Big Story

বাম আমলে দেওয়া জমি কেড়ে নিচ্ছে তৃণমূল : জমি বিবাদে উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী গৌতম দেব কে তাড়া করলো কৃষকরা

গো ব্যাক ধ্বনি, কালো পতাকা, গজলডোবায় জমি বিক্ষোভে মন্ত্রী গৌতম দেবকে

আজ কৃষক-বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব।পালিয়ে বাঁচার মত অবস্থা মন্ত্রী মশাইয়ের , শুক্রবার জলপাইগুড়ির গজলডোবায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কৃষকদের সাথে আলোচনা করতে গেছিলেন। গাড়ি থেকে নাবতেই তেড়ে আসেন কৃষক রা ,সেখানেই প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন পর্যটন মন্ত্রী। রাস্তায় দাঁড়ানো গ্রামবাসীরা সহ গজলডোবা তিস্তা সেচ খালের পাশে হাওয়া মহলের কৃষকরা কালো পতাকাও দেখান তাঁকে। তৃণমূলের অভিযোগ,সিপিআইএম ও বিজেপির কর্মী সমর্থকরাই কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। পুলিশের বলছে , ওই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছে সিপিআইএম থেকে বিজেপিতে আশা এক নেতা করেছেন এই কাজ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘ভোরের আলো’ ( পর্যটন হাব) গড়ার জন্য ইতিমধ্যেই ২১০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে গজলডোবায় রাজ্য সরকার। কিছুদিন আগে পর্যটন দফতর গজলডোবা থেকে কিছুটা দূরে বোদাগঞ্জের মিলনপল্লিতে ভোরের আলো প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত একটি হেলিপ্যাড, আবাসন এবং সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জন্য আরও ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা করে, কার্যত এই প্রকল্প বেসরকারি মাধ্যমে হবে ।

এরপর রাজগঞ্জ ব্লকে জঙ্গল মহল মৌজার ৩৭-৩৮ নম্বর দাগে জমি অধিগ্রহণের জন্য গত সপ্তাহে মাপজোক শুরু করে।স্থানীয়রা জানাচ্ছেন অধিগ্রহণের একটি বোর্ডও লাগিয়ে দেওয়া হয় সেখানে। আর এই বোর্ড লাগানোর পর রোতে যায় কৃষকের জমি কেড়ে নেবে সরকার , রাতা রাতি বদলে যায় অবস্থা ,ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়ে কৃষক অসন্তোষ। কৃষকদের বক্তব্য ,বাম আমলে পাওয়া জমি কেন দেব ‘‘জমিতে ফসল রয়েছে আমাদের। বাদাম, কচু সব মাঠেই। আমাদের জমিতে আমাদেরই পুলিশ মাঠে যেতে দিচ্ছে না।সব ফসল মাঠে নষ্ট হচ্ছে। মাঠে নাবলে গেলে পুলিশ আমাদের হুমকি দিচ্ছে, থানায় নিয়ে যাবে ’’

স্থনীয় কৃষকদের দাবি, “১০৯৫ সালের দিকে ,বাম সরকারের আমলে ওই জমির পাট্টা তাঁদের দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা জানি না সরকার আমাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে জমি অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে”। কৃষকরা অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ওই বোর্ড উপড়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় মঙ্গলবার ,পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সেখানে ।পরে জানানো হয় পর্যটন মন্ত্রী এবং জেলাশাসক তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে মিলনপল্লির কৃষকদের দাবি, স্থানীয় থানা থেকে জানানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার মন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন । সরকার চিঠি দিয়ে না ডাকলে তাঁরা বৈঠকে যাবেন না।গৌতম দেবের কথাই কোন মিটিং হবে না।

বিক্ষোভের মুখে পিছু হটলেন মন্ত্রী গৌতম দেব

সেই দিন গৌতম দেবের কনভয় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। মন্ত্রী মশাই কৃষকদের দেখে গাড়ি থামিয়ে কথা বলতে গেলে কৃষকরা ‘গৌতম দেব গো ব্যাক’, ‘দালাল’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁকে কালো পতাকা দেখান আন্দোলনকারী কয়েকশো কৃষক।কার্যত মন্ত্রী গৌতম দেব কে তারা করে যখন তিনি বিরিক্ত বোধ করেন এগিয়ে আসা মানুষ কথা বলার সময় ,পুলিশ তারা তারই নিয়ে চলে যান মন্ত্রী গৌতম দেব কে ‘ভোরের আলো’তে।

আন্দোলন কারীরা বলেন , ‘‘সরকার এখানে দু’টি দাগ নম্বরে ৫৫০ একর এবং ২০০ একর, সব মিলিয়ে ৭৫০ একর জমি চিহ্নিত করে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করেছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ করবেন না। অথচ ঘুরপথে সেটাই তিনি করছেন। কারণ ওই ৭৫০ একর জমির পুরোটাই পাট্টা জমি। সেখানে বাম আমলে কৃষকরা পাট্টা পেয়েছেন। তাঁদের সেই চাষের জমি কেড়ে পর্যায় ক্রমে কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার ” এখানে কোন ছেড়ে কথা হবে না।

আন্দোলন কারীরা সিপিআইএম ও বিজেপি উভয়ের সাথেই যোগাযোগ রেখেই চলছেন। তবে তৃণমূলের অনেকেই নন্দী গ্রামের ছায়া দেখছেন এই ঘটনায়।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: