Analysis

কেন বাতিল নয় CESC চুক্তি , বহু মামলা ঝুলে আছে কোর্টে : বিস্তর অবিশ্বাস

দোষের আঙ্গুল সিইএসসি-র দিকে তুললেন ফিরহাদ হাকিম

পল্লবী : গতকাল ঈদ ছিল, সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে কাজে তৎপরতা এনেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু আজ প্রায় এক সপ্তা হতে চললো বিস্তীর্ণ এলাকাতে আজও আঁধার কাটেনি। আর এই কারণেই সামাজিক দূরত্ব বিধিকে সিকোয় তুলে নানা জায়গায় চলছে তুমুল বিক্ষোভ। এ দিন সকাল থেকেই দক্ষিণ কলকাতার বেহালা, যাদবপুর, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, সন্তোষপুর, টালিগঞ্জ, বাঘাযতীন মোড়, হরিদেবপুর বাদামতলা, ঠাকুরপুকুর কালীতলা, ডায়মন্ড পার্ক, গড়িয়া, গরফা সাঁপুইপাড়া-সহ বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়েরা। ঘেরাও হয় পর্ণশ্রী থানা। আর এবারে এই সবকিছুর জন্য দোষের আঙ্গুল উঠলো সিইএসসি-র দিকে।

সারা শহর থেকে জেলায় চলে বিক্ষোভ শেষে এ দিন বিকেলে সিইএসসি কাজ শুরু করে এইসব এলাকা গুলিতে। এখনও অন্ধকারে সুন্দরবন-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। জেলার ৬২টি সাব স্টেশনের মধ্যে ১৫টি অচল। প্রায় ৪৬ হাজার খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। বন দফতর সূত্রের খবর, যোধপুর পার্ক, শোভাবাজার, আলিপুর-সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়া গাছ কাটা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভাঙা গাছ সরাতে দফতরের ১৫০০ কর্মীকে ২৩টি দলে ভাগ করে কাজে নামিয়েছে পূর্ত দফতর। সোমবার রাতের মধ্যে উত্তর কলকাতার স্বামীজির বসত ভিটে থেকে ময়দান পর্যন্ত এবং প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের গাছ সরিয়ে ফেলা হবে বলে দফতর সূত্রের খবর। এ ছাড়া, এ দিনও বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়া গাছ কেটে সরিয়েছে সেনা। বেহালায় পাঁচ দিনের মাথায় গাছ কেটে সরানোয় স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। কাজ করছে এনডিআরএফ-এর ৩৯টি দল।

বিদ্যুত্‍ বিপর্যয় প্রসঙ্গে এ দিনও সিইএসসিকে দোষারোপ করেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ”মানুষের বিক্ষোভ মূলত জল ও আলো না-থাকার কারণেই। এর জন্য সিইএসসি-ই দায়ী। এনাফ ইজ এনাফ।” বাসিন্দাদেরও অভিযোগ, সিইএসসি-র কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করলেও লাইন মিলছে না। সেনা, পুরসভা, বন দফতর মিলে ভেঙে পড়া গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে গেলেও বিদ্যুত্‍সংযোগ ফেরাতে দেরি হচ্ছে কেন, তার সদুত্তর সিইএসসি-র কাছে নেই, ধৈর্য হারানো গ্রাহকদের তা বোধের অগম্য।

প্রতিটি মানুষের একটিই অভিযোগ আর তা হলো সিইএসসি-র গাফিলতি। যদিও সিইএসসি-র দাবি, তাঁদের পরিষেবা এলাকায় ৯৫% জায়গায় বিদ্যুত্‍ চলে এসেছে। বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু জায়গায় লোকবল বাড়িয়ে যুদ্ধকালীন তত্‍পরতায় কাজ চলছে। জেনারেটরও দেওয়া হচ্ছে জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে। সিইএসি-র বক্তব্য, ঝড়ে গাছ পড়ে, তাদের বিদ্যুত্‍ পরিকাঠামোয় যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত সামলানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলিতে গ্রাহকদের ঘরে সাময়িক ভাবে বিদ্যুত্‍ পরিষেবা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের বড় অংশ অবশ্য তার প্রমাণ পাননি।

অনেক বাড়িতেই ছোট শিশু এবং বৃদ্ধরা রয়েছেন আর তার সাথে সব চেয়ে বেশি অসুবিধার মুখে পড়ছে শহরের বৃদ্ধাবাস গুলি যেখানে নেই জল নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। পরিচালিকার দ্বারা কিছুটা সুরাহা হলেও তারাই বা কত করবে তাই এই মুহূর্তে কর্মীসংখ্যা বাড়িয়ে আরো তৎপরতার সাথে কাজ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: