Analysis

করোনা সংক্রমণ শিখর ছোঁবে, ‘২০২০ শেষে ৬৭ কোটি ভারতীয় করোনার শিকার হবে ‘

গ্রামীণ ভারতে করোনা সংকট কিন্তু ভয়ানক আকার নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেরনা দত্তঃ করোনা মোকাবিলায় ভারতে চলছে চতুর্থ দফা লকডাউন। এরপর আরও লকডাউন দেয়া হবে কী না এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। এর মধ্যে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ কখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এ নিয়েও নানা আশঙ্কা করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা। দেশের তাবড় বিজ্ঞানী ও চিকিত্‍সক মহলে আলোচনা বা বিতর্কের বিষয় কিন্তু একটিই– করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কবে শিখরে পৌঁছবে। এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। নিজ নিজ ব্যাখ্যাও রয়েছে। হাজারো মতভেদ থাকলেও মূল উদ্দেশ্য সকলেরই এক।

২০২০ সাল শেষে ৬৭ কোটি ভারতীয় করোনা আক্রান্ত হবেন বলে ধারণা করছেন দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সের (নিমহ্যান্স) চিকিৎসকরা।তারা বলছেন, লকডাউন উঠে গেলেই ভারতে করোনা সংক্রমণ পুনরায় বাড়বে। সেইসঙ্গে গোষ্ঠী সংক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। ভারতের বিজ্ঞানীদের একাংশের ধারণা, জুলাইয়ের শুরুতেই দেশটিতে করোনা সংক্রমণ শিখর পৌঁছাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাইয়ের শেষ থেকেই ভারতে করোনা সংক্রমণের হার কমতে থাকবে।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরের মতে, সেপ্টেম্বরের আগে ভারতে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছবে না।
নিমহ্যান্সের চিকিত্‍সকরা আরও বলেছেন, এই ৬৭ কোটি ভারতীয়ের মধ্যে ৯০ শতাংশই জানতে পারবেন না তারা করোনা পজিটিভ। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণের বাহ্যিক কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যাবে না। মাত্র ৫ শতাংশের অবস্থা সংকটজনক হবে। তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

প্রশ্ন হল, এত লোকের চিকিত্‍সা করার মতো পরিকাঠামো কি আমাদের রয়েছে? অবশ্যই নেই। বড়জোর কোভিড আক্রান্তদের চিকিত্‍সার জন্য‌ হাসপাতালগুলিতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার বেড রয়েছে। ফলে, বেডের সঙ্কুলান না হওয়ায়, হাসপাতালগুলি করোনা আক্রান্তদের ভর্তি নিতে পারবে না। ইতিমধ্যেই কিছু রাজ্যে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আগামীতে এই সংকট বাড়বে বই তো নয়। বিশেষত, গ্রামীণ ভারতে। চিকিত্‍সক মহলে এটাই এখন দুশ্চিন্তার কারণ। গ্রামীণ ভারতে করোনা সংকট কিন্তু ভয়ানক আকার নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: