Nation

প্রথম সারির যোদ্ধা হলেও বাবা তো !

শেষ দেখা আর হলো মেয়ে-বাবার

পল্লবী : ইনি হলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা তাও করোনা যুদ্ধের কিন্তু তবুও সন্তানের থেকে বড় কি কিছু হতে পারে। চিকিত্‍সক বাবা মেয়ের অসুস্থতার খবর শুনেও আসতে পারলেন না বাড়িতে। বিনা চিকিত্‍সায় মারাই গেল ১৫ মাসের সন্তান। মধ্যপ্রদেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সবচেয়ে আক্রান্ত হয়েছে ইন্দোর। এখানেরই এক সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন চিকিত্‍সক দেবেন্দ্র মেহেরা। ১৫ মাসের মেয়ে অসুস্থ হয়েছে জানতে পেরেও বাড়ি আসতে পারেননি তিনি। তার মাশুলই গুনতে হল এই চিকিত্‍সককে, আর দেখা হল না নিজের জীবিত সন্তানের সঙ্গে।

শিশুটি হাইড্রোসেফালাসে ভুগছিল। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ভর্তি রোগীকে চিকিত্‍সা না করে বাড়ি যেতে চাননি দেবেন্দ্র। নিজের কর্তব্যে পালন করতে গিয়ে তাই বিশাল মূল্য চোকাতে হল এই চিকিত্‍সককে। অবশেষে বাড়ি যেতেই হল চিকিত্‍সক দেবেন্দ্র মেহেরাকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। নিজের ১৫ মাসের কন্যার সঙ্গে আর সময় কাটাতে পারলেন না চিকিত্‍সক। ডিউটি করার মাঝেই তাঁর কাছে এসে পৌঁছয় চরম দুসংবাদ। এরপর এডিএমের অনুমতি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন তিনি।

ইন্দোর থেকে হোশঙ্গাবাদের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারের বেশি। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসেও দেবেন্দ্র দেখতে পারলেন না নিজের মেয়েকে। শোকের সাথে চিকিত্‍সক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিল তাঁর কন্যা। মাঝে একবার মেয়েকে দেখতেও এসেছিলেন তিনি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ আকার নেওয়ায় ফের কাজে ফিরতে হয় তাঁকে।

বিশ্ব জুড়ে করোনা পরিস্থিতি যেরূপ এসে দাঁড়িয়েছে তাতে ছুটি নেই চিকিৎসক, নার্স, সাস্থকর্মী কারোরই। এনারা প্রত্যেকেই হলেন করোনা যুদ্ধের প্রথম সারির যোদ্ধা। ওনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছেন মানুষ। আর এবার এই চিকিৎসক তার দায়িত্বে অটল ছিলেন বলেই তার সাথে আর দেখা হলো তার ছোট সন্তানটির সাথে। তাই আবারো কুর্নিশ প্রত্তেকজন চিকিৎসক কে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: