Big Story

দশমীতে আবারও হবে শিলান্যাস রাম মন্দিরে, উচ্চ কণ্ঠে জানালেন রাজর্ষি চৌধুরী, অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা

এই ভূমিপূজা আসলেই কিন্তু রাজনৈতিক শিল্পন্যাস, প্রধানমন্ত্রীর লাইম লাইটের আসার ইচ্ছামাত্র

দেবশ্রী কয়াল : অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাষ্ট্র অধ্যক্ষা রাজর্ষি চৌধুরী, ওপিনিয়ন টাইমসের সাথে এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে তুলেছেন একাধিক অভিযোগ, জানিয়েছেন একাধিক দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। গত ৫ই আগস্ট অযোধ্যায় হওয়া ভূমিপূজাকে কিন্তু ভূমিপূজা বলতে মোটেও রাজী নন রাজর্ষি চৌধুরী। তাঁর মতে, এদিনের এই পূজাকে রাজনৈতিক শিল্পন্যাস বলা যেতে পারে। এটি একটি স্ট্রাটেজির দিন ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, ” আসল নিয়ম মেনে দশনামী মহাপন্ডিত দের দিয়ে যে পূজা হয় তাঁকেই আসলে ভুমিপুজা বা শিল্পন্যাস বলে। কোনো রাজনীতিবিদের হাতে হয় পূজাকে আর যাই হোক ভুমিপুজা বলা যায় না। কিন্তু তাও আমরা এই পূজাকে মেনে নিতে পারি, যদি মুখ্যমন্ত্রী এই দেশকে হিন্দুরাষ্ট্র বলে ঘোষনা করেন। ”

এছাড়া এই দিনের পূজাকে ঘিরে আরও বেশ ঘোরতর বড় অভিযোগ হানেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষা রাজর্ষি চৌধুরী। তিনি অভিযোগ হেনে বলেন, এদিনের এই পূজাতে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা কী আদেও এই আন্দোলনের কেউ ? এত গুলো বছর যাবৎ কোর্টে যে লড়াই হয়েছে তাঁর একটাতেও কী তাঁরা ছিলেন ? এমনকী নভেম্বর মাসে যখন মহামান্য আদালত সুপ্রিম কোর্ট রায় দান করে তখনও কিন্তু এঁদের কেউ কোর্টে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু আজ তাঁরা পূজার দিনে আমন্ত্রিত। অথচ যাঁরা এই আন্দোলন চালিয়েছেন, যাঁরা বলিদান দিয়েছেন তাঁদের কেউ কিন্তু এই ভূমিপূজার দিন আমন্ত্রিত হননি। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার বা ট্রাস্টের মানুষরা তো অখিল ভারত হিন্দু মহাসভাকে অবাঞ্ছিত বলে মনে করে।

ওপিনিয়ন টাইমস এর সাথে এক্সক্লিউসিভ ইন্টারভিউতে রাজর্ষি চৌধুরী বলেন, আমরা কখনও পাবলিসিটির পিছনে যাইনি। আমাদের সময় ভি সাভারকার থেকে শুরু করে, মদন মোহন মালভিয়া সবাই অনেক কাজ করে গেছেন মানুষের জন্যে। তাঁর মতে আজ যে পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাব ভারতের অংশ তাও কিন্তু হিন্দু মহাসভার কারণেই। কিন্তু ওই কাজ আমরা করে যাই আর নাম কিন্তু অন্য কারোর হয়। আর এই সব তো জওহরলাল নেহেরুর সময় থেকেই হয়ে আসছে, আর এখন খানিক এই সব ক্ষত্রে অভ্যস্ত আমরা। এ ঠিক ‘ নেপোয় মারে দই’ এর মতো হয়ে গেছে। তবে তাতেও আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের শুধু একটাই দাবি, এই রাষ্ট্রকে যেন হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজর্ষি চৌধুরীর মতে, এই দিনের এই পূজাকে কিছুতেই তিনি কিন্তু শুভ বলে মনে করতে পারছেন না। কারন যাঁদের বলিদানের উপর আজকের এই পূজা হচ্ছে তাঁদের পরিবারের বা কোনো পরিজন কেউই কিন্তু ছিলেন না এই পূজাতে। আমন্ত্রিত ছিলেন না লালকৃষ্ণ আডবাণী। এটিকে শুধুমাত্র একটা রাজনৈতিক ড্রামা ছাড়া আর কী বা বলা যেতে পারে ! তাই আমাদের অর্থাৎ অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার একটি পরিকল্পনা রয়েছে যে, শঙ্কর আচার্য ও দশনামী পন্ডিত দ্বারা হিন্দু মতে রাম জন্মভূমির উপর একটি কমিটি গঠন করা হবে, তারপর অনুমতি নিয়েই বিজয়া দশমীর দিন পূজা করতে চাই। কারন সেদিনই শ্রী রাম নিধন করেছিলেন রাবণের।

এদিন অভিযোগ হেনে তিনি বলেন, এই যে ট্রাস্টটি তৈরী হয়েছে তাতে কিন্তু হিন্দু মহা সভার কোনো সদস্য ছিলেন না, যাঁরা আসলে এই পুরো কোর্টের লড়াইয়ে ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন নেই ? কারন একটাই যে যখন রাজত্ব করে সে সেভাবেই কিন্তু ইতিহাস চলে। আজ যাঁরা বলিদান করেছেন তাঁরা কোথায়, তাঁদের পরিচয় এখানে কোথায় ? তাঁদের কারোর কিন্তু কোনো নাম নেই। আমরা কিন্তু কোনো শ্রেয় চাইনি। তবে এদিনের এই পূজা যদি হিন্দু ধর্ম মতে, যেভাবে পূজাটি হওয়া উচিত ছিল সেভাবে হলেই ভালো হতো। এত লোক দেখানো পূজা না হলেই হয়ত হতো। ভূমি শিলান্যাসের নামে রাজনীতি শিলান্যাসটা না হলেও বোধ হয় ভালো হতো।

এদিনের সাক্ষাৎকারে বারবার সকলের অধিকারের কথা বলেছেন অখিল ভারত হিন্দু মহা সভার রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষা রাজর্ষি চৌধুরী। তিনি বলেন সংবিধানের আর্টিকেল ১৪ এ লেখা আছে, Equal Rights For All সেখানে মানুষ যখন নিজেকে আলাদা করে সোশ্যালিস্ট বলে তাহলে আলাদা করে কোনো জাতির বা কোনো ধর্মের কোনো মন্ত্রণালয় কেন হবে ? আর এই আইন তো ইংরেজদের করা। আমাদের সনাতন ধর্মের যে, সংবিধান সেটাই কিন্তু আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। হিন্দু কিন্তু একটা সভ্যতা, কেবল মাত্র কোনো ধর্ম নয়। সেটা হল সন্মান জানানো তাঁর প্রতি, এটা একটা পরিকাঠামো। আমরা হিন্দু রাষ্ট্র চাই, সংবিধান বিরোধী কোনো কাজ কিন্তু আমরা চাইছি না।

বারবার রাজর্ষি চৌধুরী যখন হিন্দু রাষ্ট্রের কথা বলে গেছেন তখন তাঁকে যখন ভিন্ন জাতির অস্তিত্বের কথা প্রশ্ন করা হয়, তাঁদের কী হবে জানতে চাওয়া হয় বা এনআরসি এবং এনআরপি হলে কী হবে ? তখন তিনি বলেন, সবার পরিচয় এবার থেকে একটাই হবে তারা হলেন ভারতীয়। আর বাবরি মসজিদ ভাঙার একটাই কারন সেটা ছিল আক্রমনের চিহ্ন, আর কোনো আক্রমন কারীর চিহ্ন আমরা এই স্বাধীন ভারতে রাখতে চাই না। কোনো নিয়ম মেনে এই মসজিদ কিন্তু তৈরী হয়নি, দখলের উদ্দেশ্যে, হিন্দুদের মনোবলকে ভেঙে নিজেদের শাসন জারি রাখতেই বাবর তৈরী করেছিল এই মসজিদ। কিন্তু এই মন্দির আমরা আইনত প্রতিষ্ঠা করছি। আর আমরা তো সেই আগের স্বর্ণ যুগে ফিরে যেতে চাই, আর সেখানে ফিরে যেতে গেলে, সেই স্থাপত্য গুলিকে তো ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা সবাই হিন্দু সভ্যতাকে অটুট রাখতে চাই। এটা কিন্তু রাজনীতি করার কোনো জায়গা নয়।

এরপর অভিযোগ হেনে রাজর্ষি জি বলেন, যাঁদের যেটা কাজ তাদের কিন্তু সেটাই করা উচিত। যেমন মন্দির শিলান্যাস করার কর্তব্য কিন্তু পন্ডিতদের, মহা পুরুষদের। সেই কাজ নরেন্দ্র মোদির নয়। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর কাজ দেশ চালানো, সেটাই তাঁর করা উচিত। এদিনের কার্যকলাপ কেবল লাইম লাইটের সামনে আসার ইচ্ছা। এই ভূমি পূজার পিছনে কিন্তু শিখ সম্প্রদায়ের অনেক অবদান ছিল। কিন্তু সেই শিখ সম্প্রদায় আজ কোথায় ? তারা কিন্তু উপস্থিত ছিল না পূজাতে।

আর দেশ হিন্দু রাষ্ট্র হলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে সেই হিন্দু রাষ্ট্র কিন্তু হতে হবে, অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার হাত ধরেই। নাহলে কিন্তু সমস্যা হয়ে যাবে। যেমনটা ঠিক এদিন হয়েছে। এই হিন্দু রাষ্ট্রে কিন্তু কোনো ধর্ম বা জাতি নয়। সেখানে সবাই কিন্তু হিন্দুস্থানী হবে। সেটিই হবে সকলের পরিচয়। আর এখনও এখানে ব্রিটিশদের বানানো আইনই রয়েছে, নতুন আইন আনতে হবে। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই বিজেপির সাথে একমত নই। তাঁদের বেশ কিছু অ্যাজেন্ডার আমরা যথেষ্ট প্রতিবাদ জানিয়েছি। তবে কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য সাপোর্ট করেছি। তবে এইভাবে অর্থনীতিকে জলাঞ্জলি দেওয়াকে আমরা সমর্থন জানাই না। যাঁরা জনতার স্বার্থে রয়েছেন আমরা সর্বদা তাঁকে সমর্থন জানাই। আমরা কেবল চাই এই দেশ হিন্দু রাষ্ট্র হোক।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: