West Bengal

করোনা চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মমতাকে শানালেন রাজ্যপাল

" স্বচ্ছতার অভাবেই দুর্নীতির জন্ম "- ট্যুইটে বিস্ফোরক জগদীপ ধনকড়

দেবশ্রী কয়াল : রাজ্যের সাথে রাজ্যপালের সংঘাত কোনো নতুন বিষয় নয়। আর আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠল সেই সংঘাত। এবারে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল, করোনা চিকিত্‍সায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনা নিয়ে। বিষয়টি জানার পরেই, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আর যেদিন এই বিষয়কে ঘিরেই মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বিঁধলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কোথা থেকে চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, কারা সেই গুলি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

এই বিষয়কেই কেন্দ্র করে আজ শুক্রবার সকালে পরপর দুটি ট্যুইট করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। করোনা চিকিত্‍সায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনাতেও দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে রেজুওপ্যাল ট্যুইটে লেখেন, ‘এবার পর্দা সরিয়ে আসল তথ্য বাইরে আনুন। আর্থিক অনিয়ম এবং নির্দিষ্ট কয়েকজনের লাভবান হওয়ার খবরে বিরক্তি বোধ করছি।’ এরপর আরও একটি আরেকটি ট্যুইটে ধনকড় লেখেন, ‘কেনাকাটার কাটমানি কোথায় গেল? কে বা কারা লাভবান হলেন? সেটা খোঁজাই তদন্তের একমাত্র কাজ হওয়া উচিত। করোনা চিকিত্‍সার সরঞ্জাম ক্রয়ের হিসাব, কোথা থেকে কেনা হয়েছে, কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। স্বচ্ছতার অভাবেই দুর্নীতির জন্ম।’

উল্লেখ্য, করোনা চিকিত্‍সার জন্য গত কয়েকমাসে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার সরঞ্জাম কিনেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের অধীন ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড নামে এক সংস্থা মূলত এই সকল সরঞ্জাম কিনে থাকে। কিন্তু একসঙ্গে প্রচুর সামগ্রী কেনার থাকলে সেই ক্ষেত্রে সময়ও অনেকটা বেশি লেগে যায়। আর সেই কারণেই করোনা আবহে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যাতে অল্প সময়ে, প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী পাওয়া যায়। তবে সূত্রের খবর, ওই সময় নিয়মের বাইরে গিয়ে ওই কিছু এজেন্সি থেকে ওষুধ কেনা হয়েছিল। যার গুণমান খারাপ ছিল। আর সেই খবরই সম্প্রতি একথা কানে পৌঁছায় মুখ্যমন্ত্রীর। এবিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার পরই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন তিনি। আর তারপরেই তাঁকে বিঁধে ট্যুইটারে আক্রমন শানেন রাজ্যপাল। হয় আর এক সংঘাত।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: