Sports Opinion

‘ঘোস্ট ডার্বি’, নয়া তকমা বরুসিয়া ডর্টমুন্ড বনাম এফসি শালকের ম্যাচের

মনে ভয় নিয়েই জয়ের আসায় আজ মাঠে মেসি

পল্লবী : খেলা যাদের শয়নে-স্বপনে তারা কি খেলা ছাড়া থাকতে পারেন ? মন যে চায় সেই সবুজ মাঠ আর পা’য়ে একটা বল। তাই এবার দর্শকহীন ভক্তহীন মাঠে হতে চলেছে ‘ঘোস্ট ডার্বি’ . কি নামটা একটু নতুন শোনাচ্ছে তাই না ? নাম নতুন হলেও চিত্র যে আপনাদের সকলের খুব কাছে এবং অবশ্যই চেনা। বদলে যাওয়া পরিবেশে যখন ফুটবল ফেরার অপেক্ষায় জার্মানি, তখন ম্যাচ খেলার জন্য ছটফট করছেন লিয়োনেল মেসি। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড বনাম এফসি শালকের সেই বেনজির ম্যাচ।

এই খেলার সময় শহরটাই যে মেতে ওঠে হলুদ রঙে। বুন্দেশলিগার এই ডার্বি যখন বরুসিয়ার ঘরের মাঠে খেলা হয় তখন পুরো শহর যেন মেতে ওঠে এক অভিনব উৎসবে। তবে এই বছর করোনা যে বদলে দিয়েছে গোটা ছবিটা। স্পেনের এক পত্রিকাকে সাক্ষাত্‍কারে মেসি বলেছেন, ”সব জায়গাতেই সংক্রমিত হওয়ার ভয় আছে। আর বাড়ি থেকে বেরোনোটাই তো ঝুঁকির। তাই আমি মনে করি, এটা নিয়ে আমাদের বেশি ভাবার দরকার নেই। বেশি ভাবলে আমরা কোনও লক্ষ্যই ছুঁতে পারব না। ব্যক্তিগত ভাবে আবার ম্যাচ খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।” তিনি আরো বলেন যে, ”এই মুহূর্তে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফুটবল ফেরানোর জন্য যা যা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সফল করতে সাহায্য করা। তবে সেই সঙ্গে আমাদের সবাইকে যতটা সম্ভব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতাও মেনে চলতে হবে। এই ব্যাপারে আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনও জায়গা নেই।”

সংক্রমণ রুখতে দু’দলের ফুটবলার, ম্যানেজার, সাপোর্ট স্টাফ, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক, মাঠের কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী ও সাংবাদিক মিলিয়ে মাত্র ৩২২ জনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে স্টেডিয়ামে থাকার। ৮১ হাজার ৩৬৫ জন দর্শক খেলা দেখতে পারেন স্টেডিয়ামে। প্রায় আঠাশ হাজার দর্শক হলুদ-কালো জার্সি পরে পুরো ম্যাচটাই দাঁড়িয়ে দেখেন, গান গেয়ে ফুটবলারদের উত্‍সাহ দেন। সারা বিশ্বে যা পরিচিত ‘ইয়েলো ওয়াল’ নামে। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ১১০ বছরের ইতিহাসে কখনও ফাঁকা থাকেনি গর্বের এই ‘ইয়েলো ওয়াল’। কিন্তু এবার যে পুরোভিন্ন চিত্র তৈরী হতে চলেছে। তাই জার্মান সংবাদমাধ্যম শনিবারের দ্বৈরথকে ‘ঘোস্ট ডার্বি’ বলে চিহ্নিত করছে।

করোনা যে ‘এক অন্য খেলা’ র সৃষ্টিকর্তা তা বলাই বাহুল্য !

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: