Analysis

অনেক কিছু হলেও ‘শেষের ৩৪ বছরে এই কলঙ্কময় দিন বইতে হয় নি বাংলা কে’ উত্তর খুঁজছেন জনতা

নিন্দা কথাটাও খুব কম মাত্রা , ঘৃণ্য কাজ করলেন দুই দল বিজেপি ও তৃণমূল - ওপিনিয়ন টাইমস

ছিঃ ঘৃণা বর্ষিত হোক ওদের জন্য – কলংকিত কলকাতা

নিন্দা কথাটাও খুব কম মাত্রা , ঘৃণ্য কাজ করলেন দুই দল বিজেপি ও তৃণমূল – ওপিনিয়ন টাইমস

গত কয়েক দিন ধরেই প্রস্তুতি চলছে শহীদ মিনার থেকে কলেজিস্ট্রিট হয়ে মিছিল যাবে মধ্য কলকাতায় বিবেকানন্দ রোড ,রাহুল সিনহার প্রচার নিয়ে মানুষের দরবাড়ে। ফেস বুক থেকে সোশ্যাল মিডিয়া তে ফলাও করে প্রচার সাথে ৮ টি জেলার মানুষজন নিয়ে এসেছেন যাতে রাত পর্যন্ত লোকের না কম পরে, এটা বঙ্গ বিজেপির “ইজ্জত কা সওয়াল “.
কলকাতা পুলিশের মিসলেনিয়াস দফতর , কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দফতর , ডিআইবি ও স্থানীয় পুলিশ তো জানতো চাপা উত্তেজনা আছে ,যখন সকাল থেকেই স্টেজ বাধা , ব্যানার ফেস্টুন লাগানো ইত্যাদি ইত্যাদি কে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিবাদ গড়ে উঠছে ,একদিকে তৃণমূল কর্মী ও পুলিশ অন্য দিকে বিজেপির সমর্থক, তখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলেন কলকাতা পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষা করতে।

ওপিনিয়ন টাইমস সকাল ৭ টা থেকে এই সভার কভারেজ করতে উপস্থিত ছিল , কি এমন হলো – একটি অন্তর তদন্ত

# সকাল ৭.৩০ এলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সাথে রাহুল সিনহা , দলের সমর্থক রা বার বার ফোন করতে থাকেন তাদের বড় নেতা দের , অভিযোগ পুলিশ ও তৃণমূলের কর্মীরা ব্যানার , ফেস্টুন , কার্ট আউট সব খুলে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। সিডি মিনারের আনাচে কানাচে গুঞ্জন , হোক কিছু একটা গোছের।
# সকাল সকাল উপস্থিত হলেন জেলার নেতারা , যারা সকালের ট্রেনে হাওড়া শিয়ালদাহ তে চলে এসেছেন। ধর্মতলার বিভিন্ন জায়গার গ্রুপ মিটিং শুরু হয় তৎপরতা শীর্ষে। পুলিশ এর সব শাখায় লোক তখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে – সবই শুনলেন তারা।
# সকাল ১০ টা মাইক বাজানো শুরু , মাঝে মাঝে বেজে উঠছে আজকের ঘোষণা।দলের কিছু নির্দেশ কর্মীদের জন্য।
# সকাল সকাল কৈলাশ বিজয়বর্গী সহ রাহুল সিনহা বাঁশের স্টেজের উপর বসে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন , নীল টিশার্ট সাথে ট্রাকস্যুট এর লোয়ার – টিশার্ট তে লেখা NAUTICA পায়ে স্নিকার।
# সকাল ১১ টায় শহীদ মিনারে ১৩০০ থেকে ১৪০০ লোক জমায়েত তাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে , মঞ্চ বাধা নিয়ে বচসা পুলিসের সাথে , রাস্তা জুড়ে ব্যানার ও ফ্লাগ, কার্টুন বার বার খুলে দিলে ফের লাগিয়ে চলেছে বিজেপির সমর্থকরা , এর পর পাল্টা রাস্তায় নেমে পরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে তৃণমূলের একটি ঘোষ্ঠী , টেনশান আরও বাড়ে।
# ১১.৩০ মিনিটে বিরাট পুলিশ বাহিনী আসে , অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সহ তিন থানার আই সি।
# দুপুর ১২ টা হাজার কয়েক মানুষ ধর্মতলা চত্বরে , রাহুল সিনহা থেকে পাশের বিজেপি প্রার্থী রা সকলেই হাজির। বিজেপি সমর্থকরা আরও উৎসাহিত হতে শুরু করেন । হাওড়া ও শিয়ালদাহ থেকে পর পর ট্রেন আসছে আর ভোরে উঠছে শহীদ মিনার চত্বর ।
# দুপুর ১ টা ট্যাবলো গাড়ী এসে থামে শহীদ মিনারের কাছে। শুরু হয় নেতাদের তৎপরতা।
# দুপুর ২ টো আসেন রুপা , লকেট ,বাবুল সুপ্রিয় , সমীক , রাজু সহ একঝাঁক নেতা , তখন লোক সংখ্যা প্রায় ৮ হাজারের কাছে ।
# দুপুর ৩ টে দিলীপ ঘোষ সহ আরএসএসের অনেক নেতারা এলেন।
# দুপুর ৩ টে তে এলেন অমিত শাহ শুরু করলেন যাত্রা , বড় লরিতে সুসজ্জিত ভাবে সাজানো ফুল ও বাটামে বাধা ব্যানার। এমন ভাবে প্রস্তুত যাতে ভিভিআইপির দাঁড়াতে অসুবিধা না হয়।
# বেলা ১২ টা থেকেই আসে অমিত শাহের অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মীরা , শুরু হয় বাধা নিষেধ ।
# জমা করা ছিল আগে থেকেই যে কারা কারা উঠবেন ওই ট্যাবলোতে , সেই অনুযায় এক এক করে উঠে পরে ৩ টার সময়।
# নিরাপত্তার বলয় – ট্যাবলো ঘিরে প্রায় ৫০ মিটারের ব্যাসার্ধ তৈরী করা হয়েছিল কর্মী সমর্থক ও নিরাপত্তা কর্মী দের দিয়ে অমিত শাহ ছাড়া অন্য ভিভিআইপিদের জন্য ।
# ধর্মীয় ভক্ত কুল থেকে সাধু সন্ন্যাসী , জ্যোতিষী থেকে মাতব্বর দের চোখে পড়ার মতো অবস্থান ।
# ছোট বড় গাড়ি তে ভোরে ওঠে ধর্মতলা চত্বর , সাধারণের চলা দায় , সরকারি বাস ডিপো হয়ে ওঠে অস্থায়ী বিজেপি দফতর।
# চা থেকে ঠান্ডা , রোল থেকে লস্যি বিকোচ্ছে দেদার , নেতা দাদারা বড় উদার – শুধু জানতে চাইছে “কত লোক ?” যেই উত্তর সাথে সাথে আবদার মেটানো শেষ- এ এক কল্পতরুর মেলা।
# বেলা গড়িয়ে বিকেল ৫ টার দিকে আমরা খবর পেলাম – তৃণমূল ছাত্র ছাত্রী রাস্তা জুড়ে বসে আছে এই যাত্রা আটকে দেবে।
# বিদ্যাসাগর কলেজ , কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ স্ট্রিট এর পার্কে দুপুর থেকেই ছাত্র ছাত্রীরা ছিল চোখে পড়ার মত।
# আমাদের প্রতিনিধি যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছন থেকে ঢোকে তখন দেখা যায় সদর গেট আটকেছে ছাত্র ছাত্রীরা , চলছে স্লোগান – হঠাৎ এক দল ধেয়ে এলো , মুখে অসভ্য ভাষা সাথে লাঠি থেকে ঢিল হাতে। তবে বলা বাহুল্য টিএমসিপির তরফেও মুখের ভাষা সহ সব কিছু পাল্টা দিতে ছাড়েনি।
# আমাদের প্রতিনিধি ছবি তুলতে গেলে ধেয়ে আসে টিএমসিপির দলবল। লুকিয়ে কিছুটা চেষ্টা , তবে ইট বৃষ্টি আর ছোট ছুটি । আমরা সহ কিছু সংবাদ মাধ্যম পালিয়ে নিজেরা নিরাপত্তা নিই।
# বিকেল ৫.৩০ মিনিট দু পক্ষের ধস্তা ধস্তি শুরু , তারপর ইট বর্ষণ, কলেজের গেটের ভিতর ঢুকে পরে বিজেপির তারা খেয়ে।ভিতর দিয়ে চলে অশ্রাব্য গালি গালাজ , বিজেপির কর্মী সমর্থক রায় পাল্টা জবাব দেন একই ভাষা তে ।
# কলেজের বাইরে রাখা তিনটি বাইক উন্মুক্ত বিজেপির কর্মী সমর্থক আগুন ধরিয়ে দেয় , বেশ কয়েক জন আহত হয় উভয় পক্ষের।
# ৬ টার সময় কলকাতা ইউনিভার্সিটির গেটের সামনেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় , পুলিশ নির্বিকার।
# ওপর দিকে কলেজ স্ট্রিট এর গেটের সামনে উদ্ধত বিজেপির সমর্থকরা কয়েকজন ছাত্র সহ স্থানীয় তৃণমূলের নেতা কর্মী দের তারা করেন। শুরু হয় উভয় পক্ষের ইট বর্ষণ।
# আস্তে আস্তে অমিত শাহের ৱ্যালি এগিয়ে আসে , একদিকে বাবুল আর অন্য দিকে দিলীপ ঘোষ আর পাশে দাঁড়ানো রাহুল সিনহা , বিক্ষোভ আরও বেড়ে যায় চলতে থাকে খন্ড যুদ্ধ। পুলিশ গার্ড রেল দাঁড় করিয়েও কোন সুরাহা করতে পারে নি। অসহায় হয়ে দুই পক্ষের ঠেলা ঠেলি খেলেন।
# অদ্ভুদ বেপার অমিত সহ , দিলীপ ঘোষরা দেখলেন ফুট পাতে চরম বিসিঙ্খলা চলছে তাও কোনো হেলদোল নেই।
# খবর যায় সাথে সাথে , এলো বড় পুলিশ বাহিনী , সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার
# বলার কথা যখন কলকাতা ইউনিভার্সিটি সামনে থেকে ট্যাবলো বেরিয়ে যাচ্ছে তখন গাড়িতে থাকা নেতা নেত্রীরা দলের পারফর্মেন্স দেখে বড় তৃপ্তি লাভ করলেন , তাদের চেহারাতে কোনো ব্যস্ততা প্রকাশ প্রায়নি ।
# এর পর পুলিশ দুই পক্ষকে তারা করে প্রায় ১০০ জনকে আটক করেছে
# বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে মুখ্যমন্ত্রী এলেন ঘটে যাওয়া ঘটনার ২ ঘন্টা পর।
# মুখ্যমন্ত্রী এলেন কলকাতা ইউনিভার্সিটির সামনে দেখলেন বিদ্যাসাগর বেশ কয়েক খন্ডে টুকরো হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা তুলে ধরেন মূল মস্তকটি , বাকি অন্য -মমতা নিজে কুড়িয়ে তোলেন- জুড়ে দেখতে চাইলেন। বললেন হাই পাওয়ার কমিটি বসানো হবে ,কারা থাকবেন সেটা পরে জানানো হবে ।
# অমিত, দিলীপ, রাহুল বিপক্ষে মমতা ব্যানার্জী বাদানুবাদ শুরু হলো টিভিতে প্রচারে

ওপিনিয়ন টাইমস খোঁজ করলেন কেন হলো ? কার লাভ কি ভাবে –
১) সকাল থেকেই জানতেন কলকাতা পুলিশ যে বিবাদ শুরু হয়েছে
২) পুলিশের বক্তব্য অসমর্থিত সূত্রে জানা যায় যে , শহীদ মিনারে সভা তার পর ৱ্যালি , তাহলে ডেকার লেনের থেকে লেলিন সরণি কেন থাকবে প্রচার। কেন এই বৈষম্য মূলক আচরন ?
৩) তৃণমূল বা পুলিশের এই কাজ করছিলেন তাদের কেন বাধা দেয়া হয়নি ওপর মহল থেকে , তাহলে কি এটা পূর্ব পরিকল্পিত ?
৪) একটি দল যখন কোন প্রকার প্রচার করে তখন পাল্টা প্রচার করা যায় না সেই একই জায়গায় , পুলিশ নির্বিকার কেন ?
৫) ধর্মতলা বা কলেজ স্ট্রিট দুই জাগায় কিভাবে ছাত্র সহ তৃণমূলের নেতা জমায়েত হলেন এই ৱ্যালি বাধা দিতে। পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ কি করছিলেন ?
৬) তৃণমূলের বিক্ষোভ দেখে অমিত শাহ বিজেপির দেশের সভাপতি থেকে দিলীপ রাজ্য সভাপতি কেন বাধা দিলেন না তাদের কর্মীদের ?
৭) বিজেপি নেতৃত্ব যদি দায়ত্বশীল হতেন তাহলে অনেক আগেই অন্য ব্যবস্থা নিতে পারতেন , নির্বাচন কমিশন কে জানাতে পারতেন , করেন নি কেন ?
৮) ওই সভায় নির্বাচন কমিশনের দুটি গাড়ি ছিল , তারা যখন জানতে পারলেন সকাল থেকে এই সমস্যা তখন পুলিশ কেন নির্দেশ দিলেন না উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ?
৯) যদি ছাত্র ছাত্রী রা বিক্ষোভ দেখায় তাহলে প্রাপ্ত বয়স্ক রাজনৈতিক কর্মীরা কি পরিচয় দিলেন।কারা এরা এভাবে জন বহুল রাস্তায় লাঠি , বোতল ,ইট বাসের ব্যাকারী সহ অনেক কিছুই ছিল তাদের হাতে, এরা কারা , অনেকেই হিন্দি ভাষায় গালাগালি দিচ্ছিলেন – এরা কারা ?
১০) তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষ আহত হলেও তারা উভয়েই এই কাজের জন্য গর্বিত , চললো খোঁজ খবর রাতের দিকে আর কলেজ স্ট্রিট এ এদের দেখা না গেলেও বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি এসে এদের তুলে নিয়ে যায় ,এরা কারা ?
১১) রাজ্যে ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস কোনো এই ধরণের বিপদ তৈরিতে উৎসাহিত করলেন। কেন তারা যখন জানেন – ছাত্র ছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাবে যেমন মমতার কনভয় এর সামনে আরএসএসের লোকজন জয় শ্রীরাম বলেছিলেন তারই পাল্টা দিলো তৃণমূল , কি কারণে এই উদ্যোগের রাস টানলেন না
১২ ) পুলিশ উভয় পক্ষের সব জেনে কেন কোনো ব্যবস্থা নিলো না ?

শেষ করা যাক এই ভাবে : হয়তো উভয় দল অনুমান করছেন ভোট কাটাকাটিতে বোধ হয় অন্য কেউ বেরিয়ে যেতে পারে তাই এই পরিকল্পনা। খানিক টা সস্তা প্রচারে বাংলার রাজনীতি নকশাল আমলের মত নিন্ম মুখী হল আর একবার ।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: