Big Story

কালীঘাটের নিদান : ১৯শের ভোট সিন্ডিকেট

উপেক্ষা করা যাবে না , ওরাই দলের সম্পদ

ওয়ার্ড এর ভারপ্রাপ্ত  কাউন্সিলরদের  নয়নের মনিরাই এবারের কলকাতা ভোটের দায়িত্বে, নিদান এলো কালীঘাট থেকে।  রাস্তার কোনে মিটিং করা , দেওয়াল দখল ,ল্যাম্পোস্টের অধিকার , রাস্তা জুড়ে মঞ্চ  বাঁধা , মাইক বাঁধা , পোস্টার লাগানো , বাসের  হোর্ডিং  লাগানো , দোকান থেকে বাড়ি , বাস থেকে অটো সবার সামনে পিছনে পতাকা লাগানো, সব কিছুরই মিটিং চলছে রাতের প্রোগ্রামে। খবর আসছে আছে মোবাইলে “দাদা ডেকেছে আজ রাতে অমুকের ফ্ল্যাটে প্রোগ্রাম হবে” – প্রোগ্রাম মানে দেদার খাওয়া , চুটিয়ে ফুর্তি তবে ভোট বড় বালাই প্রকাশ্যে বেলাল্যা পানা হবে না , কাউন্সিলর থাকছে , মাঝে মধ্যে থানার বাবুদেরও আনাগোনা হচ্ছে। 

কারা এই সিন্ডিকেটের মাথা :কমন এন্ট্রান্স টেস্ট (ক্যাট) এর মত পথ খোলা  কিভাবে চলে বাছাইয়ের  পদ্ধতি জেনে নিন :

 ১) কাউন্সিলরের প্রতি আস্থা ভাজন হতে হবে

  • এদের যোগ্যতা   : ২) অন্যায় অপরাধে হাত পাকানো লোক

সিন্ডিকেট  নির্বাচনেই পদ্ধতি : ৩) মূলত দেখা হয় কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগ ,ফোন করলেই হাজির , প্রয়োজনে সব কিছুতেই আছি , ছেলে -মেয়ের জন্মদিন থেকে মা-বাবার শ্রাদ্ধ , লক্ষি পুজোর বাজার থেকে কালী পুজোর বাজি , বছরে কয়েকবার এদিক ওদিক ঘোরার ব্যবস্থা , ডাক্তার থেকে হাসপাতাল – ওষুধ থেকে অপারেশন , সকাল থেকে রাত্রি ফাইফরমাশ সাথে আমোদ আহ্লাদের উপযুক্ত  ব্যবস্থা করা। 

কাজের যোগ্যতা :  এলাকার খবর সবার আগে সবসময় ,

  • পুরোনো বাড়ি সরানো হোক বা নতুন বাড়ি তৈরী, সবার আগে সব খবর
  • নতুন ভাড়াটে এলো  বা খালি বাড়ি হল
  • বাড়ীর মালিক কাজ থেকে অবসর নিয়েছে ,
  • মেয়ের বিয়ের পর বাড়ি খালি ,
  • ছেলে বিদেশে , বাড়ি খালি
  • অসুখে পড়েছে পরিবার , বড় বাড়ি
  • পরিবার বিবাদ ,বড় বাড়ি
  • টাকার দরকার , বড় বাড়ি
  • নাক গলিয়ে ঝগড়া করা ,
  • ভাল  মানুষ সাজার অভিনয় জানা অতি আবশ্যিক
  • কাঁচা পয়সা অবশ্যই থাকতে হবে নদের  অন্তত পক্ষে ৫০ লক্ষ্
  • বড় বাড়ি ও ঠান্ডা গাড়ি কয়েকটা
  • রাত বিরাতে হোটেল কিংবা রেস্ট্রুরেন্ট এর বিল মেটাবার ডেভিড কার্ড কিংবা ক্রেডিড কার্ড
  • সকালের বাজার থেকে পড়তে যাওয়া ছেলে মেয়েকে আনা
  • বিয়ে বাড়ির উপহারও জোগাড় রাখতে হবে
  • খোঁজ রাখতে হবে বিপক্ষের  কথোপকথন ,
  • বিপক্ষের  প্রতিবাদীদের ধমকানো চমকানো
  • বিরোধী দলের লোকের সাথে হালকা যোগাযোগ
  • বিপক্ষের নেতার সাথে সরাসরি নাহলেও কাছাকাছি লোকের সাথে সমান তালে খবর রাখা
  • ধমকানো চমকানো এসব তো কাজেরই  অঙ্গ
  • এক ডাকে ২০ থেকে ৩০ টি বাইক স্কোয়াড  
  • মিছিলে লোক জোগাড় , ১০০ দিনের কাজ থেকে কর্পোরেশনের শুরু করে অঙ্গন ওয়ারী কর্মী
  • রাস্তার মিছিল  রোড ম্যানেজমেন্ট থেকে শেষে খাবারের জোগাড় সবটাই একই নির্দেশে
  • অলিগলি থেকে বস্তি মিছিলের দিন সকাল থেকেই তোড়জোড় থাকে গাড়িতে লোক তোলার 
  • ভোটার দিন ভোট ম্যানেজমেন্ট থেকে চমকানো ধমকানো বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করা
  • ব্যানার ফেস্টুন লিফলেট থেকে দেওয়াল লেখার পয়সা সবটাই আসছে সিন্ডিকেট থেকে
  • চায়ের দোকান থেকে লোকাল নেতার খাবার সবটাই যোগান দিতে হবে 
  • দলের  বসে যাওয়া নেতা অন্য কোনো দিকে যাচ্ছে নাকি
  • কোন রাস্তায় কে কাজ পাবে
  • কোথায় কে বালি সিমেন্ট সাপ্লাই দেবে কত দায়িত্ব
  • এছাড়া তো পাড়ার শো-এ রক্ত দান , বসে আঁকো , বছরে কয়েক বার জলসার বিনোদন  থেকে জনতা ফিস্ট সঙ্গে পুজোর কার্নিভাল সবটাই নির্ভর করে , মূল কথা দাদার মান রাখতে হবে

                     সব মিলিয়ে চোখের নিমেষে পৌঁছে যাচ্ছে খবর , অলিতে  গলিতে রিপোর্টার থাকা চাই তবেই যোগ্য বলে বিবেচিত হলে সিন্ডিকেটের মাথা।

ওপিনিয়ন টাইমস এর সমীক্ষায় উঠে আসছে এই সব তথ্য যা আপনাকে চমকে দেবে।  সিন্ডিকেটদের  চেহারাতে বোঝার উপায় নেই , কারণ ১০ বছরে  বদলে গেছে পাড়া সংস্কৃতি থেকে বাড়ির হালচাল।  দামি মোবাইল , ছেলে মেয়ের নামি স্কুলে পড়া , ভালো জায়গায় চিকিৎসা করা , বছরে ঘুরতে যাওয়া , বড়  বাড়ি কয়েকটা কিংবা দামি ফ্ল্যাট  , কয়েক`টা  গাড়ি, দামি বাইক সবই যেন আলাদিনের আশ্চর্য্য প্রদীপের ফল। 

ওয়ার্ড নেতাদের   মূল ভরসা এই তাজা ছেলেদের উপর দায়িত্ব।  বলে রাখা ভালো অঞ্চল অনুযায়ী প্রোমোটারদের ফ্ল্যাট প্রতি ১লক্ষ থেকে তিন লক্ষ্ বড় প্রজেক্টের জন্য আলাদা হিসেবে , সবই চলে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মধ্যে । 

এর কারণ : অবৈধ্য  বাড়ি নির্মাণ , তিনতলা বাড়ির একটি  তলা অবৈধ্য  হলেও ক্ষতি নেই , পারমিশন পাবে নাম মাত্র ফাইনে। পুলিশ থেকে প্রশাসন সবাই কেই নিয়েই এই চক্র। আমিও ভালো থাকি তুমিও ভাল  থাকো গোছের অলিখিত চুক্তি।  

মাঝে মাঝে সমস্যা হয় জায়গা দখলের ,তবে এখন আর কেউ খুব সহজে রক্ত ঝরাতে চায় না , তাই হিন্দি সিনেমার ম্যানবালি বাদশার ভূমিকায় কাউন্সিলরের দায়িত্ব খুব বেশি থাকে।, তার কারণ খবর হলে  দলের নেতাদের খোঁজ পরে কালীঘাটে , আরও বড় রফা করতে হয় , ভাগের অংশ চলে যায়।  তাই মানবলী বাদশার ভূমিকা অস্বীকার করে কোন কিছুই সম্ভব নয়।

এরাই দলের সম্পদ হয়ে উঠে, কেউ কেউ স্বপ্ন দেখছে যে যদি বড় নেতাদের গা ঘষা ঘসি করে  যদি দাদার ভূমিকায় আসা যায়।

যাই হোক নিষ্ঠার  সাথে পালন করছে নিদান , ভোট গত বিধান সভা থেকে  পঞ্চায়েত ও বিধান নগরের ভোট যোগ্যতা প্রমান করছে  বারে  বার , তাই উপেক্ষা করতে পারছে না দলের সম্পদদের।  এবার চলছে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় রফার কাজ , এই নির্বাচনের প্রথমে একটু শ্লথ গতি ছিল কারণ নির্বাচন কমিশন কিরকম হয় সেটা বোঝা যাচ্ছিলো না , এখন no problem |

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: