Nation

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাকে হাতিয়ার বানিয়ে কী জেল থেকে লালুপ্রসাদকে বার করার কথা ভাবছে দল ?

লালু প্রসাদের চিকিৎসক রয়েছেন কোয়ারেন্টাইনে, তাঁর ও হতে পারে পরীক্ষা

@ দেবশ্রী : করোনা ছাড়ছে না কাউকেই। এবার করোনা পরীক্ষা করা হতে পারে আরজেডি সুপ্রিমো তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের । পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। ২০১৭ সালের শেষদিক থেকে রাঁচি সেন্ট্রাল জেলেই আছেন তিনি। তবে মাঝে মধ্যেই শারীরিক অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভরতি হতে হয় লালুকে। আপাতত তিনি ভরতি রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে।

এই হাসপাতালেই লালুর চিকিত্‍সার দায়িত্বে আছেন ডাঃ উমেশ প্রসাদ। এই চিকিত্‍সকের তত্বাবধানে থাকা অন্য আরেক রোগী সদ্য করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। ওই ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আবার গত ১৫ দিন ধরে রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেই চিকিত্‍সারত। এই পরিস্থিতিতে ওই হাসপাতালের সমস্ত স্টাফ এবং চিকিত্‍সকদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। লালুর চিকিত্‍সক ডাঃ উমেশ প্রসাদ-সহ হাসপাতালের একাধিক চিকিত্‍সককে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে লালুপ্রসাদেরও নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

যদিও ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বন্না গুপ্ত জানিয়েছেন, লালু পুরোপুরি নিরাপদ এবং তাঁর করোনা সংক্রমণের কোনও সম্ভাবনাই নেই। তা সত্বেও সুযোগ বুঝে লালুকে জেল থেকে বের করার দাবিতে সরব হয়েছে তাঁর দল আরজেডি। এই পরিস্থিতিতে লালুপ্রসাদের মতো ভিআইপিকে হাসপাতালে রাখা ঠিক নয়, এই দাবি তুলে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলছেন তেজস্বী যাদবরা। ঝাড়খণ্ড সরকারও বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছে। লালুকে কীভাবে মুক্তি দেওয়া যায় তা নিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শও চেয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী।

এমন মনে করা হচ্ছে যে করোনা আশঙ্কাকেই হাতিয়ার করেই লালুকে জেল থেকে বার করে আনতে চায় তাঁর দল। কারন সামনেই বিহারের নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি কী হবে তার অনেকটাই নির্ভর করবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের উপস্থিতির উপর। লালু যদি জেল থেকে ছাড়া পান, তাহলে তাঁর দল আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিজেপি-জেডিইউ-এলজেপি জোটকে কড়া টক্কর দিতে পারে। তবে লালু যদি মুক্তি না পান তাহলে হয়তো যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই শাসক শিবিরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে না বিরোধীরা। অন্তত বিহারের স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করছেন।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: