West Bengal

বাংলার এই দুর্দিনে দ্রুত সম্ভব আর্থিক সাহায্য করার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

সহযোগিতার আশ্বাস, অমিত শাহের

পল্লবী : কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বেহাল অবস্থা যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার নয়। এই প্রত্তেকজন মানুষের পাশে দাঁড়াতে তৎপর রাজ্য। এবিষয়ে সাংবাদিকদের মমতা বলেন,’ এমন ভয়াবহ ডিজাস্টার জীবনে দেখিনি। অমিত শাহ ফোন করেছিলেন। আমি অনুরোধ করেছি, বিপর্যয়ে যে তহবিল থাকে, সেখান থেকে টাকাটা যেন পাই। কতটা পাব জানি না ! ৫০০ দিন পরে পেলে তো লাভ নেই, আমার ইমিডিয়েট প্রয়োজন।’ তাঁর কথায়,’প্রধানমন্ত্রীকে আসতে অনুরোধ করেছি। সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় এসে দেখে যান।’ সেই আবেদনেই সম্ভবত সাড়া দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। আজ রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০.৪৫ মিনিটে অবতরণ করতে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। তারপর তাঁর গন্তব্য বসিরহাট। হেলিকপ্টারে মোদীর সঙ্গে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর টুইট করে জানিয়েছে,’পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিসায় আমফানের পরিস্থিতি দেখতে যাবেন নরেন্দ্র মোদী। আকাশপথে পর্যবেক্ষণ করবেন। এর পাশাপাশি পর্যালোচনা বৈঠকেও যোগ দেবেন। ওই বৈঠকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা হবে।’ তবে দিল্লির সাহায্য পাওয়ার আগে রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণের জন্য এক হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেন, ‘ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য পাই পয়সা দেখে খরচ করতে হবে। একবার কাজ করলে তাতে যেন তিন বছরের জন্য হাত দিতে না হয়।’

পরিস্থিতির খবরাখবর জানতে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁকে ফোনে যত দ্রুত সম্ভব আর্থিক সাহায্য করার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বললেন, ৫০০ দিন পরে পেলে লাভ নেই। টাকা এখনই দরকার। করোনা ভাইরাসের দাপট এখনও সামলে উঠতে পারেনি বাংলা। তার উপর আমফান-এর তাণ্ডবে কার্যত বিধ্বস্ত রাজ্য। বৃহস্পতিবার সকাল হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ খবর নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরে টুইটারে তিনি লেখেন, ‘আমরা আমপানের বিষয়টি ভাল ভাবে নজর রাখছি। ঝড়ের তাণ্ডবে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলেছি। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’

কিন্তু অন্যদিকে, এখনো পর্যন্ত শহরের একাধিক এলাকায় চিত্রের সামান্যতম পরিবর্তন টুকু হয়নি। লাইন ছিড়ে পরে আছে, গাছ ভেঙে বন্ধ হয়ে আছে রাস্তা। ২৪ টা ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। যদিও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে ছোট রাস্তা-ভেতরের রাস্তা এবং বাড়ির ওপরে থাকা গাছগুলো সরানোর কাজ শুরু হবে। নিজেদের সুবিধার্থেই এলাকার মহিলারা শেষে গাছ কাটছেন কাঠারী নিয়ে। একাধিক জায়গাতে গত দুদিন থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ। এই সঙ্কটের দিনে প্রিয়জনের খবর নেওয়ার একমাত্র পথ তও খোলা নেই। শহরের প্রত্তেকজন মানুষের অনুরোধ যে, যাতে আরো কিছুটা তৎপর হয় দপ্তর গুলি। নইলে বিপদের শেষ থাকবেনা !

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: