Health

চিকিৎসকদের জন্য নয়া গাইডলাইন আইসিএমআর-এর

মৃত রোগীর বিভিন্ন অঙ্গ থেকে ঘটা নিঃসরণ চিকিৎসকদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তাই বন্ধ কাটাছেঁড়ার কাজ

পল্লবী : আইসিএমআর এর তরফ থেকে জারি হলো নয়া রিপোর্ট। এই রিপোর্টে বলা হচ্ছে, কোভিড-‌আক্রান্তের মৃত্যুর ক্ষেত্রে কাটাছেঁড়া করে ময়নাতদন্ত এড়িয়ে যেতে হবে, কারণ, মৃত রোগীর বিভিন্ন অঙ্গ থেকে ঘটা নিঃসরণ চিকিত্‍সক এবং চিকিত্‍সা কর্মীদের পক্ষে বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একটি খসড়া নথিতে ‌আইসিএমআর এ‌ও জানিয়েছে, কোভিড সংক্রমণ ঘটা ব্যক্তির চিকিত্‍সাধীন অবস্থায় নিউমোনিয়া, হৃদ্‌রোগ, রক্তকণিকা জমাট বাঁধার মতো অন্য কারণ ঘটে থাকলেও ‘‌আন্ডারলায়িং কজ’‌ হিসেবে কোভিডের কথাই লিখতে হবে, কারণ তাতে দেশের মৃত্যুর হিসেব যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা সম্ভব হবে।

আইসিএমআরের ‘‌স্ট্যান্ডার্ড গাইডলাইন্স ফর মেডিকো-লিগাল অটোপসি ইন কোভিড-‌১৯ ডেথস ইন ইন্ডিয়া’‌ শীর্ষক চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে চিকিত্‍সাধীন অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে, তা মেডিকো-‌লিগাল কেস বলে ধরা হবে না। ফলে ময়নাতদন্তেরও প্রয়োজন হবে না। মৃত ব্যক্তি যে চিকিত্‍সকের অধীনে ছিলেন, তাঁর সার্টিফিকেটই যথেষ্ট বলে গণ্য হবে। অনেক ক্ষেত্রে করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এলে তাঁকে ইমার্জেন্সি গণ্য করে দেহ মর্গে পাঠিয়ে পুলিশকে জানানো হচ্ছে। মৃত্যুর যথার্থ কারণ জানতে ময়নাতদন্ত হচ্ছে।

আইসিএমআরে‌র খসড়া বিধি বলছে, ময়নাতদন্ত এক্ষেত্রে নিষ্প্রয়োজন। আত্মহত্যা হত্যা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি যদি কোভিড পজিটিভ হন, অথবা তাঁর সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে পুলিশ অপরাধের তত্ত্ব নাকচ করলে মেডিকো-‌লিগাল ময়নাতদন্ত হবে না। আইসিএমআর বলছে, ‘‌অহেতুক ময়নাতদন্ত এড়াতে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিককেই সক্রিয় হতে হবে।’ কোভিডে মৃতদের ক্ষেত্রে আইসিএমআরের নির্দেশাবলি বলছে, ‌হাড় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাটাছেঁড়ায় মরদেহ থেকে বাতাসে নিঃসৃত কণায় কর্তব্যরত চিকিত্‍সকদের সংক্রমণ ঘটতে পারে। এ সব ক্ষেত্রে ‘‌হু’‌র নির্দেশ, বাইরে থেকে পরীক্ষা করে, ছবি তুলে মৌখিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ময়নাতদন্তই শ্রেয়। খসড়া নির্দেশাবলি আরও বলছে, কোভিড পরীক্ষার রিপোর্টের আগে যেন মর্গ থেকে কোনও মরদেহ না ছাড়া হয়। রিপোর্টের পর প্রয়োজনীয় কৃত্যাদি সেরে পিপিই পরে জেলা প্রশাসনের হাতে দেহ তুলে দেবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

মরদেহের কাছে দু’‌জনের বেশি আত্মীয়ের উপস্থিতি চলবে না এবং মরদেহ থেকে তাঁদের ১ মিটার দূরত্ব রেখে দাঁড়াতে হবে। ডাবল প্লাস্টিক ব্যাগের ভেতর থেকে আত্মীয়দের প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করতে হবে। পুলিশ-‌প্রশাসনের কর্তাদেরও সেখানে থাকা বাধ্যতামূলক। মৃতের সত্‍কারের সময়েও সর্বাধিক ৫ জন আত্মীয়ের পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে উপস্থিতি দরকার। এবং অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কারণ, মৃতের আত্মীয়রা উপসর্গহীন ভাইরাসবাহক হতেই পারেন। সমাহিত করার ক্ষেত্রে কবরের ওপরের পরত সিমেন্ট দিয়ে বাঁধিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া আবশ্যিক। সত্‍কারের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক চুল্লি ব্যবহার করতেই হবে। দেহকে স্নান করানো, স্পর্শ করার মতো রীতি বর্জন করতে হবে। চিতাভস্মে সংক্রমণের ভয় নেই। তা সংগ্রহ করা যাবে।

জনস্বার্থে এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এমন গাইডলাইন পেস করেছে আইসিএমআর। সংক্রমণ যাতে চিকিৎসক দেড় মধ্যে না ছড়ায় এই বিষয়টিতেই জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ এই কঠিন পরিস্থিতিতে যদি চিকিৎসকেরা অসুস্থ বা আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: