Analysis

বাড়ি ফিরতে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ হাঁটছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা, সেখানে সন্ধে ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ‘নাইট কারফিউ’, কড়া বিধিনিষেধ,তাদের জীবন এ কি প্রভাব ফেলবে?

সকাল ৭টা পর্যন্ত ‘নাইট কারফিউ’, কড়া বিধিনিষেধ,তাদের জীবন এ কি প্রভাব ফেলবে?

প্রেরনা দত্তঃ দেশজুড়ে ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ। চতুর্থ দফায় আরও ১৪দিন বাড়ল লকডাউন। রাত ৯টায় গাইডলাইন নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের বৈঠক। রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবের ভিডিও কনফারেন্স। কেন্দ্রের গাইডলাইনে জানানো হয়েছে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সন্ধে সাতটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত কেউই বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবেন না। তৃতীয় দফার লকডাউনেও এই নির্দেশিকা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই নির্দেশিকা পালনে প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা এবং কারফিউ জারি করতে পারবে রাজ্য প্রশাসনগুলি। প্রথম দফার লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক পথে নেমেছেন। সমস্তরকম যান চলাচল ছিল বন্ধ, পায়ে হেঁটেই মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কেউ বাড়ি পৌঁছেছিলেন, কারও মৃত্যু হয়েছিল রাস্তাতেই। ১৬-মের তথ্য অনুযায়ী গত দশ দিনে দুর্ঘটনায় অন্তত ১০৪ জন পরিযায়ী শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, আহতের সংখ্যাও ১০০ ছুঁই ছুঁই ।এখনও অনেকেই বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে চলেছে।

পাশাপাশি কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স এবং ১০ বছরের নীচে শিশুরা লকডাউনের মধ্যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবে না।একমাত্র জরুরি প্রয়োজন এবং চিকিত্‍সা সংক্রান্ত প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে।

তৃতীয় দফার লকডাউনেও যে বিধিনিষেধগুলি আরোপ করা হয়েছিল, তাতে খুব বেশি বদল করা হযনি। এর থেকেই স্পষ্ট, করোনা সংক্রমণ নিয়ে এখনই কোনওরকম শিথিলতা দেখাতে নারাজ কেন্দ্রীয় সরকার।

এ দিনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্য বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলির স্থানীয় প্রশাসন যদিও মনে করে, তাহলে কন্টেইনমেন্ট জোন সহ অন্যান্য এলাকাগুলিতেও আরও কড়া নির্দেশিকা জারি করা যাবে।

সাথেই জরুরি পরিষেবা ছাড়া ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে উড়ান। ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মেট্রো রেল পরিষেবা। ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শপিং মল, সিনেমা হল, রেস্তোরাঁ। রাজ্যের অনুমতি নিয়ে চলতে পারে আন্তঃরাজ্য বাস, গাড়ি।

ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৮৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৪ হাজার ৯৮৭। যা একদিনের নিরিখে রেকর্ড। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৪ হাজার ১০৯ জন।

দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৫। এরপরই আছে গুজরাত। ওই রাজ্যে আক্রান্ত ১০ হাজার ৯৮৮। মৃত্যু হয়েছে ৬২৫ জনের। মধ্যপ্রদেশে মৃতের সংখ্যা ২৪৩। আক্রান্ত ৪ হাজারের বেশি। রাজস্থানে করোনা আক্রান্ত ৪ হাজার ৯৬০। মৃত্যু হয়েছে ১২৬ জনের। রাজধানী দিল্লিতে ৯ হাজারের বেশি আক্রান্ত। ওই রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২৯ জনের।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: