Big Story

এক দিকে CESC অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ পরীক্ষার সামনে : আম্ফানে ডাহা ফেল

রাজ্যের বিদ্যুৎ কর্তারা জানাচ্ছেন, আরো কিছু দিন সময় লাগবে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি ঠিক করতে

পল্লবী : “এমনিই লকডাউন চলছে, বাড়িতে বাচ্চা আছে ওর জন্যই কিছু মাছ সবজি এনে রেখেছিলাম কিন্তু কারেন্ট নেই ফ্রিজেও রাখতে পারছিনা। আর এখন যা পরিস্থিতি জিনিস এনে নষ্ট হলে খুব গায় লাগে” এমনি বক্তব্য জানিয়েছে বেহালা শিলপাড়া নিবাসী সুমিতা দাস। ঝড়ের দিন থেকেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ। তার আর্জি আরো তৎপর হওয়া প্রয়োজন। এই আর্জি শুধু সুমিতা দেবীর নয় গোটা শহরবাসীর যারা এই গরমে বিনা বিদ্যুৎ পরিষেবায় দিন কাটাচ্ছেন। একাধিক জায়গাতেও বিক্ষোভ দেখা গেছে, রাস্তা অবরূদ্ধ করেছেন স্থানীয়রাই।

রাজ্যের বিদ্যুত্‍কর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি যে রকম ভয়ঙ্কর, তাতে পরিষেবা পুরো ঠিক হতে আরও বেশ কিছু দিন লাগবে। দিন-রাত কাজ চলছে। বিদ্যুত্‍ দফতরের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির কিছু অঞ্চলে রবিবার থেকে ন্যূনতম সংযোগটুকু চালু করা গিয়েছে। আগের তুলনায় অবস্থা অনেকটা সামলে ওঠার দাবি করছে সিইএসসি-ও। বেশ কিছু জায়গায় শনিবার রাতে ও রবিবার সকাল থেকে পরিষেবা চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। বণ্টন সংস্থার শীর্ষকর্তারাও বলছেন, লকডাউনে এমনিতেই তাঁদের লোকসান হয়েছে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা। আমপানে তা আরও দেড় গুণ বাড়ার আশঙ্কা। তবে নবান্নের বার্তা, অর্থের কথা না-ভেবে দ্রুত বিদ্যুত্‍ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে। বিদ্যুত্‍ দফতর অবশ্য জানিয়েছে, কলকাতা ও শহরতলিতে বণ্টন সংস্থার অনেক জায়গায় আলো ফিরেছে।

রাজ্যের বিদ্যুত্‍মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘লোকের অভাবেই কাজে সমস্যা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই একসঙ্গে অনেক কর্মীকে আনা যাচ্ছে না। যানবাহনও চলছে না তেমন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বহু অঞ্চলে কর্মীরা পৌঁছতে পারছেন না। তবে বিদ্যুত্‍ ভবনে জমা পড়া প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, ৭টি জেলায় ভেঙে পড়া অন্তত ৩ লক্ষ খুঁটি ও টাওয়ারকে ফের খাড়া করে একাংশে পরিষেবা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সারানো হয়েছে ১১ কেভির ২৩০টি সাবস্টেশন। ৪০% হাইটেনশন লাইন গত দু’দিনে টাওয়ারে তোলাও গিয়েছে। সেখান থেকে লো-টেনশন লাইনে বিদ্যুত্‍ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। যদিও তা অন্ধকারে ডুবে থাকা অঞ্চলের তুলনায় সামান্যই’।

আর সিইএসসি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডিস্ট্রিবিউশন) অভিজিত্‍ ঘোষের দাবি, কলকাতায় ৯২% জায়গাতেই বিদ্যুত্‍ ফিরেছে। বাকি অঞ্চলে কর্মী বাড়িয়ে দ্রুত কাজ হচ্ছে। বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশন, বড় আবাসনে জেনারেটরও ব্যবহার করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। ঝড়ে বিপর্যস্ত জেলাগুলিতে দ্রুত বিদ্যুত্‍ পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য বিদ্যুত্‍ বণ্টন সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষকে ধৈর্য ধরার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অবস্থা সামলাতে বলেছেন সিইএসসি-কেও। নিজে ভিক্টোরিয়া হাউসে গিয়ে সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে কাজের তদারকি করেছেন। কিন্তু অন্যদিকে যে মানুষগুলি না পাচ্ছেন বিদ্যুৎ, না পাচ্ছেন নেটওয়ার্ক পরিষেবা, নেই পানীয় জলও আর সেই দিক থেকেই তৎপরতার জোরাজোরি বেশি। ঠাকুপুকুরের বেশ কয়েকটি এলাকার চিত্র এরূপ তাই কোনো আশ্বাস দিয়েই ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছেনা তাদের।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: