Analysis

চাহিদা আছে যোগান আসবে কি ভাবে : করোনার সাথে আম্ফান !

সঞ্চিত সামগ্রী ঠিক মতো ভাবে মজুত রাখতে পারবেন তো ? দুশ্চিন্তায় রাজ্য সরকার

পল্লবী : প্রথমে করোনা আর তার সাথেই যে দোসর রয়েছে তার ধ্বংসলীলায় বিদ্ধস্ত গোটা রাজ্য। দিশেহারা হয়ে পড়ছেন প্রত্যেকটি মানুষ। কোন দিক ছেড়ে কোন দিকে আগে যাবেনা তারা ? রাজ্যের সকল স্তরের মানুষেরই সঞ্চিত ভাঁড়ারে টান পড়েছে বহুদিন আগেই। প্রাপ্ত রেশন সামগ্রীই ছিল অনেকের একমাত্র ভরসা। কিন্তু কিছুদিন আগেই খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, জুন মাস পর্যন্ত যোগান আছে রেশনে তারপর যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে দিক নিয়েও পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি আরো জটিল করে দিলো দানব আমপান। সঞ্চিত সামগ্রী ঠিক মতো ভাবে মজুত রাখতে পারবেন তো ? দুশ্চিন্তায় রাজ্য সরকার।

চলতি মাসে রেশনের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিলিবণ্টন মোটামুটি শেষ সরকারি নিয়মে , তবে বাস্তবে বিস্তর অভিযোগ । জুন মাসের প্রথম দিন থেকে রেশন চালু করার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত। রাজ্যের গুদাম ঘরগুলি থেকে ডিলার ডিস্ট্রিবিউটারেরা ইতিমধ্যেই চাল সংগ্রহ করেছেন রেশন দোকানে পাঠানোর জন্য। চলতি দুর্যোগে সেগুলি সুরক্ষিত রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ সরকারের কাছে। এক খাদ্য কর্তার কথায়, ‘মনে হচ্ছে, রেশনের উপভোক্তার সংখ্যা শীঘ্র বাড়বে। রাজ্যে খাদ্যশস্যের মজুত নিয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই খাদ্যশস্য আমপানের প্রকোপ থেকে সুরক্ষিত কতটা রাখা যাবে, সেটাই এখন দেখার। কারণ, চালে জল লাগলে তা নষ্ট হয় দ্রুত। ফলে জল থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা চলছে সব রকম ভাবে।’

তবে যে বিষয়টি আরো চিন্তা বাড়াচ্ছে তা হলো, ইতিমধ্যেই শ্রমিকেরা রাজ্যে ফিরছে কমপক্ষে প্রায় তিন লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। সরকারের পরিকল্পনা আরও লক্ষাধিক পরিযায়ী শ্রমিককে অন্য রাজ্যগুলি থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরানো। এখন সাধারণ রেশন গ্রাহকদের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৫ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল দরকার হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ শুরু হলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন চালের প্রয়োজন হবে। এক খাদ্য-কর্তার কথায়, ‘পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ নিলে পরিযায়ী শ্রমিকদেরও পাঁচ কেজি করে চাল দিতে হবে। বিডিও-রা ফুড কুপন বিলি করার পরে খাদ্য দফতরের কাছে চূড়ান্ত তালিকা এলে রেশন দোকানগুলিতে অতিরিক্ত বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।’

জানা গিয়েছিলো পরবর্তী মাসের রেশন সামগ্রী হাতে সময় থাকতে থাকতেই গুদামে এনে রাখা হবে কিন্তু এই দুর্যোগের ফলে বাংলার চাষিভাইদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই পরবর্তী সময়ের যোগান কথা থেকে আসবে তা নিয়েও চিন্তা বাড়াচ্ছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: