West Bengal

কুমড়ো বোঝাই গাড়িতেই মাদক পাচার, লকডাউনে সামনে এলো : অনুমান আগেও হতো , তদন্তে পুলিশ

বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধারের পিছনে কি রাজনৈতিক মদত , অসংখ্যা বখরা নিয়ে তথ্য ফাঁস

পল্লবী : গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি শুরু করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। আর তারপরেই উঠে আসে এই খবর। চলতি লকডাউনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আড়ালেই চলছে দেদার মাদক পাচার। কুমড়ো বোঝাই লরিতে মাদক পাচার করার চেষ্টা করে দুই মাদক পাচারকারী। এবার তা হাতে নাতে ধরল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।

প্রায় ১৫০ কেজি কুমড়োর আড়ালে এই মাদক দ্রব্য পাচার করা চেষ্টা করা হচ্ছিল। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর একশো মিলিলিটারের একটি ফেনসিডিল-এর বোতলে ২০ মিলিগ্রাম নিষিদ্ধ রাসায়নিক ‘কোডিন’ থাকে। ১০,০০০ বোতল ধরলে, হিসেবটা দাঁড়ায় ২০০০ গ্রাম কোডিন। ভারতে রীতিমত নিষিদ্ধ ড্রাগ হিসেবে ধরা হয় ফেনসিডিলকে। নির্দিষ্ট পরিমানের বাইরে ফেনসিডিল কেনা, বিক্রি করা, বহন করা, ব্যবহার করা ইত্যাদির ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও চলছে গোপনে বিকিকিনি।

সোমবার রাতে হেস্টিংস থানার বেকারি রোডে এসটিএফের একটি দল পৌঁছয়। আটক করা হয় একটি ছয় চাকার লরি। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স -এর একটি দল গতকাল হেস্টিংস থানার বেকারি রোডে পৌঁছায় এবং আটক করে একটি ছ’চাকার লরি। কুমড়ো বোঝাই লরিটিতে তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। বেরিয়ে পড়ে ১০০ কার্টুন অর্থাত্‍ প্রায় ১০ হাজার বোতল ফেনসিডিল সিরাপ।

আটক করা হয় কুমড়ো বোঝাই লরিটি এবং ফেনসিডিল-সহ কার্টনগুলিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে লরির চালক ৩৮ বছরের মুকেশ সরোজকে। এরই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে খালাসি নন্দলাল সরোজকে । দু’জনেরই বাড়ি উত্তরপ্রদেশের সন্ত রবিদাস নগর জেলায়। দু’জনকেই মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

উপরিউক্ত বিভিন্ন তীব্র নেশার দ্রব্য নিষিদ্ধ কিন্তু তার মধ্যে থেকেও গোপনে চলছে পাচারকার্য। যার আঁচ পড়তেই পারে দেশের যুবসম্প্রদায়ের ওপর যা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে তাদের ভবিষ্যতকে। কিন্তু পারিপার্শিক এত সঙ্কটের মধ্যে থেকেও প্রশাসন তৎপর এরকম কুরুচিকর কাজ রুখতে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: