Analysis

করোনা আক্রান্ত বিশ্ববাসীর জন্য সুখবর, সেরে উঠেছে উত্তর মেরুর ওজোন স্তরের বড়সড় ক্ষত

করোনাভাইরাসের মধ্যেই বরফে ঢাকা উত্তর মেরুর আকাশে ওজন স্তরে ১০ লাখ বর্গ কিলোমিটারের একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিলো।

প্রেরনা দত্তঃ মেরু অঞ্চলে ওজন স্তরে তৈরি হওয়া ওজন স্তরের ক্ষত সেরে উঠেছে। বিজ্ঞানী মহল সূত্রে এমনই খবর জানানো হয়েছে। মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেই বরফে ঢাকা উত্তর মেরুর আকাশে ওজন স্তরে ১০ লাখ বর্গ কিলোমিটারের একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিলো। পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর ওজনে এই গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ভয়াবহ ভবিষ্যতে আশঙ্কা করছিলেন দুনিয়ার আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ওপরের স্তরে আছে ওজোনোস্ফিয়ার বা ওজোন স্তর। যা একটি পর্দার মতো ঘিরে আছে সবুজ পৃথিবীকে। এবং আমাদের পৃথিবীকে সূর্যের ক্ষতিকারক অতি বেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা করে আসছে। কারণ এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মিকে ভূপৃষ্ঠে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

একটি পোস্ট শেয়ার করে ট্যুইটে জানানো হয়েছে, চলতি বছর উত্তর মেরুতে যে নজিরবিহীন ক্ষত দেখা দিয়েছিল, তা সেরে উঠেছে। মেরু ঘূর্ণাবর্ত ভেঙে যাওয়ার কারেই মেরু অঞ্চলে ওজোন-সম্বৃদ্ধ বায়ু এসে সেই ক্ষতি নিরাময় হয়েছে। সিএএমএস-এর গত সপ্তাহের পূর্বাভাসের সঙ্গে যা মিলে গিয়েছে।

মাত্রাতিরিক্ত অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবে মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। জীবকোষের উপর অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাব খুব মারাত্মক।এই রশ্মি কোষের সৃষ্টি এবং বৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কোষগুলোকে ভেঙ্গে ফেলছে। ফলে প্রাণী জগতের অনেক প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটছে। মানুষের ওপর তো ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার প্রভাব ভয়ঙ্কর।
গত মার্চেই বিজ্ঞানীরা উত্তর মেরু ওজোন স্তরে বড় ক্ষত নজরে এসেছিল বিজ্ঞানীদের। এত বড় ক্ষত এই অঞ্চলে এর আগে দেখা যায়নি বলেই মনে করা হচ্ছিল।

অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্যানসার হচ্ছে। ওজোন স্তরের মাত্র ৫% ক্ষতির জন্য সারা বিশ্বে ৫ লাখ মানুষ ত্বকের ক্যানসারে ভুগছেন। পৃথিবীতে ১% অতি বেগুনী রশ্মি বৃদ্ধির ফলে সাদা চামড়ার লোকদের মধ্যে নন-মেলোনোমা জাতীয় ত্বকের ক্যানসার বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ। কম বয়েসে চোখে ছানি পড়ছে। নখ ও চুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পৃথিবী সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। ২০০০ সাল থেকে প্রতি দশকে ৩% হারে ওজোন স্তরের উন্নতি লক্ষ করা গেছে। তবে এখনও অনেক পথ পার হতে হবে আমাদের ওজোন স্তরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে। উত্তর গোলার্ধের ক্ষতিগ্রস্ত ওজোন স্তর পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হবে ২০৩০ সাল নাগাদ আর দক্ষিণ মেরুর ক্ষতিগ্রস্ত ওজোন স্তর ঠিক হতে সময় লেগে যাবে ২০৬০ সাল পর্যন্ত।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: