলে দাদা দিদিদের কপালে ভাঁজ পড়েছে।তার ওপর আবার ২০২১ আসছে কি হয় কি হয় ব্যাপার গুলো তো আছেই । সব মিলিয়ে ৪ মিটার কাপড়ে ৪০০ মিটার শরীর ঢাকতে হবে, এতেই গেছে মাথা টা গুলিয়ে।

করোনাতে সর্বশান্ত অর্থনৈতিক ভাবে ,কেও বলতে পারছে না আমরা ভালো আছি। অঞ্চলের নেতারাও বড় গাড়ি , বা মোসাহেবি পানা কথা , কিংবা এগিয়ে কথা বলা সবটাই শেষ। তারা আন্দাজ করছে যেমন টা ২০১০ সে করেছিল। তাই একটু পিছিয়ে কিছুটা এগিয়ে পরিযায়ী রাজনৈতিক অবস্থান বলাই যেতে পারে। এই শ্রেণীরা বড় বিপদের মুখে আছে , না পারছে প্রতিবাদ করতে না পারছে সঙ্গে থাকতে।

আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষয়ক্ষতির বিশদ রিপোর্ট চাইলেন, তহবিল ঘোষণা করলেন । প্রতিটি পাই-পয়সা হিসেব করে খরচ করার নির্দেশ দিলেন।এই বিপদের মোকাবিলার প্রক্রিয়া এ ভাবেই শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সাথে সাথে হিসেবে নিকেশ শুরু হয়ে গেল , আসছে রিলিফ শেষ লগ্নে , এবার দেখে নেওয়া যাক। এর আন্দাজ করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোধ হয় বললেন , পাই পয়সার হিসেবে চাই। বেহিসেবি খরচ করা চলবে না। কারণ দেখা যায় যারা পরিযায়ী রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা তারা লাভের গুড় খেতেই অভস্থ। আর দিদিও বোধ হয় আন্দাজ করেই কথা বললেন , না হলে কেন কাটমানির কথা নিজে উত্থাপন করবেন। যথেষ্ট পোড়খাওয়া রাজনীতির মানুষ।

লাশের গুনতিতে সরকারি সীলমোহরের ক্ষেত্রে কিন্তু কিন্তু ব্যাপার তো পরিষ্কার করেছে করোনার হিসেবে , কি ভাবে এক লাফে বেড়ে যায়। আর এই নিয়ে নিন্দুকরা না কি বলেন ওই হিসেবের অনেক বেশি নাকি মানুষ মারা গেছেন। যাই হোক সেই চর্চা , কিন্তু কথা যদি হয় অয়লার থেকেই এই ঝড় আরো ভয়ঙ্কর , তাহলে এর ক্ষতির পরিমান কি রাজ্যের বরাদ্ধের ১০০০ কোটির থেকে চুঁয়ে পড়া অর্থে ভেসে যাওয়া সংসারের চার খুঁটি এক করা যাবে ? ২০০৯ এর আয়লায় মমতা ব্যানার্জী ছিলেন বিরোধী নেত্রী। রাজ্য প্রশাসনের দায় তো ছিলই না বরং কেন্দ্রীয় বরাদ্ধের ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছিলেন শোনাযায় বিরোধীদের মুখে। সুন্দরবনের ত্রাণ নিয়ে রাজপথে নেমে ছিলেন রাজ্যপাল থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার করেছেন কিন্তু সেবার রাজ্যসরকারের সাথে এক অবস্থায় এসে কেন্দ্র থেকে বরাদ্ধ টাকা আদায় করতে যাননি , এমনটাই অভিযোগ।

মুখ্যমন্ত্রী বুধবার রাতেই বলেছিলেন উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলেই তিনি ওই দুই জেলা পরিদর্শনে যাবেন।এর সাথেই ঘূর্ণিঝড় বেরিয়ে গেলেও দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ফোন পরিষেবা প্রায় বিকল, অজস্র গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে প্রায় সর্বত্র। বিভিন্ন এলাকায় জল জমে মাঠ-ময়দান আর জলাশয়ের ফারাক বোঝা দুষ্কর হয়ে গিয়েছে বলে খবর।বাস্তবে কত মানুষের ক্ষতি হয়েছে , তারা কি খাচ্ছেন , কি ভাবে আছেন কোন ধারণাই পরিষ্কার করতে পারলেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে ফলাও করে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর কি সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অধীনে থাকা পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কি ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের গেয়েন্দা দফতর কি অসহায় , তাহলে কি রাজনৈতিক কর্মীরা মানুষ থেকে বিচ্ছিন্য । অনেক গুলো প্রশ্ন উঠছে আমজনতার মুখে।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমফানের তাণ্ডবে রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে।কলকাতাতেই ১৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে তিনি জানান। এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনায় প্রাণ গিয়েছে ১৭ জনের। একটু এগিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এলাকায় ৬, ডায়মন্ড হারবারে ৮ এবং সুন্দরবন এলাকা থেকে ৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে তিনি জানান। শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুরে ৬, কলকাতা লাগোয়া হুগলির চন্দননগরে ২ এবং নদিয়ার রানাঘাটে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই দুর্যোগে মৃত্যুর জন্য তাঁদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণও মুখ্যমন্ত্রী এ দিন ঘোষণা করেছেন।আজ সারা দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা রাস্তা ঘিরে ধরেছে বরং বার। না আছে কারেন্ট , না আছে খাবার। মাথার ছাদ উড়েছে তার ওপর করোনার থাবা। অতিষ্ট মানুষ তাই রাস্তা ঘিরে ধরছে। দায়িত্ববান নেতারা সারাদিনে বড় খবরের পাশে ঘোড়া ফেরা ছাড়া আর বিশেষ একটা দেখা যায় নি। ফোন করলে ফোন কেও ধরছেন না। তবে আসার কথা পরিযায়ী রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা উদ্ধারের নামে কিছুটা দেখা যাচ্ছে।

দক্ষ রাজনৈতিক সংঘঠক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , কারণ তার আগাম অনুমান তার নিজের দল ও প্রশাসনের ওপর। ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে, তা নিয়ে কোনও রকম অনিয়ম বা অপব্যয় যে তিনি বরদাস্ত কবেন না, সে বার্তা এ দিন বেশ স্পষ্ট করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন প্রশাসনকে। আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে তিন বলেন যে , ‘‘দেখেশুনে টাকা খরচ করতে হবে। কোনও ভাবেই অকারণে টাকা খরচ করা যাবে না।’’ সে প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, করোনা মোকাবিলায় যে ২০০ কোটি টাকার তহবিল তিনি ঘোষণা করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি মেটানোর জন্য হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করছেন বলেও তিনি জানান। এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান ” দু’মাস ধরে লকডাউনের জেরে রাজ্যের আয় পুরোপুরি বন্ধ, হাতে কোনও টাকা নেই, এই হাজার কোটি টাকা জোগাড় করাও খুবই কঠিন। আম্ফানের তাণ্ডবে যা হল, তার ক্ষতিপূরণে কেন্দ্র সাহায্য করুক রাজ্যকে। তবে প্রশ্ন কি ভাবে আম্ফানে খরচা হয়েছে অনেক ,গতকাল রাতের ঘটনা আজ পর্যন্ত সরকার বা দল বিপদে পড়া মানুষের সামনে যেতে পারেনি সে ভাবে, তাহলে , এই খরচ কিসের। প্রশ্ন তুলছেন বিপদে আটকে পড়া মানুষ।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: