Big Story

বিদ্বজনেরা ক্ষোভ উগলিয়ে দিলেন এনপিআরের ম্যানুয়াল থেকে মুসলিম উৎসবের দিন বাদ যাওয়াতে : তবে প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে অন্য মতও রয়েছে !

অভিনেতা চন্দন সেন ,অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী ,বাচিক শিল্পী জগন্নাথ বসু ,অভিনেতা কৌশিক সেন ,অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী ও প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার প্রশান্ত ব্যানার্জী খোলা মনে ভারত সরকারের এনপিআরের ম্যানুয়াল থেকে মুসলিম উৎসবের দিন বাদ যাওয়া কে নিয়ে কথা বললেন ওপিনিয়ন টাইমস এর সাথে।

অভিনেতা চন্দন সেন : ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে একদম যায় না ,এটা সংবিধানের পরিপন্থী। সাধারণ সুস্থ মানুষের কাছে এটা গ্রহণ যোগ্য হতে পারে নাহিন্দু রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে , কিন্তু সম্ভব হবে না। এরা এই দেশটাকে চেনে না ওরা

অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী : এটা তো সচেতন ভাবেই সরকার করেছেন। এনপিআর , সি এ এ ,হিন্দু রাষ্ট্র করার জন্য চেষ্টা হচ্ছে। হিন্দু রাষ্ট্র করার জন্য যা যা করার তাই ওরা করছেন . মুসলিমদের জন্য কোন কিছুই উল্লেখ থাকবে না। আমি বিরোধ করছি , কিন্তু আমি করলে তো হবে না সবাইকে করতে হবে। খুব খারাপ সময় আসছে , আজকে যে প্রতিবাদ হল। সেটা প্রথমে প্রতিবাদ করলো দেশ জুড়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা। বোঝা যাচ্ছে তাদেরও একটা ধাক্কা লেগেছে সরকারের এই সিদ্ধান্তে। তারা মনে করেছেন এটার জন্য প্রতিবাদ করা দরকার , তাই প্রতিবাদ হয়েছে।

বাচিক শিল্পী জগন্নাথ বসু : আমি বিশ্বাসই করি না কোন ধর্মকে বাদ দেওয়ার কথা ,আমার কল্পনার বাইরে ইসলাম ধর্ম কে বাদ দিয়ে চলতে পারে না। আমারা একই সঙ্গে পাশাপাশি থেকেছি . কখনো কখনো লড়াই হয়েছে , এমনও ইতিহাস আছে এ ওকে ভালো বাসে , সে তাকে ভালো বসে , এভাবেই চলছি এক সাথে। আমি খুব বিরক্ত হয়েছি যে একটি ধর্মকে আলাদা করে দেখাতে , ভারত বর্ষ সেকুলার দেশ। আমার কত মুসলিম বন্ধু রয়েছে , আমি তাদের বাড়ি যাই তারা আমার বাড়ি আসে , কোন দিন এই ধরণের ভাবনায় আমাদের নেই। আমি তো কালি কথা করি , মুসলিমদের অনুষ্ঠানে গিয়ে সিমাইয়ের পায়েস খাই আমাদের সত্যনারায়ণের সিন্নি ওরা খায়। কোন দিন আমাদের বাড়িতে এই ধরণে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে নি যাতে আলাদা করে দেখার। আমার কাছে হিন্দু মুসলিম কত ছাত্র আসে , কিন্তু কোন দিন আমাদের স্নেহের বিভাজন হয়নি , এখনও হয় না।

অভিনেতা কৌশিক সেন : গতকাল আমাদের প্রধান মন্ত্রী বলেছেন বিরোধী দল গুলির উচিত এই মুহূর্তে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, কেন তা হচ্ছে না।এখন থেকে উদ্দেশ্য তা পরিষ্কার হয়ে যায় যে , পাকিস্তান হোক আর মুসলিম হউক এটা পালিয়ে যাবার একটা সোজা পথ। গতকাল জানতে পারলাম গ্যাস ও ট্রেনের ভাড়া বেড়ে গেছে , ক্রমশ যত দিন যাচ্ছে আর্থিক ভাবে ভয়াবহতার দিক তত পরিষ্কার হচ্ছে জনসাধারণের কাছে। ফলে মানুষের নজর ঘোরাবার ছাড়া আর অন্য কোন পথ নেই সরকারের কাছে। কেন্দ্র সরকারের আর কোন উপায় নেই আমাদের ভাবনাকে এই ভাবে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। ভারতের সংবিধান কে চূড়ান্ত অসম্মান করা হচ্ছে , প্রতি নিয়ত বোঝানো মুসলিমরা আমাদের দেশের লোক নয় , তাদের সংস্কৃতি তাদের কর্মকান্ড বিজেপির ভাবনায় তাদের হিন্দু রাষ্টের পক্ষে নয়। আগামী প্রজন্মই পথ দেখাচ্ছে , আজকে গোটা দেশে এটা প্রমাণিত ছাত্র ছাত্রীরাই পথ দেখাচ্ছে , কোন রাজনৈতিক দল সে ভাবে দাগ কাটতে পারেনি। আমার মনে হয় ওরাই পারে আর পারবে এই দেশ কে সেকুলার রাখতে

অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী : যাদের অসুবিধে হবে তারা সুপ্রিম কোর্টে যাক , একটা সম্প্রদায় কথা কেন সব সম্প্রদায়ের কথা বলছি। বিরোধ থাকলে পিআইএল করুন , দেশে তো একটা বিচার ব্যবস্থা আছে আপনাদের অভিযোগ জানবার। কোর্টের কাছে না গিয়ে রাস্তা অবরোধ , ট্রেন পোড়ানো গাড়ি ভাঙচুর করা। আমাদের এখানে বিরোধিতা ভুল পথে যাচ্ছে ,তিনটি রাজনৈতিক দল তারা এই সুযোগে রাজনৈতিক রুটি সেঁকতে আরাম্ভ করে দিল । ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে দিল , আমরা দেখেছি ৯৮% লোক এই বিষয় টি বুঝে উঠতেই পারেনি। সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি জানেই না। আন্দোলনের নাম করে পাবলিক প্রপার্টি জ্বালানো হচ্ছে , ট্রেন বাস জ্বালানো হচ্ছে।আমাদের ট্যাক্সের টাকা জ্বালানো হচ্ছে এখানে আমার আপত্তি আছে , সেখানে যে সম্প্রদায়ই হোক না কেন।সংবিধানের পথ খোলা আছে, তারা বিক্ষোভ করছেন রাস্তায়। লোকজন কে মারছে , যদি কোন সমস্যা হয় রাস্তায় ভাঙচুর করে তার সমাধান হবে না , এই করে কি সরকারের মত পাল্টাবে। যারা বিরোধিতা করছেন তারা কি মনে করেন বাস জ্বালিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে , যদি কোর্টের নির্দেশ হয় আইনের পরিবর্তন হবে। এই ভাবে হয় না , বে আইনি ভাবে ভাঙচুর করে কোন আইনের পরিবর্তন হয় না।

প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার প্রশান্ত ব্যানার্জী : নতুন করে নাগরিকত্ব করার কোন বিষয়ই নেই , আমার জন্ম তারিখ কত ?বাবা কে ? তার কোথায় জন্ম। এসব নতুন করে কিভাবে সম্ভব। আমার বাবা ভারতীয় নাগরিক বলেই তো আমরা এখানে বড় হয়েছি। আমাদের ভোটার কার্ড , আধার কার্ড সব কিছুই তো এখানে। অনেকের এই সব ডকুমেন্টস হারিয়ে যেতে পারে , খুঁজে নাও পাওয়া যেতে পারে। তার মানে তারা এই দেশের নাগরিক নই , এটা আমরা প্রথম প্রশ্ন ? দ্বিতীয় প্রশ্ন নাগরিকত্ব নিয়ে আবার নতুন করে প্রশ্ন তোলাটাই উচিত নয়। যারা অন্য ধর্মের মানুষ মুসলিম বলুন , ক্রিষ্টান ধর্মের সহ বা অন্য ধর্মের মানুষের উৎসবে আমরা ছুটি পাই , উৎসবে অন্য গ্রহণ করি। কোন ভেদাভেদ কেওই করছেন না , যারা এতো দিন ধরে এখানে আছেন , ভোট দিয়েছেন আর তাদের ভোটেও সরকার হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন সরকার যে সমর্থন পেয়েছেন তারা কি এই অবস্থান থেকে সরে যাবেন। কেন বারংবার পরীক্ষা দিতে হবে। তার থেকে যাদের নাগরিকত্ব নেই তাদের নিয়ে ভাবুন নতুন করে ভাবুন। সকল কে নিয়ে এসব ভাবার দরকার নেই।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: