Nation

ছেলের শেষ দেখা পেল না রামপুকার, শুধু অঝরে কেঁদে গেলেন ফোনের ওপারে !

অসুস্থ এখন রামপুকার, সরকার সাহায্য না করলে যে না খেয়েই মারা যাবে

@ দেবশ্রী : মানুষ কতটাই না অসহায়। মাঝে কেবল কয়েক মিটারের দূরত্ব। কিন্তু তা ডিঙোনোর কোনো উপায় নেই। ওঁরা কাঁদছেন। কিন্তু ছুঁতে পারছেন না। দশটা মিনিট কেটে গেল শুধুই চোখের জলে। স্বভূমে ফিরেও ঘরে ফিরতে না-‌পারা রামপুকার কাঁদছেন, ব্যবধানের ওপারে কাঁদছেন তাঁর স্ত্রী, কন্যা। ‘‌আমরা সবাই কাঁদছিলাম। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরতে চাইছিলাম তখন। কিন্তু ওই কয়েক মিটার দূর থেকেই ওদের পেলাম। মাত্র মিনিট দশেকের জন্য।’‌ ফোনে বলছিলেন রামপুকার পণ্ডিত।

কে রামপুকার?‌ সে এ দেশেরই হতভাগ্য এক পরিযায়ী শ্রমিকদের মুখ। দিল্লির নজফগড় থেকে হাঁটতে শুরু করেছিলেন ১২০০ কিমি দূরে বিহারের বেগুসরাইয়ে তাঁর বাড়িতে যাবেন বলে। কিন্তু পুলিশ আটকে দিয়েছিল নিজামুদ্দিন সেতুর ওপর। ওইখানেই তাঁকে দেখতে পান পিটিআইয়ের আলোকচিত্রী অতুল যাদব। ফোনে কথা বলতে বলতে অঝোরে কাঁদছিলেন রামপুকার। হাউমাউ করে কাঁদছেন বছর চল্লিশের একজন মানুষ!‌ দেখে থমকে যান অতুল। তাঁর ছবি তোলেন, কথা বলেন। জানা যায়, তাঁর ছোট্ট ছেলেটি মুমূর্ষু, বাড়ি ফিরতে তাই মরিয়া বাবা রামপুকার।

এরপর অতুলের তোলা সেই ছবি সারা দেশের নজরে এসেছে। শেষ পর্যন্ত এক সহৃদয় মহিলার অর্থসাহায্যে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে পৌঁছতেও পেরেছেন বেগুসরাই। কিন্তু কী হল ? শেষ দেখা আর হল না। বাড়িতে ফিরে সেই ছেলেকে আর দেখতে পাননি। আছে স্ত্রী, একটি মেয়ে।

কিন্তু এখনই ঘরে যাওয়ার উপায় নেই। বেগুসরাই শহরে আরও অনেকের সঙ্গে তাঁকে রাখা হয় একটি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে। সেখান থেকে অসুস্থ, শ্রান্ত রামপুকারকে নিয়ে আসা হয় খোদাবন্দপুর ব্লকের হাসপাতালে। রবিবার সেখান থেকে তাঁর লালারস সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পরীক্ষার জন্য। রিপোর্ট এখনও আসেনি। ক্ষীণকণ্ঠে রামপুকার বলছিলেন, ‘‌চোখ খুললে মাথা ঘোরে। বড় দুর্বল লাগে।’‌ তাঁকে দেখতে এসেছেন তাঁর স্ত্রী, মেয়ে। দূর থেকেই দেখা। আকুল হয়ে দেখা। ‘‌আমার স্ত্রী, মেয়ে এসেছেন ছাতু, চিঁড়ে, শসা নিয়ে। কিন্তু আমি যে নিজে খেতেও পারি না।’‌ পরে হাসপাতালের এক কর্মী খাইয়ে দিলেন ভাত-‌ডাল।

তিনি আরও বলেন, ‘‌আমি যে বাড়ির একমাত্র রোজগেরে মানুষ। আর আমিই শুয়ে আছি।’‌ রামপুকারের গলায় সীমাহীন উদ্বেগ। তাঁর প্রার্থনা, ‘‌সাহায্য চাই। এই দুঃসময়ে সরকার আমার জন্য কিছু করুক, আমার মতো মানুষদের জন্য কিছু করুক। না-‌হলে আমরা গরিবরা স্রেফ মরে যাব।’‌ ‌

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: