Education Opinion

প্রয়াত বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবনের,জেনে নিন তার সম্বন্ধে কিছু কথা

তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ভারত ও ইউরোপের গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন, রুশ-ভারত সম্পর্ক এবং সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতি।

প্রেরনা দত্তঃ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবনের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। শনিবার রাত একটা নাগাদ তিনি প্রয়াত হন। ইতিহাসবিদের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হোম-কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেমব্রিজের ক্রাইস্টস কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পরে তিনি স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ভারত ও ইউরোপের গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন, রুশ-ভারত সম্পর্ক এবং সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতি। বিদেশে উচ্চশিক্ষার পর্ব শেষ করে নিজের দেশকেই কর্মক্ষেত্রে হিসেবে বেছে নেন হরিশঙ্কর বাসুদেবন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতেও নিয়মিত লিখতেন তিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক নামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন শিক্ষকতাও করেছেন। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ, দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-সহ ভারতের বহু নামী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

পাশাপাশি, এনসিইআরটি-র সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের সিলেবাস ও টেক্সট বুক ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন দীর্ঘ এক দশক। রুশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রকের উপদেষ্টা পদের দায়িত্বও পালন করেছেন।তাঁর লেখা বই ‘ইন দ্য ফুটস্টেপস অব আফানাসি নিকিটিন’ এবং ‘শ্যাডোস অব সাবস্ট্যান্স, ইন্দো রাশিয়ান ট্রেড অ্যান্ড মিলিটারি টেকনিক্যাল কর্পোরেশন’ উচ্চশিক্ষা মহলে বিশেষ সমাদৃত।

তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য দফতর। এ মাসের শুরুতে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। পরে শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যথা হওয়ায় সল্টলেকের ওই বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সমস্ত উপসর্গ দেখে দ্রুত তার করোনা পরীক্ষা করানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালেই রিপোর্ট আসে তিনি করোনা পজিটিভ। শুক্রবার শ্বাসকষ্ট বাড়ায় তাকে চিকিত্‍সকদের পরামর্শে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রনিক অসুখেও ভুগছিলেন ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবন।কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরেই হরি বাসুদেবানের সল্টলেকের বাড়ির আশপাশ এলাকা সিল করে দিয়েছে বিধাননগর থানার পুলিশ। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ-এর প্রাক্তন সদস্য এই ইতিহাসবিদের প্রয়াণে শোকের ছায়া তাঁর গুণমুগ্ধদের মধ্যে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: