West Bengal

চলবে বাস, খুলবে দোকান, সেলুন, আপনার এলাকায় এ বার কী খুলবে, কী খুলবে না, দেখে নিন বিস্তারিত

২১ শে মে থেকে জেলাগুলিতে দোকানপাট খোলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রেরনা দত্তঃ গোটা দেশের সঙ্গে তিন দফায় দীর্ঘ লকডাউনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে রাজ্য। প্রতি দফাতেই নতুন নতুন ক্ষেত্রে ছাড় মিলেছে। সবটাই ছিল কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মতো। এবার চতুর্থ দফায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার অনেকটাই রাজ্য সরকারের উপরে। সোমবার তার শুরুর দিনেই অনেক কিছুতে ছাড় দিয়ে নবান্ন বুঝিয়ে দিল এবার একটু একটু করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে চাইছে রাজ্য সরকার। সংক্রমিত অঞ্চল বাদ দিয়ে ২১ শে মে থেকে জেলাগুলিতে দোকানপাট খোলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্কুল, কলেজ-সহ সবরকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে চার জোনেই।একইরকম ভাবে চার জোনে খোলা থাকবে না কোনও হোটেল।চার জোনেই বন্ধ থাকবে সিনেমা হল।শপিং মলের দরজাও খুলছে না কোনও জোনেই।রেস্তরাঁয় গিয়ে খাওয়ার সুযোগও আপাতত নেই চার জোনেই।চার জোনেই বন্ধ জিমন্যাসিয়াম পরিষেবাও। শরীরচর্চার পর্ব সারতে হবে বাড়িতেই।চার জোনেই বন্ধ থাকবে সবরকম ধর্মীয় উপাসনার স্থান।

নিষিদ্ধ যে কোনও ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক জমায়েত, যেখানে অনেক লোকের হাজির থাকার সম্ভাবনা আছে।নির্দিষ্ট সময় বিধি মেনে মদের দোকান খোলা থাকবে গ্রিন, অরেঞ্জ ও রেড জোনে। কন্টেনমেন্ট জোনে বন্ধ থাকবে এই মদের দোকান।সিগারেটের দোকানের ক্ষেত্রেও বহাল থাকছে এই নিয়ম। কন্টেনমেন্ট জোন ছাড়া বাকি তিন জোনে খোলা থাকবে সিগারেটের দোকান।কন্টেনমেন্ট জোন বাদে বাকি তিন জোনে সেলুন এবং স্পা খোলা থাকবে।বিভিন্ন ক্লিনিক এবং হাসপাতালের আউটডোর পেশেন্ট বিভাগ খোলার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে কন্টেনমেন্ট এলাকা ছাড়া এই তিন জোনকে।

স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস কমপ্লেক্স খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে গ্রিন, অরেঞ্জ ও রেড জোনে। তবে অনুশীলন বা খেলা হবে দর্শকশূন্য মাঠেই। কন্টেনমেন্ট জোনের ক্ষেত্রে এই অনুমতি পাওয়া যায়নিতিন জোনেই ই-কমার্সে অত্যাবশ্যকীয় ও সাধারণ পণ্য পাওয়া যাবে। তবে কন্টেনমেন্ট জোনে নিষিদ্ধ এই পরিষেবা।ক্যুরিয়ার ও ডাক পরিষেবাও পাওয়া যাবে কন্টেনমেন্ট জোন ছাড়া বাকি তিন অংশে।ব্যাঙ্কিং পরিষেবা জারি থাকবে গ্রিন, অরেঞ্জ ও রেড জোনে।

বাস পরিষেবা সচল করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২৭শে মে থেকে রাজ্যে অটো চলাচল করতে পারবে। তবে অটো ইউনিয়নদের সঙ্গে এই ব্যপারে পুলিশ আলোচনা করে নেবে। এক্ষেত্রে অটো চালানোর ক্ষেত্রেও মানতে হবে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং।

অটোতেও যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছে রাজ্য সরকার। জানানো হয়েছে, এক সঙ্গে সর্বাধিক দু’জন যাত্রীকে তোলা যাবে। চালক থেকে যাত্রী সকলেরই মাস্ক পরে থাকা বাধ্যতামূলক। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, সংক্রমিত এলাকায় এসব কোনও পরিষেবাই এখনও মিলবে না। রাজ্যে করোনা সংক্রমিত এলাকা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতিও নিয়েছে রাজ্য সরকার। কনটেনমেন্ট জোনও এখন থেকে বুথ ও ওয়ার্ড অনুসারে ভাগ করা হবে। একটি কনটেনমেন্ট জোনকে তিন ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। ‘এ’- সংক্রমিত এলাকা, ‘বি’- বাফার এলাকা, ‘সি’- ক্লিন এলাকা। ‘এ’ এলাকায় আপাতত সব বন্ধ থাকবে। ‘বি’ চিহ্নিত এলাকায় কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। ‘সি’ চিহ্নিত এলাকায় সব কিছু স্বাভাবিক ভাবে চলবে।
লকডাউনের জেরে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে অর্থনীতি। সাধারণ মানুষের রুজিরুটিতে টান পড়েছে। সেই কথা চিন্তা করে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, কনটেনমেন্ট এ জোন ছাড়া ২১ মে থেকে সব এলাকায় বড় দোকান খুলবে। জোড়-বিজোড় নীতি মেনে ২৭ মে থেকে খোলা হবে হকার্স মার্কেট। মানতে হবে করোনা সতর্কতা বিধিও।

একদিন অন্তর সরকারি ও বেসরকারি অফিস খুলবে। কেন্দ্র সন্ধে ৭টা থেকে সকাল ৭টা অবধি কার্ফুর ঘোষণা করলেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ‘নাইট কার্ফুর নামে মানুষের ভোগান্তি ঠিক নয়। আমরা সরকারিভাবে কার্ফু ঘোষণা করছি না। কিন্তু বেআইনি জমায়েত করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’

অফিসগুলিতে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে হবে। আর তার জন্যই দরকার গণপরিবহন ব্যবস্থা। সেই জন্যই এবার সরকারি ও বেসরকারি বাস চালু করার সিদ্ধান্ত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সংক্রমিত অঞ্চলগুলিতে এখনই এসব পরিষেবা মিলবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: