Nation

জার্মানিতে চিকিৎসকরা পাচ্ছেন না পিপিই, মাস্ক, নগ্ন হয়েই জানালেন তাঁর প্রতিবাদ

যদি চিকিৎসকরাই না সুস্থ থাকেন তাহলে বাকিদের চিকিৎসা করবে করা ?

@ দেবশ্রী : এই মহামারীতে প্রথম সারিতে যাঁরা করোনার সাথে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করে চলেছেন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরাই এখন পাচ্ছেন না কোনো রাখা কবচ অর্থাৎ পিপিই এবং মাস্ক। আর এই অভিযোগে এক অভিনব প্রতিবাদে শামিল হল জার্মানির চিকিত্‍সকদের একটি গোষ্ঠী। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের শেষ, অর্থাত্‍ জার্মানিতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ পড়ার সময় থেকেই তাঁরা ক্রমাগত পিপিই বা পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্টের জন্য আবেদন করে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাতে কোনও ফল হয়নি।

‘ব্ল্যাঙ্কে বেডেনকেন’ বা ‘নগ্ন উদ্বেগ’ নামের এই গোষ্ঠীটি দাবি করেছে নগ্নতাকে তাঁরা প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করেছেন তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা পরিস্ফুট করার জন্য। প্রত্যেক চিকিত্‍সক তাঁদের কর্মক্ষেত্রেই নগ্ন হয়ে ছবি তুলেছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি চিকিত্‍সক অ্যালান কলম্বি সম্প্রতি পিপিই অকুলান হওয়ার প্রতিবাদে নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ জানান, এবং নিজেদের ‘ক্যানন ফোডার’ অর্থাত্‍ বলির পাঁঠা বলে অভিহিত করেন। ‘ব্ল্যাঙ্কে বেডেনকেন’ গোষ্ঠীর প্রতিবাদ কর্মসূচি অ্যালান কম্বলির প্রতিবাদের ধরন দ্বারাই উদ্বুদ্ধ বলে জানা গিয়েছে।

একজন প্রতিবাদকারী চিকিত্‍সক ইয়ানা হাউসম্যান ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে জানিয়েছেন, তাঁরা রোগীদের প্রতি তাঁদের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হতে চান না। কিন্তু তাঁরা সুরক্ষিত না হয়ে সেই কর্তব্য পালন করতে পারবেন না কোনোমতেই। জার্মানির মাস্ক এবং পিপিই উত্‍পাদনকারী সংস্থাগুলি তাদের উত্‍পাদনপদ্ধতি উন্নত করলেও বিপুল চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে তারা হচ্ছে ব্যর্থ। বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরই দাবি, তারা চাহিদা অনুসারে ফিল্টার মাস্ক, অ্যাপ্রন, গ্লাভস ইত্যাদি পাচ্ছেন না। তাছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে জীবাণুনাশক, মাস্ক ইত্যাদি চুরি যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মান প্রশাসনের দাবি, এর নেপথ্যে কোনও অপরাধীদের গোষ্ঠী সক্রিয়। হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বা কিভাবে কাজ করবেন সেই নিয়ে জাগছে প্রশ্ন।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: