Big Story

কলকাতায় তীব্র গতিতেই আছড়ে পড়বে আমফান,তাই আজ সব দোকানপাট বন্ধ রাখার পরামর্শ

রাজ্যে সরানো হল ৪ লক্ষাধিক মানুষকে

প্রেরনা দত্তঃ কলকাতায় বৃষ্টি ও সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া জানান দিচ্ছে, আমফান আসছে৷ প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় বুধবার সকালে নিউ আলিপুরে গাছ পড়ে গিয়েছে৷ কলকাতায় আমফানের জেরে ১২০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে৷ঘূর্ণিঝড় আমফান আসার আগেই এই সুপার সাইক্লোনের মোকাবিলা করতে সতর্ক প্রশাসন। ঝড়ের সময় বাড়ি থেকে না বেরোনর পরামর্শ দেওয়া হল সরকারের তরফে । পাশাপাশি আগামিকাল কলকাতার সমস্ত দোকান-বাজার বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের তরফে ।

ঘূর্ণিঝড় আমপানের দাপটে জানপ্রাণ বাঁচাতে আজ, বুধবার দুপুর থেকে কলকাতা-সহ উপকূলবর্তী জেলার বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বেরোতে বারণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে নিজের বাড়িঘর মজবুত না-হলে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে প্রত্যেককে দু’দিনের জন্য সরকারি শিবিরে আশ্রয় নিতেও অনুরোধ করেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার, ঝড়ের রাতে তিনি নিজে নবান্নে উপস্থিত থাকবেন।

কলকাতাকেও লন্ডভন্ড করতে পারে ঘূর্ণিঝড়৷ শহরের বিপজ্জনক বাড়ি ও প্রচুর গাছ ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ৷ তাই বিপজ্জনক বাড়ি থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে৷ ‘‘কোভিডের কারণে সরকারি শিবিরে যতটা সম্ভব পারস্পরিক দূরত্বের বিধি বজায় রাখার এবং প্রত্যেককে মাস্ক দেওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। খাওয়ারও ব্যবস্থা হবে। ঝড় চলে গেলে বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে পারবেন,’’ বলেন মমতা। কলকাতা পুলিশ মাইকে প্রচার করছে, বাসিন্দারা যেন বাড়ি থেকে না-বেরোন। দোকান খুলতে বারণ করা হচ্ছে দোকানিদের।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয় এই ঝড়টি (Amphan), এরপর গত ৩ দিনে নিজের শক্তি বাড়িয়ে এটি সুপার সাইক্লোন অর্থাৎ ভযঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এর শক্তি কমার সম্ভাবনা বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সতর্কতা স্বরূপ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষজন উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে আমফান প্রবল বেগে বয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা হয়ে বাংলাদেশের হাতিয়ার দিকে, এর ফলে এরাজ্যে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সঙ্গে চলবে লাগাতার ভারী বৃষ্টি। এদিকে পূর্ব উপকূলে ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে “হাই অ্যালার্ট” বা “চূড়ান্ত সতর্কতা” জারি করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আমফানের পাশাপাশি সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ করোনা হাসপাতালগুলিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয় যাতে না হয়,সেদিক লক্ষ্য রাখা৷ ইতিমধ্যেই আমফান মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে রাজ্য বিদ্যুত্‍ বন্টন নিগম। এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে যদি বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয় তা দ্রুত কিভাবে মোকাবেলা করা যায় তার জন্য রীতিমতো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এক বার ঝড় হয়ে গেলেই কেউ যাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে না-আসেন, সেই জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর লেজের ধাক্কায় ওড়িশায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল। তাই এ বার আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’’

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: