Health

গঙ্গাজলের প্রতিরোধক নিয়ে এইমুহূর্তে মাথা ঘামাতে নারাজ আইসিএমআর

গঙ্গাজল করোনা দমনে সক্ষম, দাবি করেছে কেন্দ্রের জল শক্তি মন্ত্রক

পল্লবী : এবার করোনা প্রতিষেধক হিসেবে উঠে আসছে নয়া তথ্য। গঙ্গাজল করোনা দমনে সক্ষম,এমন দাবি করেছে কেন্দ্রের জল শক্তি মন্ত্রক। তবে এই মুহূর্তে এবিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নয় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ। আইসিএমআরকে এই ব্যাপারে গবেষণা চালানোর জন্য চিঠি দিয়ে আবেদনও করা হয়। তারই জবাবে আইসিএমআর জানিয়েছে, ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গঙ্গাজলের ভূমিকা নিয়ে এখনই তেমন কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তা ছাড়া করোনার চিকিত্‍সায় প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ নিয়েও এখন উচ্চপর্যায়ের গবেষণা চলছে আইসিএমআরে। গঙ্গাজলে এমন ভাইরাস মিলেছে যা করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারবে, এমন দাবি করেছে জল শক্তি মন্ত্রক।

গঙ্গাজলের এই ভাইরাসকে সংক্ষেপে ‘ফাজ’ ভাইরাসও বলা হয়। ব্যাকটেরিয়া-বিনাশকারী ভাইরাস বলেই এমন নাম। ফেলিক্স ডি হেরেলি প্রথম ব্যাকটেরিওফাজ আবিষ্কার করেছিলেন। এদের অনেক প্রকারভেদ, আকারেও ভিন্ন। সাধারণত ব্যাঙাচির মতো দেখতে এই ভাইরাসদের মাথা ষড়ভূজাকৃতি। মাথা আর লেজ—শরীরের দুটো সক্রিয় অংশ। আর আছে বেসপ্লেটে ছ’ টি স্পর্শক তন্তু, অনেকটা পায়ের মতো। দৈর্ঘ্যে সাধারণত ১০০ ন্যানোমিটার ও ব্যাস ২৫ ন্যানোমিটারের মতো। আকারে সাধারণ ভাইরাসের চেয়ে বড়। এরা ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়তে থাকে। একটা সময় ব্যাকটেরিয়াকেই নষ্ট করে দেয়।

এছাড়াও, অতুল্য গঙ্গা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরও দাবি এমনটাই। সেই কারণে গঙ্গাজল নিয়ে গবেষণা শুরু করার জন্য আইসিএমআরকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অতুল্য গঙ্গার সদস্য কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মনোজ কিশওয়ার বলেছেন, আইআইটি কানপুর, কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টক্সিকোলজি রিসার্চের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে গঙ্গাজলে ব্যাকটেরিওফাজ রয়েছে। তিনি বলেছেন, এই ব্যাপারে সিএসআইআরের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (NEERI)-এর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারাও ভিডিও কনফারেন্সে আইসিএমআরকে জানিয়েছে, গঙ্গার জলে ভাইরাস প্রতিরোধী কী কী উপাদান রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখতে।

তবে সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে গঙ্গাজল নিয়ে গবেষণা বা ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা সম্ভব নয়, এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে আইসিএমআর। যখন গবেষণার আতস কাঁচ থেকে ব্যাড যাচ্ছেনা কোনোকিছুই তখন বাদের খাতায় গঙ্গাজল কেন ? কেনই বা আইসিএমআর এ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন না ?

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: