West Bengal

বাইক চালিয়ে বিয়ে করতে গেলেন বর, আবার সেই বাইকে নববধূকে নিয়ে ফিরলেন ,কোথায় জানেন ?

হাঁসখালির থেকে বাইকে বর চলে আসেন বাগদায় কনের বাড়িতে।

প্রেরনা দত্তঃ পাত্র সুরজিৎ বালা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। থাকেন নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায়। পাত্রী সুপর্ণা মণ্ডল বিএ তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া। মাস তিনেক আগে রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়ে গিয়েছিল তাঁদের। ঠিক ছিল, সামাজিক মতে বিয়েটা হবে ৪ মে। সেই মতোই তোড়জোড় শুরু হয়েছিল দুই পরিবারে। তারপরেই শুরু হয় করোনা-সংক্রমণ। দেশ জুড়ে লকডাউন। মাথায় হাত দুই পরিবারের কর্তাদের।তার মধ্যেই ৩০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে বিয়ে করতে গেল বর।

হাঁসখালির থেকে বাইকে বর চলে আসেন বাগদায় কনের বাড়িতে। সেখানেই হয় শুভদৃষ্টি থেকে মালাবদল, সিঁদুর দানের অনুষ্ঠান। বর, কনে দু’জনকেই বিয়ের পোশাকের সঙ্গে পরতে হয়েছিল মাস্কও। বিয়ের অনুষ্ঠানে মানা হয় সামাজিক দূরত্বও। বর, কনে ও পুরোহিত ছাড়া সেখানে হাজির ছিলেন দু’পক্ষের হাতেগোনা কয়েকজন। সানাইয়ের সুর বাজেনি। ম্যারাপ বেঁধে শ’য়ে শ’য়ে লোক পাত পেড়ে খাননি। নিমন্ত্রিত হাতে গোনা। তবু কনের সাজে দেখা গেল পাত্রীকে। পোশাক পাল্টে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে, মন্ত্রোচ্চারণ করে বিয়ে সেরে আবার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফিরেও গেলেন। এ বার অবশ্য নববধূ তাঁর বাইকের পিছনে!

সুরজিতের মা অসুস্থ। তিনি আর বিয়ে পিছোতে চাননি। সকলে মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়, নির্দিষ্ট দিনেই বিয়ে হবে। তবে নিমন্ত্রিত থাকবেন না প্রায় কেউই। শুধু মন্ত্রোচ্চারণটুকুই হবে। কনে সুপর্ণা মণ্ডলের বাবা গৌরাঙ্গ রাজমিস্ত্রির কাজ করেন তেলঙ্গনায়। লকডাউনে তিনিও আটকে রয়েছেন। পাত্রপক্ষ রাজি থাকায় পাত্রীপক্ষ বিয়েতে দেরি করেননি। বাবার অনুপস্থিতিতেই বিয়ে হল সুপর্ণার। ঘটা করে বিয়ের সাধ পূরণ না হলেও খুশি বর-কনে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: