Analysis

ছেড়ে গেলেন অভিভাবক, কংগ্রেস হারালো তাঁদের প্রিয় ছোড়দাকে

অবসান হল কংগ্রেস রাজনীতির এক বিরাট অধ্যায়

দেবশ্রী কয়াল : চিরতরের জন্য বিদায় নিলেন সোমেন মিত্র। গতকাল বুধবার রাত ২টো নাগাদ বেলভিউ নার্সিংহোমে প্রয়াত হন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকাহত সবাই, একপ্রকার দিশেহারা অবস্থা সকল কংগ্রেস কর্মীদের। মৃত্যুকালে সোমেন মিত্রের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। অসুস্থতার কারণে গত ২১ জুলাই থেকে হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন ছিলেন সোমেনবাবু। কিন্তু ৯ দিনের মাথায় অসুস্থতার কাছে হার মানলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

জানা যাচ্ছে পুরনো পেসমেকার বদল করার জন্য নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ডায়ালিসিস করতে হচ্ছিল। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। এমনকি বুধবার নার্সিংহোমের মধ্যে হাঁটাচলা করছিলেন তিনি। সবার সাথে কথাও বলছিলেন তিনি। কিন্তু বুধবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। রাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে টুইট করে সভাপতির প্রয়াণের কথা জানানো হয়। তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনীতিতে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। তাঁর মৃত্যুতে প্রদেশ কংগ্রেস-সহ বাংলার রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে।

১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন সোমেন্দ্রনাথ মিত্র। কিন্তু সর্বত্র সোমেন মিত্র নামেই পরিচিত ছিলেন সকলের প্রিয় ছোড়দা। ১৯৭২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিয়ালদহ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে দিয়ে প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস নামে নতুন দল গঠন করেন। এরপর ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন সোমেন বাবু। সেই বছরই লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। তবে পুনরায় ২০১৪ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসেন তিনি। ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু আজ তাঁর মৃত্যুতে কংগ্রেস রাজনীতিতে একটি বড় অধ্যায়ের অবসান হল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: