Weather

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ,ঘূর্ণিঝড়ের অশনিসঙ্কেত,কাল থেকে বাংলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

বুধ-বৃহস্পতিবারে বীরভূমে বাজ পড়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে

প্রেরনা দত্তঃ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া প্রবল নিম্নচাপ শনিবার নাগাদ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে। আগামী রবিবার অথবা সোমবার নাগাদ তা আছড়ে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা। রবিবার পর্যন্ত সে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে এবং সোমবার থেকে বাঁক নিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে যেতে পারে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবীদের সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই বলা হয়েছে, কেউ সাগরে থাকলে তাঁরা যেন দ্রুত ফিরে আসেন।

নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর তা ঠিক কোথায় আছড়ে পড়বে, এখনও স্পষ্ট নয়। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে তার অভিমুখ হতে পারে। পরে তা পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ অথবা মায়ানমারের দিকে ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখনই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। শনিবারের পর চিত্রটা আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

এবার বৈশাখের শুরু থেকেই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যে ঝড়বৃষ্টি লেগে রয়েছে। এখন বঙ্গোপসাগর-আন্দামান সাগরের উপরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ক্রমশই দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে প্রভাব বিস্তার করবে। সামগ্রিক ভাবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেমন হবে বা সে বর্ষার উপরে কতটা কী প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত ভাবে জানতে না-পারলেও বৈশাখের শেষ লগ্নে গ্রীষ্মের খর চেহারা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের দিকে গাঙ্গেয় বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি হলেও দিনে রোদের তেজ ভালই মালুম হচ্ছে। তবে আবহবিদদের অনেকে বলছেন, এ বার গ্রীষ্মের তেমন তেজ নেই। মে মাসের মাঝামাঝি এসেও এ-পর্যন্ত তাপপ্রবাহের দেখা মেলেনি। আগামী কয়েক দিনেও তেমন কোনও আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে না।

নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আছড়ে পড়েছিল সুন্দরবন এলাকায়। তবে নতুন ঘূর্ণিঝড় কতটা গতি নিয়ে, কোনও এলাকায় আছড়ে পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।বুধ-বৃহস্পতিবারে বীরভূমে বাজ পড়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।বিকেলে বিলাসপুর গ্রামে খেলার মাঠে কয়েক জন যুবক বসে ছিলেন। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ৭-৮ জন বটগাছের নীচে আশ্রয় নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বটগাছের পাশে একটি তালগাছে বাজ পড়ে। গুরুতর আহত হন সাত জন। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে চার জনের মৃত্যু হয়। বোলপুর-সহ বেশ কিছু জায়গায় এ দিন শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: