Big Story

কোভিড পজিটিভ রোগীকে ‘নেগেটিভ’ বলে বাড়ি পাঠাল বাঙুর!

দ্বিতীয় বার ভর্তি হওয়ার পরের দিন সকালেই মৃত্যু হল সেই রোগীর।

প্রেরনা দত্তঃ ২৬ এপ্রিল রাত ১০টার সময় এমআর বাঙুর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এক বৃদ্ধকে। হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে লেখা— রোগীর ‘কোভিড নেগেটিভ’। ভুল ভাঙল প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর। তড়িঘড়ি স্বাস্থ্য দফতর বাড়ি থেকে সেই রোগীকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। কিন্তু দ্বিতীয় বার ভর্তি হওয়ার পরের দিন সকালেই মৃত্যু হল সেই রোগীর। তার মাঝে গোটা পরিবারের সঙ্গে পুরো একটা দিন কাটিয়ে গেলেন কোভিড সংক্রমিত সেই ব্যক্তি। ওই পরিবারে রয়েছে ৭ মাসের একটি শিশুও।

মৃত বৃদ্ধ আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করেন তিনি। সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
মৃতের ছেলে জানিয়েছেন, গত ২৫ এপ্রিল স্বাস্থ্যভবন থেকে একটা ফোন পান তিনি। সেই ফোনে জানানো হয় যে, তাঁর বাবার লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। পরের দিন সকালে ২৬ এপ্রিল ফের ফোন আসে স্বাস্থ্য দফতর থেকে। গোটা পরিবারকে বাড়িতে কোয়রান্টিনে থাকতে বলা হয়। বৃদ্ধের ছেলের দাবি, ওই দিন বিকেলেই ফোন আসে এমআর বাঙুর হাসপাতাল থেকে।

বৃদ্ধের ছেলে বলেন, ‘‘ফোন করে বলা হয়, আমার বাবার কোভিড পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাবাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আমি যেন রাতেই বাবাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসি।”
২৭ এপ্রিল বিকেলে ফের ফোন আসে স্বাস্থ্যববন থেকে। খোঁজ নেওয়া হয় যে, তাঁরা হোম কোয়রান্টিনে আছেন কি না? কারও কোনও উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি না? তখন বৃদ্ধের ছেলে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিককে জানান যে, তাঁর বাবার রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গিয়েছে। বাবাকে হাসপাতাল ছেড়েও দিয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই ফের ফোন আসে স্বাস্থ্য দফতর থেকে। জানানো হয়, ভুল করে এম আর বাঙুর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছেন।

আসলে ওই বৃদ্ধের রিপোর্ট পজিটিভ। কোভিড রোগীকে পরিবহণের সমস্ত নিয়ম মেনে বৃদ্ধকে ফের নিয়ে যাওয়া হয় এমআর বাঙুর হাসপাতালে। এ বার ভর্তি করা হয় এমআর বাঙুরের কোভিড বিভাগে।তার পরই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। এ ব্যাপারে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিষয়টির কথা তাঁরা শুনেছেন। সবিস্তারে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: