Nation

করোনা নয়, মৃত্যু ঘটলো অমানবিকতার জেরে

মিলল না অ্যাম্বুল্যান্স, রাস্তাতেই প্রাণ হারাল দু'বছরের শিশু

পল্লবী : আবারো এক অমানবিক ঘটনার সম্মুখীন সকলে। জুটল না অ্যাম্বুল্যান্স, রাস্তাতেই প্রাণ হারাল দু’বছরের শিশু। বিহারের জেহানাবাদ জেলার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া পরিবারে। শনিবার হঠাত্‍ই অসুস্থ হয়ে পড়ে সুনীল মাঝি নামে ব্যক্তির বছর দুয়েকের সন্তান। ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় সদর হাসপাতালে যান দম্পতি। কিন্তু শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করলে চিকিত্‍সকরা তাকে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, পাটনার হাসপাতালে স্থানান্তর করার জন্য সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাম্বুল্যান্স দিতে অনুরোধ জানান তাঁরা। কিন্তু হাসপাতালের তরফে শুধু একটি ফোন নম্বর ধরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সে সময় ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা অবস্থা মা-বাবার। তাই সময় খরচ না করে তাঁরা ঠিক করেন মোটরবাইকে চাপিয়েই পাটনা হাসপাতালে নিয়ে যাবেন ছেলেকে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। মোটরবাইকেই ৫০ কিলোমিটারের যাত্রা শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই সব শেষ। জেলাশাসকের অফিসের কাছেই মারা যায় দুধের শিশু।

যদিও সদর হাসপাতালের তরফে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। উলটে তাদের দাবি, মাঝি পরিবারই অ্যাম্বুল্যান্সে নেবে না বলে জানিয়ে দেয়। হাসপাতালের তরফে ডা. বিজয় কুমার সিনহা বলেন, ‘শিশুকে নিয়ে আসার পরই ওর যথাযথ চিকিত্‍সা শুরু হয়। কোনও সমস্যাও হচ্ছিল না। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় আমরা শিশুটিকে পাটনা মেডিক্যালে নিয়ে যেতে বলি। হাসপাতাল অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করলেও তা নিতে অস্বীকার করেন ওই দম্পতি। বলেন, আগে বাড়ি যাবেন। পরে শুনলাম মোটরবাইকে যাওয়ার সময়ই নাকি তাঁদের সন্তান মারা গিয়েছে।’

সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দম্পতি। জেলাশাসকের অফিসের দেওয়ালেই নিজের মাথা ঠুঁকতে শুরু করেন সুনীল মাঝি। স্ত্রী তখন রাস্তার মাঝে বসে বুক চাপড়ে কাঁদছেন। শিশুমৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ছুটে আসেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও। দ্রুত তাঁদের জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় মাঝি পরিবারের জন্য।

করোনার জেরে এরকম পরিস্থিতির স্বীকার আগেও হয়েছেন বহু মানুষ। করোনা নিজেই করছে লখ্যাধিক প্রাণ তার ওপর যে পরিস্থিতি আজ সৃষ্টি হয়েছে সেই পরিস্থিতির জেরেই প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। কখনো গাড়ির জন্য সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পেরে প্রাণ যাচ্ছে আবার কখনো ব্লাড ব্যাংকে রক্ত না থাকায় রক্তের অভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন। আর এই পরিস্থিতিতে কোনো রক্তদান শিবির সম্ভব নয়। বিশ্ব জুড়ে করোনা হাজারো মায়ের কোল শুন্য করছে , হাজারো শিশু কে করছে মাতৃ হারা পিতৃ হারা।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: