Economy Finance

এবার প্রবীণদের জন্য নয়া সিদ্ধান্ত নিলো ভারতীয় ডাক বিভাগ

পেনশন নিতে আর বেরোতে হবেনা বাড়ির বাইরে

পল্লবী : লকডাউনের জেরে অসুবিধায় পড়েছেন বাড়ির বৃদ্ধ বৃদ্ধারা। হয়তো অনেকের বাড়ির ছেলে মেয়েরাই লকডাউনের ফলে বাড়ি ফিরতে পারেনি আর তাই ওনাদের অসুবিধার শেষ নেই। আর সেই অসুবিধার অংশীদারি হয়ে কিছুটা তাদের জন্য কিছুটা কষ্ট কমালো ডাক বিভাগ। অশীতিপর ও অসুস্থ প্রবীণ নাগরিকদের পেনশনের টাকা বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। ‌তাঁদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি। তা ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা চালু করেছে ডাক বিভাগ। ডাক বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, মে মাসেও এই ব্যবস্থা চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকা পৌঁছে দেওয়ার সময় সুরক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে। অনলাইন, এটিএম থেকে টাকা তোলা, জমা করার ব্যবস্থা থাকলেও অনেক প্রবীণ নাগরিক সেই ব্যবস্থার সঙ্গে সড়গড় নন। তাঁদের অনেকেই মাসের নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে ডাকঘর থেকে টাকা তোলেন।

তাঁদের পেনশনের টাকা জমা পড়ে যায় অনলাইনে। টাকা তোলার জন্য সাধারণত সবথেকে বেশি ভিড় হয় মাসের প্রথম দিন বা প্রথম কাজের দিনে। ভিড় এড়াতে, করোনা-সংক্রমণ ঠেকাতে অশীতিপর, অসুস্থ পেনশন গ্রাহকদের টাকা বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। করোনা-সঙ্কট, লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর ডাকঘর থেকে পেনশন গ্রাহকদের ফোন করে টাকা পাঠানোর বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ডাকঘরে তাঁদের না-আসার আবেদন জানানো হয়েছিল। অন্য সময় মাসের প্রথম দিন বেশির ভাগ পেনশনপ্রাপক টাকা তোলেন বলে ভিড় সামলাতে আলাদা কাউন্টার খোলা হয়। সাধারণত ডাকঘর কর্তৃপক্ষের কাছে পেনশন প্রাপকদের তালিকা থাকে। সেখানে থেকে ফোন নম্বর, ঠিকানা পাওয়াটা অসুবিধের নয়। তাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমস্যা হয়নি। ডাকঘর থেকে পেনশনের টাকা তোলেন রাজ্যে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার, কলকাতায় রয়েছে তার এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাত্‍ প্রায় ২০ হাজার। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের টাকা ডাকধর মারফত দেওয়া হয়। পেনশনপ্রাপকদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মোটামুটি কোন সময় তাঁদের কর্মীরা যাবেন।

যাতে কাউকে ফিরে আসতে না হয়। আবার তাঁরও অপেক্ষা করার দরকার না পড়ে। পেনশনপ্রাপক কত টাকা তুলতে চান, সেটা আগে থেকেই জেনে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের কাছে সেই অঙ্কের টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ডাকঘরের কর্মীরা পেনশনপ্রাপকের নাম-ঠিকানা, ফোন, নম্বর-সহ হাজির হচ্ছেন। যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে তুলে দেওয়া হচ্ছে টাকা। সংশ্লিষ্ট পেনশনপ্রাপকের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে সই, ছবি, পরিচয়পত্র।

ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, ‘অশীতিপর, অসুস্থ ‌প্রবীণদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাঁদের সুরক্ষার কথা ভেবে বাড়িতে পেনশনের টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে মে মাসেও এই ব্যবস্থা চালু রাখার।’কোথাও কোনও খটকা লাগলে তড়িঘড়ি সংশ্লিষ্ট ডাকঘরে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও অসুবিধে হয়নি। বাড়িতে টাকা চেয়ে পাঠানোর আবেদন করার পর মোটামুটি একদিনের মধ্যেই তা পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতীয় ডাক বিভাগের এক অভিনব প্রয়াস যা সাধুবাদেরও ঊর্ধে। এই লকডাউনের বাজারে ঘরে বসে যদি পেনশনের টাকা হাতে পাওয়া যায় তবে অনেক সুবিধাই হয়। তা চার এই প্রবীণদের মধ্যে অনেকেরই পেনশনের টাকায় জীবন চলে তাই বাইরে বেরিয়ে ব্যাংকে লাইন দিয়ে হলেও পেনশন তুলতেই হয় তাই এরূপ ব্যাবস্থায় তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: