Big Story

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাস্থ : রাজনীতি করেও করতে পারলেন না হেরে গেলেন ওদের সরলতার কাছে

NRS এ রোগীর পরিবাররা বললেন আদলে এটা রাজনৈতিক প্রচার সভা হল , বড় গেট মানে বড় হাসপাতাল , আর নীলসাদা রং মানে উন্নয়ন কি ? আমাদের কি হবে তা তো কিছু বললেন না। কেন এতো লোক কে বাইরে যেতে হচ্ছে চিকিৎসা করানোর জন্য , কেন বেশি দামের ওষুধ কিনতে হচ্ছে বলতে পারেন : বললেন দাঁড়িয়ে থাকা আজগার আলী , শ্যামল কুন্ডু ও মানিক শেখ।

১৩০ ঘন্টার জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পর দাবি মেনে নিল রাজ্য সরকার। নবান্নের চিঠি NRS-এ পৌঁছল আন্দোলনকারীদের কাছে , নবান্নের বৈঠকে আজ ডাকা হয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের বিকেল ৩টের সময়। গতকালের জেনারেল বডির মিটিং-এ উপস্থিত ছিলেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দল, সিনিয়র ডাক্তার, রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা-সহ কর্মচারী , নার্সদের প্রতিনিধি । তবে মুখোমুখি আলোচনার জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে ? এদিকে একেপর এক শর্ত চাপাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। কার্যত ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। এখন আজ ১২ টায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন বৈঠক হবে তারই চিঠি দেওয়া হয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের। কী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি? ফের প্রশ্ন চিহ্নের মুখে রফাসূত্র। দীর্ঘ বৈঠক থেকে যা নির্যাস বেরলো তাতে স্পষ্ট, আপাতত উঠছে না কর্মবিরতি।

নবান্নে শুরু হয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর সাথে , সঙ্গে আসেন অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রসনিক কর্তারা , কি হল এই মিটিং এ , দেখে নিন এক নজরে :

১) নবান্নের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে আন্দোলকারী ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল রাজ্য সরকারের পাঠানো বাসে চেপেই ।

২) মোতায়েন রয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী ।

৩) আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে রওনা দিল বাস , দুপুর ৩টে ১০ মিনিটে : এনআরএস থেকে

৪) দুই প্রবীণ চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, সুকুমার মুখোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েক জন থাকবেন , ৩টে ২০ মিনিট: নবান্ন পৌঁছলেন ।

৫) নবান্ন পৌঁছবেন জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল।

৬) ৩টে ২৪মিনিট: নবান্নের মূল গেটে পৌঁছে গেলেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা।

৭) ১৪ তলায় নিয়ে যাওয়া হল লিফ্টে করে।

৮) এনআরএস-এর অধ্যক্ষ শৈবাল মুখোপাধ্যায়ও জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রয়েছেন ।

৯) সভাগৃহে ঢুকলেন জুনিয়র ডাক্তাররা :৩টে ৪০ মিনিট ।

১০) ৪টে ৫ মিনিট: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভাগৃহে ঢুকলেন ।

১১) মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে সরকারের তরফে রয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তারা। আছেন সুকুমার মুখোপাধ্যায়, অভিজিত্ চৌধুরীর মতো কয়েকজন বিশিষ্ট সিনিয়র চিকিৎসকও।

১২) বৈঠকের লাইভ কভারেজের অনুমতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ,জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে, আন্দোলনকারীদের তরফে রাজ্যের ১৪টি মেডিক্যাল কলেজের ৩০ জন ডাক্তার

১৩) তোমরা কষ্ট করে এসেছো তাই তোমাদের সব কথা শুনবো : মমতা

১৪) বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মলয় দে, সঞ্জয় বনশল, প্রবীণ ত্রিপাঠি, গৌতম সান্যাল, রাজীব সিংহ, স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৫) মন খুলে কথা হবে , নির্দ্বিধায় বলুন, আমরা শুনব: মমতা।

১৬) ৪টে ১০ মিনিট: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অর্চিষ্মান ভট্টাচার্য জুনিয়র ডাক্তার : ভয়ের মধ্যে কাজ করতে হয় আমাদের। এই আন্দোলনে বাধ্য হয়ে নেমেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আপনার কাছে পৌঁছতে, কিন্তু আমাদের বার্তা হয়ত আপনার কাছে পৌঁছয়নি। আমরা খুব তাড়াতাড়ি কাজে ফিরতে চাই। এই অচলাবস্থা চলুক তা কেউই চাই না আমরা। সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই কষ্ট পান। অত্যাচারিত হতে হতে আমরাও নিরুপায়।কি করবো বলুন ?

১৭) অর্চিষ্মান বলেন , এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

১৮) স্বাস্থ্য সচিব রাজীব সিংহ বলেন , কাকে কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

১৯) মমতার বন্ধ্যেধোপাধ্যায় বলেন হাসপাতালে এক জন রোগীর সঙ্গে দু’জনের বেশি ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। সব জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে লোহার গেট বসানো হবে। আটকাতে হবে বহিরাগতদের প্রবেশ।

২০) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন চিকিৎসক নিগ্রহ কাণ্ডে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ জনকে। ডাক্তারদের কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হয়নি

২১) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তাব দেন : ‘যখন রোগী মারা যান, সেই সময় সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়। সেটা দূর করতে তিনটি শিফ্টে তিন জনকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যাঁরা রোগীর পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবেন। পুলিশের তরফে এক জন নোডাল অফিসার থাকবেন, যাঁর নম্বর কর্মরত চিকিৎসকদের কাছে থাকবে। যে কোনও প্রয়োজনে তাঁর সাহায্যে চাওয়া যেতে পারে’।

২২) অনুজ শর্মা কলকাতা পুলিশের কমিশনার বলেন:’ হাসপাতালে কত লোক ঢুকছেন, কারা ঢুকছে, তাতে নজরদারি প্রয়োজন, যাতে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে থাকে’।

২৩) এর মধ্যে মৈনাক চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম এত বড় ঘটনার পরে আপনি এক বার যাবেন। কিন্তু আপনি গেলেন না। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমরা কথা বললে না। আমি ভাবলাম, তোমরা কথা বলতে চাইছ না’।

২৪) মমতা বলেন, কিছু লোক তোমাদের রাগানোর চেষ্টা করছে। আমাদেরও রাগানোর চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে ছেলেটি মার খেয়েছে, ও যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে। ওই বেসরকারি হাসপাতাল খরচসাপেক্ষ হাসপাতাল। আমরা ব্যবস্থা করেছি। মিনিটে মিনিটে ওর খবর নিয়েছি। এমনকি, অপারেশনের পরেও ওর খবর নেওয়া হয়েছে। ও এখন সুস্থ আছে।

২৫) যখন জটিল চিকিৎসা বা জরুরি ওষুধ প্রয়োগের সময়, বা এ নিয়ে রোগীর আত্মীয়দের বোঝানোর জন্য সিনিয়র ডাক্তারদের মূলত দায়িত্ব নিতে হবে, দাবি জানালেন জুনিয়র ডাক্তাররা।

২৬) জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বলাহয় রোগীদের আত্মীয়দের জন্য সরকারের যে গ্রিভ্যান্স সেল বা অভিয়োগ গ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে, সে গুলিকে আরও সক্রিয় করার দাবি পেশ করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন আধিকারিকদের।

২৭)মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন আগে হাসপাতাল দেখে মনে হত যমালয়, এখন লোকজন এসে বলে বেসরকারি নার্সিংহোমের চেয়েও ভাল। ডাক্তাররা ভাল কাজ করছেন। স্বাস্থ্য কর্মীরাও ভাল কাজ করছেন। কিন্তু সমস্ত হাসপাতালে নিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার আমরা পাচ্ছি না। বার বার বিজ্ঞাপন দিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না,

২৮) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ২০১১ সালে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। ২০১৮-য় তা বাড়িয়ে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে, বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

২৯) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ৩৪ বছর পর এ রাজ্যে অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা ন’টা নতুন মেডিক্যাল কলেজ করেছি। প্রত্যেক জেলায় এইচডিইউ, আইসিইউ করে দিয়েছি।

৩০) জুনিয়র ডাক্তার নিগ্রহে জিরো টলারেন্স নীতির দাবি তোলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন , ‘আইন হাতে তুলে নিয়ো না। সবটা সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কখনও কখনও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা প্রয়োজন। এসো সবাই মিলে এই কাজটা করি’ ।

৩১) জুনিয়র ডাক্তাররা অভিযোগ তোলেন সেই রাতের এনআরএস-এর ঘটনা বর্ণনা করে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার। উপস্থিত সিপি অনুজ শর্মা এবং ডিজি বীরেন্দ্র-র উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘নিষ্ক্রিয় থাকলে হবে না। এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে’।

৩২) জুনিয়র ডাক্তাররা জানান, অনেক সরকারি হাসপাতালে গেট নেই। প্রচুর রেফারেল রোগী। চাপ সামলানো মুশকিল। অনেক সময়ই উত্তেজনা দেখা দেয়। রাজনৈতিক দলের নেতারা ব্যাপক ঝামেলা করেন। আমাদের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। আপনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।

৩৩) জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটা জেনারেল সার্কুলার করা যেতে পারে। শৃঙ্খলা মেনে না চললে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

৩৪) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’ রোগী কল্যাণ সমিতি কোথাও সক্রিয় আবার কোথাও নিষ্ক্রিয়। সেই সমিতিতে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি’।

৩৫) যে সমস্ত প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, সে গুলি কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা যাচাই করে দেখার নির্দেশ দেন মমতা।

৩৬) জুনিয়র ডাক্তাররা দাবি তোলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে পুলিশ পদক্ষেপ না করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাতে সম্মতি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩৭) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন গোটা রাজ্যের জন্য একটি জরুরিভিত্তিক নম্বর এবং ই-মেল আইডি চালু করতে ডিজি বীরেন্দ্রকে পাধ্যায়।

৩৮) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ‘ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে দিকে নজর রাখব আমরা। আর যদি ঘটেও থাকে, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে ‘,

৩৯) অর্চিষ্মান ভট্টাচার্য মেডিক্যাল কলেজের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন কলকাতা ৪টে ৪০ মিনিটে ।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: