Nation

কোয়ারেন্টাইন থাকা অবস্থায়, পরিযায়ী শ্রমিকদের এক নতুন জীবিকা দিচ্ছে ওড়িশা সরকার

এই মুহূর্তে পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে পায়ে হেঁটে বাড়ি না ফেরেন, তাঁর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের

@ দেবশ্রী : লকডাউনের জেরে বাড়ি ফিরতে পারছেন না লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকেরা। তাই শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে চলেছেন। এক অক্লান্ত সফরে তাঁরা নেমেছে। তার শেষ কবে গিয়ে হবে তাঁদের ও জানা নেই। তবুও পেটের দায়ে, ঘরে ফেরার নিরাপদ আশ্রয় পেতে হাঁটা শুরু হয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিকদের এমন করুণ পরিস্থিতি রুখতে ফের একবার তাঁদের জীবিকা, জীবনধারার মূল স্রোতে পৌঁছে দিতে অভিনব পদ্ধতি নিয়েছে ওড়িশা।

পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে। যেখানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নিয়ে যেমন ক্ষোভ রয়েছে, তেমনই ভবিষ্যতে এই পরিযায়ী শ্রমিকরা কী কাজ পাবেন, তা নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা। এবারে তার সমস্যা সমাধানে পথ দেখাচ্ছে ওড়িশার গঞ্জাম জেলা।

পরিযায়ী শ্রমিকদের ওড়িশার গঞ্জাম জেলায় সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। তাঁদের করোনা সংকটে যাতে স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে ব্য়বহার করা যায়,তার জন্যই ই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নানান কাজের সঙ্গে যুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী হওয়ার তাগিদে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেনও সানন্দে।

কেউ হয়তো পেশায় বাড়ি নির্মাণকারী মিস্ত্রি। কেউ বা হয়তো সোনার গয়নার নিখুঁত কারিগর, কিন্তু সকলের লক্ষ্য এখন একটাই, করোনাকে যেভাবে হোক হারাতেই হবে। আর তার জন্যই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের সকালের ব্রেকফাস্ট সেরেই প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকরা গঞ্জাম জেলার প্রশাসনের তরফে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। জীবিকার টানে চলে অন্য এক পেশার কাজ শেখার পালা।

এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রোজ সকালে শারীরিক কসরৎ হয়। সাথে চলে যোগ অভ্যাস। আর শেখানো হয়, করোনার আবহে মাস্ক ব্যবহার বা সোশ্যাল ডিসটেন্সিং কতটা জরুরি। ওড়িশা প্রশাসন ও গঞ্জাম জেলার প্রশাসনের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের বোঝাতেই, তাঁরা ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছেন।

এর আগে, কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলিকে দেওয়া একটি নির্দেশ সাফ জানানো হয়েছে যে, পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে পায়ে হেঁটে বাড়ি না ফেরেন আর তার বন্দোবস্ত করতে হবে রাজ্যগুলিকে। এজন্য দরকার হলে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে, বুঝিয়ে তাঁদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখতে হবে। আর সেই কাজে ওড়িশা যে দেশকে পথ দেখাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: