West Bengal

ব্যথিত রাজ্যপাল, আমন্ত্রিত হয়েও ফিরে যেতে হল তাঁকে !

কথা ছিল মধ্যাহ্নভোজের, কিন্তু বিধানসভা পুরো ফাঁকা।

@ দেবশ্রী : ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজ্যপাল। আর তার কারন বিধানসভাতে ঢুকতে না পারা। রাজ্যপাল জানান এই ঘটনাতে তিনি খুব দুঃখিত হয়েছেন। ‘দিদিকে বলো’-তে ফোন করে এই ঘটনাটি জানানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে বিধানসভার তিন নম্বর গেটে এসে থামে রাজ্যপালের কনভয়। কোনও প্রটোকল নয়, কনভেনশন অর্থাত্‍ প্রথা অনুযায়ী তিন নম্বর প্রবেশদ্বার রাজ্যপালের জন্যই নির্দিষ্ট থাকে।‌ এর আগে সংবিধান দিবসের দিন তিন নম্বর গেট দিয়েই বিধানসভা প্রবেশ করেছিলেন তিনি। এদিন তিন নম্বর প্রবেশ দ্বার বন্ধ ছিল। অগত্যা সাধারণ দরজা দিয়েই পায়ে হেঁটে ভিতরে ঢুকতে হয় তাঁকে। ভবনে এদিন কেউ কোথাও ছিল না।

এই গোটা ঘটনায় ক্ষুদ্ধ রাজ্যপাল বিধানসভার বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘অধিবেশন স্থগিত মানে বিধানসভা বন্ধ নয়। স্পিকার বলেছিলেন আমাকে স্বাগত জানাবেন। সেটা জানতে পেরেই আমি সম্মতি জানিয়েছিলাম চিঠি দিয়ে। কিন্তু কী এমন ঘটল যে স্পিকার অনুপস্থিত থাকলেন? এই গোটা ঘটনাটিতে খুবই অপমানিত বোধ করছি। গণতন্ত্র কখনও এভাবে চলতে পারে না। আজকের ঘটনার লজ্জা আমার নয়, লজ্জা গোটা দেশের, এ লজ্জা গণতন্ত্রের। ‘ এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে রাজ্যপাল বলেন, ‘আমি কি এবার ‘দিদি কে বলো’-তে ফোন করে অভিযোগ জানাব ?’

রাজ্যপাল বলেন, ‘ গতকাল রাজভবনের তরফে আমার আশার কথা জানিয়ে বিধানসভা সচিবালয় চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এখানকার পাঠাগার খুবই সমৃদ্ধ। সেসব দেখার ইচ্ছা ছিল। অধ্যক্ষের সম্মতি নিয়ে বিধানসভার সচিব আমার স্পেশাল সেক্রেটারিকে ফোন করে জানান যে আজ অধ্যক্ষ আমার সাথে মধ্যাহ্নভোজে সারবেন। পাশাপাশি আমার স্ত্রীকেও তিনি বিধানসভা আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।’ রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘কিন্তু দেড় ঘণ্টা পরেই ঠিক পরিস্থিতির মানচিত্র বদলে যায়। বিধানসভার তরফের সচিব রাজ্যপালের স্পেশাল সেক্রেটারিকে ফোন করে জানিয়ে দেন রাজ্য বিধানসভা চলছে না ফলে অধ্যক্ষ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের প্রশ্ন, অধ্যক্ষের প্রথম উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত হয়েছিলাম। সেটাই গণতন্ত্রের পক্ষে কাম্য। কিন্তু হঠাত্‍ করে কেন ফের চিত্র পাল্টে গেল তা বুঝলাম না। ‘


এদিন বৃহস্পতিবার গেটের সামনে প্রায় ১৮ মিনিট অপেক্ষা করার পর রাজ্যপাল ডানদিকের অন্য গেটের দিকে হাঁটা লাগান। মূলত ওই গেট বিধানসভার কর্মী, বিধায়করা ভিতরে ঢোকেন। দেখা যায়, নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপাল হেঁটে ঢুকে যাচ্ছেন ভিতরে। তখন অবশ্য তাঁকে বাধা দেওয়া হয়নি। ভিতরে ঢুকে আগে বিধানসভার লাইব্রেরির দিকে এগিয়ে যান রাজ্যপাল। তবে সাংবাদিকদের তখন আর বিধানসভায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আর সেই কারণেই তাঁর হৃদয় আজ ব্যথিত।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: