Weather

প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে ঘুর্ণিঝড় আমফান ধেয়ে আসছে রাজ্যের দিকে, প্রস্তুত বিপর্যয় মোকাবিলা দল, জানালেন এনডিআরএফ প্রধান

নবান্নে খুলছে কন্ট্রোল রুম, বিপদজনক বাড়ির দিকে নজর পুরসভার

প্রেরনা দত্তঃ আমফান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কলকাতা পুরসভায়।বিপজ্জনক বাড়ি সরে আসতে বাসিন্দাদের পরামর্শ।পুরসভার কন্ট্রোম রুম চালু থাকবে ২৪ ঘণ্টা।পাম্পিং স্টেশনগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। জানালেন বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম।

এনডিআরএফ প্রধান এসএন প্রধান বলেছেন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী আমফানকে হাল্কাভাবে নিচ্ছে না। কারণ, দেশ এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সুপার সাইক্লোনের মুখোমুখি। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ১৯ ও ২০ মে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আইএমডি-র ডিজি এম মহাপাত্র বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় আমফান খুবই তীব্র ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। এনডিআরএফ প্রধান বলেছেন, এটি একটি দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। কারণ, কোভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই ঝড়। ঘরবাড়ির দুর্বল কাঠামো, গাছ উপড়ে যাওয়া, রেললাইন ও বিদ্যুতবাহী তারের ক্ষতি হতে পারে। আইএমডি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে সাইক্লোনের কারণে ৩ থেকে ৪ মিনিট ঢেউ উঠতে পারে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ওই ঘূর্ণিঝড় এখন দক্ষিণ মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করলেও ক্রমেই দিঘার থেকে তার দূরত্ব কমছে। এই মুহূর্তে দিঘার থেকে তার দূরত্ব ৮৯০ কিলোমিটার। ওড়িশার পারাদ্বীপের থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে দাবি, সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে আমপান। বুধবার দুপুর বা সন্ধের দিকে প্রবল শক্তিশালী ওই ঘুর্ণিঝড়ের দিঘা ও বাংলাদেশের হাতিয়ার ওপর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। এর জন্য মত্‍স্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

ঘণ্টায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার গতিতে প্রবল ঝড় হওয়ার আশঙ্কা। এমনকী ঝড়ের গতি ১৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। আমফানের প্রভাবে কলকাতা সহ বেশ কিছু জায়গায় মঙ্গলবার বৃষ্টি হবে। বুধবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা। কলকাতার পাশাপাশি ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে।

ঘূর্ণিঝড় আমপান মোকাবিলা নিয়ে গৃহীত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। পিএমও সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বিস্তারিত ও মানুষদের নিরাপত স্থানে সরিয়ে আনা সংক্রান্ত এনডিআরএফের পেশ করা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য গৃহীত পদক্ষেপের পর্যালোচনা করেছেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে ঘূর্ণিঝড় আমফানের মোকাবিলায় বাড়তি সতর্কতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন গত ২ দিন ধরে ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, রায়দিঘি, সাগরে আগাম সতর্কতামূলক প্রচার শুরু করেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের সমস্ত ফেরিঘাট। জেলা প্রশাসনের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর সহ জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সাগরদ্বীপ ও নামখানায় পৌঁছেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল পৌঁছে গিয়েছে। সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আসার আগে উপকূল অঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: