Education Opinion

এক নব ভাবনায় পাঠ ভবন স্কুল, কেবল নয় পড়াশোনা, নিতে হবে সকল উদ্যোগ

এই সময় একসাথে থাকার, একে ওপরের পাশে থাকার, তাই শেখাচ্ছে পাঠ ভবন

@ দেবশ্রী : করোনা সংক্রমণে চলছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন। স্তব্ধ হয়েছে গোটা দেশ। সব মানুষ হয়ে রয়েছেন গৃহবন্দী। কিন্তু তা বলে কী পড়াশোনা থামিয়ে রাখা যায় ? না, তা তো করতেই হবে। আর তাই অনলাইনেই শুরু হয়ে গেছে সমস্ত ক্লাস। কিন্তু সারাদিন পড়াশোনা করতে কারই বা মন লাগে। এই সময় তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না তাই কাজে লাগাতে হবে। পাঠ ভবন স্কুল কিন্তু বরাবরই আলাদা। তারা একটু অন্য চিন্তা ধারায় তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের বড় করে তোলে। সেখানে সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়। যেখানে কেবলমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা না, সকল রকম সাংস্কৃতিক দিক, খেলাধুলা, গল্পের বই পড়া সকল দিকেই ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। মানুষ স্কুলে যেটা শেখে সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, কারন সেখানেই বড় হয়ে ওঠে সকলে। মানুষ হওয়ার পথ দেখায় স্কুল। পাঠ ভবনে আগাগোড়াই পড়াশোনাতে খুব বেশি চাপ দেওয়া হয় না। সেখানে উন্মুক্ত ভাবে সকলকে বাঁচতে শেখানো হয়। এই লকডাউনেও অনলাইনে ক্লাস করানোর পাশাপাশি ছাত্রদের মনের দিকের খেয়াল রেখে স্কুল সবাইকে লিখল চিঠি। বলা হল, এই সময়টা আর ফেরত আসবে না, তাই এই সময়ে যত বেশি সম্ভব নিজের পরিবারের সাথে কাটাতে, নিজের সকল হবি গুলিকে এই সময় যেন তারা খুব ভালো করে প্রকাশ করতে পারে। যেমন নাচ, গান,আবৃত্তি, আঁকা, গল্পের বই পড়া আরও নানান কিছু। যার যা ইচ্ছা বাড়িতে থেকে যেন তাঁরা সেই সব কিছুও করে পড়াশোনার পাশাপাশি।

এই প্রসঙ্গে, যখন পাঠ ভবন স্কুলের প্রিন্সিপাল শুভা গুপ্তা ম্যামের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, প্রথমে যখন লকডাউন এর ঘোষণা হয় তখন কিছু হোমওয়ার্ক আমরা ছাত্র- ছাত্রীদের দিয়েছিলাম। সেগুলিকে আবার দেখছিলাম। কিন্তু লকডাউন যখন আরও বাড়ে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাদের এক চিঠি লেখার। আর সেখানেই বলা হয় তাঁরা যেন তাদের পছন্দের সকল জিনিস এখন যেন করে। বাড়ির মধ্যে যেন মন গোমড়া করে না থাকে বা শুধুই যেন পড়াশোনা না করে যায়। আর তাতেই মেলে সদুত্তর। এখন সকলে কিছু না কিছু করে ভিডিও বানিয়ে তা উপহার হিসাবে পাঠাচ্ছে হোয়াটস অ্যাপ গ্রূপে। ছাত্রছাত্রীরা জুম ক্লাস ও হোয়াটস অ্যাপ গ্রূপে যেমন পড়াশোনা করছে তেমনি বাদবাকি কাজ ও স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে করে চলেছে। এর ফলে তাদের পারফরমেন্স ও আগের থেকে অনেক বেশি ভালো হয়েছে। এছাড়া লকডাউনে আরও একটি ভালো হয়েছে যে ছাত্রদের পড়ার হ্যাবিট টা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিভাবকরা জানাচ্ছে এখন তারা নিজের থেকে পড়ছে, সব কাজ করছে।

এই লকডাউনে পড়াশোনায় বেশ ক্ষতি হচ্ছে, চিরাচরিত শিক্ষাবর্ষ খানিক পিছিয়ে গেছে। সেই বিষয়ে প্রিন্সিপাল ম্যাম বলেন, স্বাভাবিক ক্ষতি তো একটা হচ্ছেই। উচ্চ মাধ্যমিকের এখনও ৩ তে পরীক্ষা পাকি। কবে কী হবে কিছুই এখন বোঝা যাচ্ছে না তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, বুঝতে পারছে না ঠিক কী করবে। অপরদিকে মাধ্যমিক পরীক্ষার সকল খাতা দেখা হয়েছে, কিন্তু তা সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছেই আটকে রয়েছে। সুতরাং লকডাউন না খোলা পর্যন্ত সেগুলি সব পিছিয়ে পড়ছে ,তবে অন্য ক্লাস গুলির ক্ষেত্রে, যে সব পড়া গুলি সোজা সেগুলি আমরা অনলাইনেই পড়িয়ে দেওয়ার সাধ্যমত চেষ্টা করছি। যাতে কারোর কোনো অসুবিধা না হয় বাড়ি থেকে। কিন্তু যারা গ্রামে থাকে বা যাদের অবস্থা তেমন সম্পন্ন নেই সেই সকল পড়ুয়াদের জন্য চিন্তা হচ্ছে, আশা করছি তাদের জন্যও খুব শীঘ্রহি কোনো ব্যবস্থা করা হবে। তবে যাঁরা অনলাইনের সুবিধা পাচ্ছে আমরা তাঁদের নোটস বানিয়ে দিচ্ছি, অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি, কিছু সময় অডিও ক্লিপ্স পাঠাচ্ছি। স্টাডি মেটেরিয়ালস পাঠাচ্ছি। যাতে কোনো রকম সমস্যায় না পড়তে হয় তাদের। এবং এগিয়ে থাকে। তবে এই লকডাউনের জেরে সেল্ফ রিডিং হ্যাবিট টা বেড়েছে, যা হারিয়ে গেছিল পুরো।

কিন্তু সিলেবাস শেষ না হলে কিভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দেবে তা জিজ্ঞাসা করতে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা দফতরের। তবে অবশ্যই ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী সকল রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ততক্ষন এইভাবেই সহজ সহজ পড়া পড়িয়েই ছাত্রদের এগিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই সময় অভিভাবকদের কী পরামর্শ তিনি দিতে চাইবেন তা জিজ্ঞাসা করে তিনি বলেন, অভিভাবকদের একটাই কথা, বাচ্ছাদের বেশি করে সময় দিন। পড়ার জন বেশিচাপ দেবেন না। এই মুহূর্তে ওদের ভালো ভালো গল্প শোনান, সিনেমা দেখুন, খাবার বানিয়ে খাওয়ান। তাঁদের মনের কথা শুনুন।

সত্যিই তো এমন সময় পাওয়া যাবে না। এই গৃহবন্দী থাকার অবস্থাটাকে কাজে লাগাতে হবে। আরও সুন্দর ভাবে বাঁচতে হবে নিজের প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে। এমনটাই বলছে পাঠভবন স্কুল।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: