Nation

দল বেঁধে আসছে পঙ্গপাল, সাবধান !

পড়শি রাজ্য রাজস্থান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল প্রবেশ করছে মধ্যপ্রদেশে

পল্লবী : পাকিস্তানে যে পঙ্গপালের তান্ডবে জারি হয়েছিল জরুরি অবস্থা এবার তার নজর পড়লো ভারতে। একেই করোনা তে বন্ধ চাষ-আবাদ আর হলেও ব্যবস্থা নেই সেই উৎপাদিত শস্যের বিকিকিনি -এর রাস্তা। তারপর ফসলের কাল হয়ে এবার পঙ্গপালের দাপট। পড়শি রাজ্য রাজস্থান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল প্রবেশ করছে মধ্যপ্রদেশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২৭ বছরে এই প্রথম এত বড় বিপর্যয় হতে চলেছে মধ্যপ্রদেশে। বর্ষার আগমন না হওয়া পর্যন্ত এই সঙ্কট বাড়বে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

মূলত রাজস্থানের বেশ কিছু এলাকায় ফসল নষ্ট করার পর মরুভূমি থেকে মধ্যপ্রদেশে ঢুকে পড়েছে পঙ্গপালের দল। জানা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশের বুধনিতে প্রবেশ করেছে পঙ্গপালের দল। প্রথমে নিমুচ জেলা দিয়ে প্রবেশ করে এই পতঙ্গের ঝাঁক মালওয়া নিমারের কিছু এলাকা পার করেছে। আপাতত ভোপালের কাছাকাছি রয়েছে এই পঙ্গপালের ঝাঁক।এর দাপটে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে চাষীভাইদের। পঙ্গপালের দাপটে নষ্ট হতে পারে বিপুল পরিমাণ ফসল। কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার মুগ ডালের ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে ফল-শাকসবজি এবং ফুলের নার্সারিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি পঙ্গপালের উত্‍পাতে মরিচ এবং তুলো চাষেও কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি বিভাগের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঢোল কিংবা থালা-বাটি বাজিয়ে বা চিত্‍কার-চেঁচামেচি করে, অর্থাত আওয়াজ করে পঙ্গপালের ঝাঁককে ক্ষেতের থেকে দূরে রাখার কথা বলা হয়েছে সেখানে। কৃষি বিভাগের আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন যে সন্ধে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পঙ্গপালের দল বিশ্রামের জন্য যে কোনও এলাকায় থামতে পারে। সেই সময় চাষিরা যেন পঙ্গপালের ঝাঁকের গতিবিধির উপর নজর রাখেন, সে কথাও বলেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের কৃষি দফতরের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের চারটি দল ক্ষেতের মধ্যে ট্রাক্টর এবং দমকলের গাড়ির সাহায্যে রাসায়নিক স্প্রে করা শুরু করেছে। মধ্যপ্রদেশের কৃষি বিভাগের তরফে চাষিদের পঙ্গপালের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। সরকার তরফেও নানান কাজ শুরু হচ্ছে। পঙ্গপালের হাত থেকে শস্য ফসল না বাঁচাতে পারলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: