Analysis

করোনার খবর প্ৰকাশ করায় নিখোঁজ সাংবাদিকের খোঁজ, হঠাৎ ভিডিওবার্তা নিয়ে হাজির

অন্যদিকে সাংবাদিক চেন কোয়েশি ৭৫ দিন ধরে নিখোঁজ।

প্রেরনা দত্তঃ চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের যে সাংবাদিককে ধাওয়া করে আটক করা হয়েছিল, দুই মাস পর দেখা মিলল তাঁর। করোনাভাইরাস মহামারির বিষয়ে বিশ্বকে প্রথম যে কজন মানুষ সতর্ক করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সাংবাদিক লি জেহুয়া একজন। অবশেষে এই সিটিজেন্স রিপোর্টার—এর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। করোনার জেরে উহানের অবস্থা কত শোচনীয় হয়ে উঠেছিল সেটা ভিডিয়ো, ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন তিনি। আর এর পরই সরকারপক্ষের রোষানলের মুখে পড়তে হয় চিনের এই সাংবাদিককে। আচমকাই অদৃশ্য হয়ে যান তিনি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে ধাওয়া করা হয় বলে নিজেই জানান তিনি। পরে তাকে আটক করা হলে আর দেখা সন্ধান মেলেনি।সম্প্রতি বুধবার এক ভিডিওবার্তায় আবার প্রকাশ্যে আসেন ২৫ বছর বয়সী লি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয় লি জেহুয়া জানান, অন্যদের মতো তিনিও উহানে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল যে ‘সংবেদনশীল অঞ্চলে’ থাকায় তাকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

যদিও জেহুয়ার দেওয়া এই তথ্য সম্পূর্ণ সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন চিনা সংবাদমাধ্যমের অনেকে। চাপে পড়েই তাঁকে এসব বলতে হচ্ছে বলে মত অনেকের।চেন কিউশি নামে আরেক সাংবাদিক নিখোঁজ হওয়ার পর উহানে গিয়েছিলেন তিনি। এমনই জানালেন জেহুয়া। লাশ পোড়ানো হচ্ছে এমন একটি জায়গার ভিডিয়ো করে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সাংবাদিক চেন কোয়েশি ৭৫ দিন ধরে নিখোঁজ। ফ্যাং বিং নামের আরেক সাংবাদিকেরও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

লি জেহুয়া একজন নাগরিক সাংবাদিক। চেন কিউশি নামের এক সাংবাদিক নিঁখোজ হয়েছেন জেনে গত ফেব্রুয়ারি উহানে যান লি। নিজের প্রথম ভিডিওতে উহানে কেন গিয়েছিলেন, তা জানান তিনি।তিনি বলেন, ‘আমি উহানে যাওয়ার আগে মূলধারার সাংবাদিক আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন, মহামারি সম্পর্কে সব খারাপ খবর কেন্দ্রীয় সরকার সংগ্রহ করছে।স্থানীয় মিডিয়া কেবল রোগীদের সুস্থ হওয়ার খবর জানাতে পারছিল।তবে এই তথ্য সত্য কি না, তা জানতাম না। কারণ, এগুলো কেবল বন্ধুদের মুখে শুনেছিলাম।’

তবে নতুন ভিডিওতে তিনি জানান পুলিশ তার সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করেছে। খাবার, বিশ্রামসহ সবকিছুর সুব্যবস্থা ছিল। পুলিশ খুব যত্ন নেয় তার।
তবে লি জেহুয়ার বন্ধু চেন কোয়েশি এখনো নিঁখোজ। টানা ৭৫ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফ্যাং বিং নামের আরেক সাংবাদিকেরও কোনো খোঁজ মেলেনি এখনো।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: