West Bengal

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে কেন্দ্রকে নিশানা মমতার

পঞ্চমবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও-কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রেরনা দত্তঃ দুপুর ৩ থেকে শুরু হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক। তা শেষ হয় প্রায় রাত ৯ টা নাগাদ।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা ছাড়াও হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তৃতীয় দফার লকডাউন শেষ হচ্ছে ১৭ মে। তারপর কী হবে, তা নিয়েই সোমবার বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে কেন্দ্রকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে কেন্দ্র। তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন পরবর্তী সময়ে, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যেগুলির হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, ১৭ মে পরবর্তী সময়ে, পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া প্রয়োজন এবং কোথায় কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে তা রাজ্যকে সিদ্ধান্ত নিতে দিলে তা অনেক সুবিধাজনক হবে।

বৈঠকে লকডাউন বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, মোট চারটি রাজ্যে লকডাউন বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে।মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছেন, লকডাউন বাড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। একই মত পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীদেরও। তবে কতদিন পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানো হতে পারে, সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

সাথেই সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, করোনা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। কেউ আমাদের মতামত নিচ্ছে না। দয়া করে ফেডারেল কাঠামোকে ভেঙে দেবেন না। আরও বলেন, রাজ্য সরকার করোনা মোকাবিলায় যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্য কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলছে। তার পরেও কেন আমাদের নিশানা করা হচ্ছে! সবসময়ে কেন বাংলার দিকেই আঙুল উঠছে। এত সমালোচনা কেন!

কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রের প্রতিনিধি দলকে পাঠানো হয়েছিল রাজ্যে। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে সবকিছু খতিয়ে দেখেছেন তাঁরা। আর সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, কেন্দ্র কেন রাজ্যে প্রতিনিধি দল পাঠানোর আগে রাজ্যের মতামত নেওয়া হল না। ৪টি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। তার পর ফের দুটি দল এসেছে। তারা রাজ্যের কনটেইনমেন্ট এলাকায় যাবে। এনিয়ে প্রথমদিকে সমস্যা হলেও পরে তা ঠিক হয়ে যায়। সেই ক্ষোভেরই বহিপ্রকাশ দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।
অন্যদিকে হু জানিয়েছে, ভারত করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে জুলাই-শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছাবে। জুলাইয়ের শেষে হবে সর্বোচ্চ সংক্রমণ।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: