West Bengal

জয় শ্রীরামে আতঙ্ক সৃষ্টি হল, ক্যানিং লোকালে যুবককে মারধর, ট্রেন থেকে ফেলার দেবার হুমকি !

অল্পবয়েসী কিছু ছেলে তাদের সাথে মাঝ বয়েসী একজন তারা যায় শ্রী রাম বলতেই হবে নাতো রেল লাইনে চলতি ট্রেন থেকে ফেলে দেবে: শাহরুফ হালদার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা।

ট্রেনের মধ্যে ধুন্ধুমার জয় শ্রীরাম স্লোগানকে ঘিরে চলন্ত ট্রেনে । ওই স্লোগান না দেওয়ায় তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে, এক মাদ্রাসা শিক্ষকের অভিযোগ।অভিযোগ ওই যুবকের যে পার্ক সার্কাস স্টেশনে তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলেও দেওয়া হয় বলে । শাহরুফ হালদারের অভিযোগ যে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই কাজ করেছে। ‘হিন্দু সংহতি’যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কিন্তু । ‘হিন্দু সংহতি’র পক্ষে জানানো হয় জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ায় তাদের সমর্থকদের পাথর ছুঁড়ে জখম করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে ওই সংগঠন। গোকহীন ২৪ পরগনার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

শাহরুফ হালদার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর চুনাখালির বাসিন্দা , অঞ্চলের তার সুনাম আছে মিশুকে বলে। বছর কুড়ির শাহরুফ আরামবাগের হিয়াতপুর হিজবুল্লা নবাবিয়া সুলতানিয়া আশরফিয়া মাদ্রাসার আরবির শিক্ষক। ওই মাদ্রাসাটি ব্যক্তি উদ্যোগে চলে । শাহরুফ বলেন , রমজানের ছুটি কাটিয়েগত ২০ জুন বৃহস্পতিবার তিনি বাসন্তীরবাড়ি থেকে মাদ্রাসা কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। সেই দিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি ক্যানিং স্টেশন থেকে শিয়ালদহমুখী ট্রেনে ওঠেন কলকাতা আসার জন্য।‘‘সে দিন ক্যানিং এবং তালদি স্টেশন থেকে গোটা ট্রেনেই হিন্দু সংহতির বেশ কিছু কর্মী সমর্থক উঠেছিলেন।ট্রেন বেশ কয়েকটা স্টেশন পেরোতেই চিৎকার চেঁচামেচি কানে আসতে থাকে। বোঝা যাচ্ছিল, পাশের কামরায় কোনও কিছু নিয়ে গন্ডগোল হচ্ছে।তবে কী নিয়ে প্রথমে তা কিছু বুঝতে পারিনি’’ বলেন শাহরুফ।

শাহরুফ আরো বলেন কামরাতেও গন্ডগোল শুরু হয়ে যায়। শাহরুফ অভিযোগ করেন ,‘‘হিন্দু সংহতির কয়েকজন আমাকে গালিগালাজ করা শুরু করে। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করে। ওরা প্রথমে ৫ জন ছিল কিন্তু পরে বেড়েযায় , ১০-১৫ জন ঘিরে ধরে আমাকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকে।”শাহরুফের দাবি, তিনিজয় শ্রীরাম বলতে চাননি । ফলে মারধর আরও বেড়ে যায়। ট্রেন তত ক্ষণে ঢাকুরিয়া স্টেশন পেরিয়েছে। সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের কাছে অভিযোগে ওই যুবক জানিয়েছেন, তিনি কোনও রকমে পার্ক সার্কাস স্টেশনে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। শাহরুফ কে ট্রেনের কামরাতেই আটকে রাখা হয়। তারপরে ধাক্কা মেরে প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেওয়া হয়। শাহরুফ এ দিন ফোনে বলেন, ‘‘আমার পরনে ছিল লম্বা কামিজ-পাজামা, মাথায় ছোট টুপি এবং মুখে দাড়ি।’’ চলতে থাকে চোর থাপ্পড় , তাঁকে চিহ্নিত করেই মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ শাহরুফের।শাহরুফের দাবি, তাঁকে প্ল্যাটফর্মের লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে তপসিয়া থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয় বালিগঞ্জ রেল পুলিশ থানাতে। সেখানে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।

রাজ্য জুড়ে প্ৰশ্ন উঠেছে কেন এই ধরণের ঘটনা হবে। সেই হিন্দু সংহতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমাদের কেউ কাউকেই জোর করে জয় শ্রীরাম বলতে বলেনি। বরং আমাদের উপরেই আক্রমণ করা হয়েছিল।” তাঁর অভিযোগ,যে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যদের মতো তাঁদের কর্মীরাও ট্রেনে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাতে বাধা দেওয়া হয়। দেওয়া হয়হুমকি। পার্ক সার্কাসে ট্রেন ঢোকার আগে ফোন করে কিছু যাত্রী ওই এলাকার কিছু লোককে খবর দিয়ে ডেকে পাঠায় বলে দেবতনুর অভিযোগ। তাঁর কথায়: ‘‘ওরা বাইরে থেকে আমাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। তাতে আমাদের বেশ কয়েক জন আহত হয়। সুপ্রিয় সর্দার নামে তালদির বাসিন্দা এক যুবকের হাতে পাথর এসে লাগে। সে গুরুতর জখম হয়। সুপ্রিয়ও শিয়ালদহ জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করেছেন।”

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য এর অভিযোগ মানতে চাননি শাহরুফ। কোন ফোন কাওকেই করা হয় নি , কল লিস্ট পরীক্ষা করেধলেই বুঝা যাবে। আপাতত ভয়ে রয়েছেন চুনাখালির বাড়িতেই রয়েছেন ওই যুবক।ডায়মন্ডহারবারের একটি মাদ্রাসাতে পড়াশোনা করে আরামবাগে শিক্ষকের কাজে যোগ দেন, চার ভাই এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় শাহরুফ । শাহরুখ বলেন , আমি রাজনীতি থেকে এনেক দূরে থাকি , আমাদের বাড়ির কেও রাজনীতি করে না। রেল পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনারতদন্ত শুরু করেছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন হিন্দু সংহতির একটি সভা ছিল শ্যামবাজারে। আর সেই সভায় যদি দেবার জন্য যাচ্ছিলেন হিন্দু সংহতির বেশ কয়েক জন। তারাই এই ঘটনা করে বলে অনুমান।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: