Big Story

কল্যাণের আক্রমণ কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতিরা ভালো চোখে নিলেন না !

তৃণমূলের আইনজীবি সেল এই বিষয়ে নির্বাক। বার কাউন্সিল সমালোচনার মুখে , কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জী কে ” আইনের এ-বি-সি-ডি জানেন না” । হাইকোর্টের বিচারপতিকে নজিরবিহীন আক্রমণ করার পর বিচারপতি ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এই বিবাদের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় সমগ্র হাই কোর্টে ছড়িয়ে পরে। নবান্নেও কল্যাণের বক্তব্য কে ভালো চোখে দেখছে না। সূত্রের খবর, মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় কিছু না বললেও খুশি নন।

বিধাননগর পুরনিগমের অনাস্থা মামলায় এই ক্ষেত্রে হাইকোর্টে সওয়াল-জবাবের মধ্যেই উঠল বনগাঁ-প্রসঙ্গ।বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন বনগাঁর আস্থাভোটে । কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারব্যবস্থাকে নজিরবিহীন আক্রমণ করে বসলেন ।শ্রীরামপুরের সাংসদ বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন ।

১১ নম্বর কোর্টরুম হাইকোর্টের দোতলায় তোলপাড় অবস্থা , আইনজীবীদের ভিড় অসম্ভব উত্তেজনা তখন এজলাসে উপস্থিত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় বিধাননগর পুরনিগমের অনাস্থা ভোট নিয়ে চলছে জোর সওয়াল-জবাব। সেখানেই উঠল মঙ্গলবারের বনগাঁ-কাণ্ড।বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় কড়া মন্তব্য করলেন । কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এজলাসে দাঁড়িয়ে বিচারপতির সামনেই বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন । কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তি আক্রমণ করেন বিচারপতিকে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি আইনের এ-বি-সি-ডি জানেন না’। পরে অবশ্য দুঃখপ্রকাশ করেন কল্যাণ।

এদিকে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ,বলেন বনগাঁ পুরসভার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনার জন্য চেয়ারম্যান ও তাঁর অনুগামীরাই দায়ী। পুলিস প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি ।এতবড় কাণ্ড শাসকদলের প্রশ্রয়েই ।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির এহেন মন্তব্যেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ।তিনি বলেন শুধু বনগাঁ কেন, বলতে হলে সব বলতে হবে। বারের নির্বাচনে ২০ লক্ষ খরচ করেছে বিজেপি।কল্যাণ আরো বলেন বিচারপতি নিয়োগ কীকরে হয় তাও জানি। বিচারপতিরাও সমঝোতা করেন। অনেক বিচারপতি সল্টলেকে জমি পেয়েছেন তও জানি ।

কল্যাণ এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান ।বিচারপতি সওয়াল-জবাব যখন প্রায় শেষের পথে, তখনই কল্যাণের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন ক্ষুব্ধ।বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জী বলেন,’আজীবন সততার সঙ্গে কাজ করেছি। আমার নিয়োগ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। ১০ বছর কাজ করেই অনেকে হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। কার সম্পত্তি কীভাবে বাড়ছে সব আমরা জানি। কেউ দিতে ভালবাসেন, কেউ নিতে ভালবাসেন। এই দেওয়া-নেওয়া থেকেই কাটমানি কনসেপ্ট’।

বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জী এজলাস ছেড়ে নিজের চেম্বারে উঠে যান।এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখপ্রকাশ করে আসেন বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জীর ঘরে।

২০১২ সালেই প্রাত্তন বিচারপতি সমরেশ ব্যানার্জী , রাজ্যের প্রথম লোকায়ুক্ত থেকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলিকে নজির বিহীন আক্রমণ করেছিলেন। বেশ কিছু ক্ষেতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টেও কল্যাণ বাবুর এহেন বক্তব্য এখন ডায়েরি বন্ধি। বর্ষীয়ান আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টে এহেন ঘটনার নজির মনেই করতে পারছেন না ।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: