Big Story

কলকাতায় ফেক নিউজ : ঠান্ডা পানীয় খেলেই মৃত্যু অবধারিত : নজর রাখা দরকার সরকারের !

চলছে জোর আলোচনা , whatsapp এ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত গতিতে।

সকাল থেকেই কলকাতা সহ সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভয়- কোকোকোলা পেপসি সহ বিভিন্ন ঠান্ডা পানীয়তে আছে ভয়ানক ইবোলা ভাইরাস বলছেন এক মহিলা একটি অডিও টেপ করা বার্তায় , সঙ্গে রয়েছে তিনটি ছবি আর একটি ভিডিও ম্যাসেজ। তাতে বলা হচ্ছে হায়দরাবাদ পুলিশ একটি বার্তা জারি করেছে এবং এই খবর করেছে NDTV , কিন্তু দুই পক্ষের কেউই স্বীকার করেন নি এই নিউজ-এর সত্যতা।

এই ধরণের একই মিথ্যা প্রচার হয়েছিল ২০১৪ সালে। এই বারের এই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় কিন্তু অডিও টেপ , ভিডিও-ও সঙ্গে ছবি দেওয়া হয়েছে। এই ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে এক মহিলা বসে আছেন বাচ্চা কোলে নিয়ে কাঁদছেন আর মুখ থেকে রক্ত বেড়িয়ে আসছে , আবার মুখে হাত দিয়েও প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে মুখ থেকে রক্ত বেড়োচ্ছে। এরপর হটাৎ দেখা যাচ্ছে যে আরেক মহিলা দরজার সামনে অচৈতন্য অবস্থায় পরে আছেন আর আগের একজন মহিলা প্রথমে পা দিয়ে শুয়ে থাকা মহিলাকে নাড়াচ্ছেন ,তারপর হটাৎই বসে বাচ্চাটা-কে নিয়ে শুয়ে পড়ার চেষ্টা করছেন যেন শেষ হয়ে আসছে তার প্রাণ।এই ভিডিওতে আরো তিন জনের কন্ঠস্বর সোনা যাচ্ছে। তবে বোঝার উপায় নেই।

ইবোলা ভাইরাস কি : এই ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে কোন সংক্রামিত পশুর রক্ত বা শরীর রস-এর সংস্পর্শ থেকে, সাধারণত বানর অথবা ফলাহারী বাদুড় fruit bat । অনুমান করা হয় যে বাদুড় নিজে আক্রান্ত না হয়ে এই রোগ বহন করে ও ছড়ায়। কোন ভাবে এই রোগ মানব শরীরে একবার সংক্রমণ ঘটলে মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। জীবিত পুরুষের বীর্য-এর মাধ্যমে এই রোগ প্রায় দুই মাস পর্যন্ত পরিবাহিত হতে সক্ষম। রোগের লক্ষণ একই প্রকার লক্ষণযুক্ত অন্যান্য রোগ, যেমন, ম্যালেরিয়া, কলেরা এবং অন্যান্য ভাইরাল হেমোরেজিক ফিভারগুলিকে বাদ দিতে হয়। রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে রক্তের নমুনাগুলির পরীক্ষা ভাইরাল অ্যান্টিবডি, ভাইরাল RNA, অথবা এই ভাইরাসটির জন্যই করতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ করার জন্য আক্রান্ত বানর ও শূকরের থেকে মানুষের মধ্যে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে । রোগ ধরা পড়লে এইরকম সংক্রামিত প্রাণীদের চিহ্নিত করে মেরে ফেলে দেহগুলি সঠিকভাবে বিনষ্ট করে ফেলার মাধ্যমে এটা করা হয় । রান্না হওয়া মাংস এবং মাংস পরিবেশনের সময় নজর রাখতে হবে যে কোনো ভাবেই এই ধরণের রোগগ্রস্থ মানুষ না থাকে , তাহলে সংক্রামিত হতে পারে। একইভাবে যখন রোগগ্রস্থ কেউ কাছাকাছি থাকে তখন প্রতিরোধ হিসাবে পরিষ্কার পরিছন্ন থাকা দরকার।

যে বিষয়টি দাবি করা হয়েছে তার কোন বাস্তবিকতা এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র গত কাল এই নিয়ে একটি খবরের জেরে কিন্তু ফেক নিউজ বন্ধ হয়নি বা পাল্টা কোনো সরকারি নির্দেশ বেড়োয় নি এখনও, এই নিউজ নিয়ে চাঞ্চল্য তুঙ্গে। চলছে বন্ধু থেকে আত্মীয়পরিজন – পাড়া প্রতিবেশীর কাছে। অল্প বয়সী মহিলারা এই বিষয় নিয়ে চর্চা করে বেশি।

অন্যান্য দেশে এই ধরণের ফেক নিউজ-এর ক্ষেত্রে কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকে , কিন্তু এই ক্ষেত্রে কি উদ্দেশ্য আছে তা এখনো বোঝা যায়নি। রাজ্য সরকারকে সচেতন হতে হবে এই ধরণের ফেক নিউজ থেকে , ওপিনিয়ন টাইমস এই বিষয়ে নজর রাখবে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: