Sports Opinion

‘ক্রিকেটে সন্তোষ ট্রফি-র’ ভুলে চরম বিদ্রুপের শিকার

চুনী বাবুর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে জোড়া ভুলের কবলে সূর্যকান্ত মিশ্র

পল্লবী : প্রয়াত প্রাক্তন ফুটবলার চুনী গোস্বামী। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। আজ অর্থাত্‍ বৃহস্পতিবার কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল সকালেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৫টায় হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তী ফুটবলার। প্রথমে পি কে আর এবার চুনী বাবুর মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়লো গোটা ফুটবল দুনিয়া। শোকস্তব্ধ
বাংলার মন-প্রাণ।

চুনী গোস্বামীর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে রাজনৈতিক মহল থেকে ক্রীড়া মহলের প্রত্যেকেই। আর এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের টুইটের এত বিরাট বড়ো ভুল করে বসলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক তথা পলিটব্যুরোর সদস্য সূর্যকান্ত মিশ্র। যা রীতিমতো হাসির খোরাক জুগিয়েছে গোটা সমাজ মাধ্যমকে। চুনী গোস্বামী যে ফুটবলের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খেলেছিলেন তা অনেকেরই জানা রয়েছে। সূর্যবাবুও তাঁর ভক্ত ছিলেন। মাঠে ঢুকে অটোগ্রাফ নিতে গেছিলেন বলেও স্মৃতিচারণ করেছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সে কথা উল্লেখ করতে গিয়েই প্রথম টুইটে বিপত্তি বাঁধান তিনি। লেখেন, ‘চুনী গোস্বামী কেবল ফুটবলারই ছিলেন না। পরবর্তীকালে তাঁকে ক্রিকেটে সন্তোষ ট্রফির ম্যাচে বাংলার হয়ে খেলতে দেখেছি।’

হ্যাঁ ঠিকি শুনছেন সূর্যকান্ত মিশ্রের কথাতে ক্রিকেটে সন্তোষ ট্রফির ম্যাচে বাংলার হয়ে খেলতে দেখেছেন চুনী বাবু কে। আচ্ছা তিনি কি সত্যিই ভুলে গিয়েছিলেন যে সন্তোষ ট্রফি একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নাকি পুরোটিই হয়েছে কার্যত ভুল বসত ? তবে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চরম বিদ্রুপের শিকার হন সূর্য বাবু। তাই খানিকক্ষণ পর ফের একটি টুইট করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। কিন্তু সেখানেও ঘটে বিপত্তি।

দ্বিতীয় টুইটে সূর্য মিশ্র সন্তোষ ট্রফি নিয়ে অসন্তোষ বুঝতে পেরে শুধরে নিয়ে রঞ্জি ট্রফি করেন ঠিকই কিন্ত অন্য একটি বিভ্রাট করে বসেন। লেখেন, ‘ক্রিকেটে অন্তত দু’বার রঞ্জি ট্রফি ফাইনালে বাংলা দলের জয় নিশ্চিত করেছিলেন, একজন অলরাউন্ডার হিসেবে।’ কিন্তু আসল তথ্য যে বলছে অন্য কথা, একবারই রঞ্জি ট্রফিতে বাংলা দলের অধিনায়কত্ব করেছিলেন চুনী গোস্বামী। সেটা ১৯৭১-৭২ মরশুমে। দ্বিতীয়ত বাংলা সেবার ফাইনালে উঠেছিল ঠিকই কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ব্র্যাবর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তত্‍কালীন বম্বের কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলা। সেই বম্বে টিমে ছিলেন সুনীল গাভাস্কারও।

রাজ্য সম্পাদকের এমন কাণ্ডকারখানা দেখে বিরক্ত অনেক সিপিএম সমর্থকও। তবে গভীর রাতে দ্বিতীয় টুইটটিও ডিলিট করে দেন সূর্যবাবু। তারপর ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ভুল স্বীকার করে নেন তিনি। বয়সের কারণে বিস্মৃতি বলে উল্লেখ করেন তিনি। সত্যি সূর্য বাবুর এই কান্ড দেখে তাজ্জব সকলে। তিনি আদৌ চুনী বাবুর সম্পর্কে জানেন তো ? নাকি শোনা কথার ওপর ভরসা করেই লিখেছিলেন কথা গুলো আর যার জেরেই ঘটলো এমন বিপত্তি ! প্রশ্ন তুলছেন মানুষ। যদিবা শেষ পর্যন্ত একটি পোস্টের সাহায্যে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন তিনি।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: