Health

দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে বড়বাজারে, অন্যত্র সরানো হচ্ছে বড়বাজারের দুধপট্টি

ফিরহাদ হাকিম জানান, বড়বাজারের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

প্রেরনা দত্তঃ কলকাতার ১৬টি বরোর মধ্যে চার নম্বর বরোর বড়বাজার, পোস্তা, জোড়াবাগান ও জোড়াসাঁকো এলাকার একাংশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ওই এলাকাগুলি শুধু ঘন বসতিপূর্ণই নয়, ব্যবসায়িক কাজে লকডাউনের মধ্যেও এই সব এলাকায় প্রতিদিন ভিন রাজ্য থেকে প্রচুর পণ্যবাহী গাড়িও ঢুকছে। কলকাতার বড়বাজার এবং মেছুয়া এলাকায় করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ভাবিয়ে তুলছে রাজ্য সরকারকে। তাদের আশঙ্কা, মানুষের আনাগোনার পাশাপাশি ওই এলাকায় যে ভাবে ভিন্‌ রাজ্য থেকে ট্রাকের যাতায়াত বাড়ছে এবং ন্যূনতম সতর্কতা অবলম্বন না-করে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ চলছে, তাতে যে কোনও দিন সেখানে বিস্ফোরকের আকার নিতে পারে এই অতিমারি। তাই করোনা সংক্রমণ রুখতে অন্যত্র সরানো হচ্ছে বড়বাজারের দুধপট্টি। সোমবার বড়বাজার পরিদর্শনের পর জানালেন কলকাতা পুরসভার বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম।

কলকাতা পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, বড়বাজারের বেশ কিছু এলাকা রয়েছে কনটেনমেন্ট জোনের আওতায়। ওই এলাকায় বাড়ানো হবে সচেতনতামূলক প্রচার, জানিয়েছেন মেয়র। সোমবার চার নম্বর বরোর আওতাধীন এলাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটরদের নিয়ে বৈঠক করেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তিনি স্পষ্ট জানতে চান, কেন ওই এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জবাবে শাসক-বিরোধী, দু’পক্ষের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কো-অর্ডিনেটররাই অসহায় গলায় জানান, কেউ লকডাউন মানছেন না।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর মনে করছে, করোনা প্রতিরোধে যে প্রাথমিক সতর্কতা প্রয়োজন, সেটুকুও ওই এলাকায় মানা হচ্ছে না। এই অবস্থায় সংক্রমণ ঠেকাতে বড়বাজার, মেছুয়া এবং পোস্তায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা। প্রয়োজনে পুলিশি ব্যবস্থা আরও জোরদার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে সরকারি মহলে। বড়বাজারের পরিস্থিতি আঁচ করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দিন কয়েক আগে জানিয়েছিলেন, ওই এলাকার বাজার সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু কোথায় তা সরানো হবে, এখনও ঠিক হয়নি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ, মঙ্গলবার ওই এলাকার বাজার সংগঠনগুলির নেতাদের পুর ভবনে ডাকা হয়েছে।

বৈঠকের পরে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা পরিদর্শন করেন ফিরহাদ। পরে তিনি জানান, বড়বাজারের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এলাকায় জীবাণুনাশক ছড়ানো হচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে সকলকে সতর্কতা মানতে হবে। না-হলে প্রশাসন আরও কঠোর হতে বাধ্য হবে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: